18 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeবিজ্ঞানমিল্কি ওয়ে গ্যালাক্সির কাছাকাছি বিশাল অদৃশ্য ভর সনাক্ত

মিল্কি ওয়ে গ্যালাক্সির কাছাকাছি বিশাল অদৃশ্য ভর সনাক্ত

বৈজ্ঞানিক গবেষকরা জানিয়েছেন যে সূর্যের পার্শ্ববর্তী গ্যালাক্সি অঞ্চলে প্রায় ১০ মিলিয়ন সূর্য ভরের একটি বিশাল অদৃশ্য ভর সঞ্চিত থাকতে পারে। এই গুচ্ছের দূরত্ব প্রায় এক কিলোপারসেক, অর্থাৎ ৩,২৬০ আলোকবর্ষ, এবং ফলাফলটি জানুয়ারি ২৯ তারিখে Physical Review Letters-এ প্রকাশিত হয়েছে।

ডার্ক ম্যাটার এমন একটি পদার্থ যা সরাসরি দেখা যায় না, তবে তার মহাবিশ্বের গঠন ও গতিবিধিতে প্রভাবের মাধ্যমে তার অস্তিত্ব অনুমান করা হয়। মিল্কি ওয়ে গ্যালাক্সি একটি বিশাল ডার্ক ম্যাটার হ্যালোর মধ্যে মোড়ানো, এবং তাতে অসংখ্য ক্ষুদ্র গুচ্ছ, যাকে ‘সাবহ্যালো’ বলা হয়, বিদ্যমান বলে ধারণা করা হয়। এই নতুন প্রমাণটি গ্যালাক্সির এই সাবহ্যালোগুলোর একটি নির্দিষ্ট উদাহরণ হতে পারে।

গবেষকরা পল্সার নামক মৃত তারার অবশিষ্ট রেডিও তরঙ্গের নিয়মিত পালস পর্যবেক্ষণ করে এই গুচ্ছের উপস্থিতি অনুমান করেছেন। মোট ৫৩টি পল্সার থেকে ডেটা সংগ্রহের পর, দু’টি পার্শ্ববর্তী পল্সারের পালসের ফ্রিকোয়েন্সিতে সূক্ষ্ম পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়, যা একটি বিশাল ভরের গুরুত্বীয় টান নির্দেশ করে।

প্রাথমিক জোড়া পল্সারের পাশাপাশি, একই অঞ্চলে অবস্থিত অতিরিক্ত ১৭টি পল্সারকে বিশ্লেষণে যুক্ত করা হয়। এই বিস্তৃত ডেটা সেটে কোনো নক্ষত্র বা গ্যাস মেঘের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি, যা সাধারণ গুরুত্বীয় ব্যাখ্যা বাদ দেয় এবং ডার্ক ম্যাটারকে সবচেয়ে সম্ভাব্য কারণ হিসেবে তুলে ধরে।

ডার্ক ম্যাটার তত্ত্বের বিভিন্ন মডেল সাবহ্যালোর বণ্টনকে ভিন্নভাবে পূর্বাভাস দেয়। তাই গ্যালাক্সির সব সাবহ্যালো সনাক্ত করা হলে ডার্ক ম্যাটারের প্রকৃত স্বভাব নির্ধারণে বড় সহায়তা পাওয়া যাবে। এই দৃষ্টিকোণ থেকে, আলাবামা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাস্ট্রোফিজিক্স গবেষক সুকন্যা চক্রবর্তী উল্লেখ করেছেন যে, সম্পূর্ণ গ্যালাক্সির সাবহ্যালো মানচিত্র তৈরি করা শেষ লক্ষ্য এবং এটাই গবেষণার মূল উদ্দেশ্য।

এই আবিষ্কারটি ডার্ক ম্যাটার গবেষণার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হলেও, এটি কোনো তাত্ক্ষণিক ঝুঁকি বা ভয় সৃষ্টি করে না। গ্যালাক্সির গঠন ও বিকাশে ডার্ক ম্যাটার যে ভূমিকা রাখে তা দীর্ঘদিনের বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধানের বিষয়, এবং এই নতুন তথ্য কেবল সেই অনুসন্ধানকে সমৃদ্ধ করে।

ভবিষ্যতে আরও সুনির্দিষ্ট পল্সার পর্যবেক্ষণ এবং অন্যান্য মহাজাগতিক ডেটা সংযোজনের মাধ্যমে এই গুচ্ছের ভর ও অবস্থান আরও নির্ভুলভাবে নির্ধারণের পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে, বৃহত্তর স্কেলে গ্যালাক্সির ডার্ক ম্যাটার সাবহ্যালোর বিতরণ মানচিত্রায়নের জন্য নতুন টেলিস্কোপ ও স্যাটেলাইট মিশনের প্রস্তুতি চলছে।

পূর্বে ডার্ক ম্যাটার আবিষ্কারের সঙ্গে সম্পর্কিত প্রতিবেদনে এই বিষয়ের গুরুত্ব উল্লেখ করা হয়েছে, এবং সাম্প্রতিক গবেষণায় গ্যালাক্সির আলোয় ডার্ক ম্যাটার গুচ্ছের সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এই ধারাবাহিক গবেষণা আমাদের মহাবিশ্বের অদৃশ্য অংশকে ধীরে ধীরে উন্মোচন করার পথে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হয়।

পাঠকগণকে আহ্বান করা হচ্ছে যে, ডার্ক ম্যাটার সংক্রান্ত নতুন তথ্য ও গবেষণা ফলাফল সম্পর্কে আগ্রহ বজায় রাখুন এবং ভবিষ্যতের বৈজ্ঞানিক অগ্রগতির জন্য সমর্থন দিন।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: Science News
খবরিয়া প্রতিবেদক
খবরিয়া প্রতিবেদক
AI Powered by NewsForge (https://newsforge.news)
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments