ঢাকায় সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে রাস্তায় এক অপ্রচলিত যন্ত্রের উপস্থিতি নজরে এসেছে। নগরীর বিভিন্ন মোড়ে স্থাপিত আর্কেড‑স্টাইলের পাঞ্চিং মেশিনগুলো, ব্যবহারকারীকে একবারের জন্য টাকায় ২০ টাকা দিয়ে মুষ্টি মারতে এবং স্কোর পেতে সুযোগ দেয়। এই যন্ত্রগুলো প্রথমবারের মতো জনসাধারণের বিনোদন হিসেবে শহরের রাস্তায় দেখা যাচ্ছে, যেখানে মানুষ রাতের পরও ছোট ছোট দল গঠন করে অপেক্ষা করে।
মেশিনের কাজের পদ্ধতি সরল: ব্যবহারকারী মুষ্টি দিয়ে ব্যাগে আঘাত করে, স্ক্রিনে ২০০ থেকে ১২০০ পর্যন্ত নম্বর প্রদর্শিত হয়। স্কোরের ভিত্তিতে যন্ত্রটি ব্যবহারকারীর শক্তি ও আত্মবিশ্বাসের মাত্রা মূল্যায়ন করে, এবং ভুল আঘাতের ক্ষেত্রে নিম্ন স্কোর দেখিয়ে আত্মসমালোচনার সুযোগ দেয়। এই ধরণের তাত্ক্ষণিক প্রতিক্রিয়া, দর্শকদের মধ্যে হাসি, তালি বা কখনো কখনো তিক্ত মন্তব্যের সৃষ্টি করে, যা পরিবেশকে একধরনের সামাজিক মঞ্চে রূপান্তরিত করে।
প্রতিটি আঘাতের জন্য ২০ টাকা নেওয়া হয়, ফলে একাধিকবার চেষ্টা করা স্বাভাবিক হয়ে দাঁড়ায়। প্রথম আঘাতে সন্তোষজনক স্কোর না পাওয়া হলে, ব্যবহারকারী পুনরায় টাকা দিয়ে নিজের গর্ব পুনরুদ্ধার করার চেষ্টা করে। এই চক্রটি দ্রুতই আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে; প্রথম আঘাতের পরেই অধিকাংশ মানুষ দ্বিতীয়, তৃতীয় এবং কখনো কখনো চতুর্থ আঘাতের জন্য অতিরিক্ত টাকা প্রদান করে। ফলে, মেশিনের মালিকদের জন্য এটি লাভজনক ব্যবসা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে, যেখানে ব্যবহারকারীকে শারীরিক শক্তি হারাতে নয়, বরং অর্থের মাধ্যমে নিজের আত্মমর্যাদা পুনর্গঠন করতে হয়।
এই যন্ত্রগুলোর ক্রয়মূল্য প্রায় এক লক্ষ চল্লিশ হাজার টাকা, যা সামাজিক মিডিয়ায় প্রায়ই বিজ্ঞাপন হিসেবে দেখা যায়। এ ধরনের উচ্চ মূল্যের যন্ত্রকে নগরীর কোনো ছোট ব্যবসা বা উদ্যোক্তা সহজে ক্রয় করতে পারে, ফলে তারা রাস্তায় বা শপিং মলে সহজে বিনোদনমূলক সেবা প্রদান করতে পারে। বিনিয়োগের এই মডেলটি ঢাকার দ্রুত বর্ধমান বিনোদন শিল্পের একটি নতুন দিক উন্মোচন করেছে, যেখানে কম খরচে উচ্চ মুনাফা অর্জনের সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রধানত মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে, সংসদ ভবনের পাশে চারটি পাঞ্চিং মেশিন স্থাপিত হয়েছে। এই স্থানটি সরকারি ও বেসরকারি কর্মচারীদের জন্য কাজের পর বিশ্রাম নেওয়ার একটি জনপ্রিয় জায়গা, যেখানে নতুন এই যন্ত্রগুলো দ্রুতই মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। একই সঙ্গে ধানমন্ডিতে আরেকটি স্থানে এই ধরনের মেশিনের উপস্থিতি রিপোর্ট করা হয়েছে, যা শহরের বিভিন্ন অংশে এই প্রবণতার বিস্তার নির্দেশ করে।
ঢাকার বাসিন্দারা দীর্ঘ সময়ের চাপ ও হতাশা থেকে মুক্তি পাওয়ার উপায় হিসেবে এই পাঞ্চিং মেশিনকে গ্রহণ করেছে। কাজের চাপ, ট্রাফিক জ্যাম এবং দৈনন্দিন জীবনের টানাপোড়েনের মধ্যে, হালকা শারীরিক ব্যায়াম এবং তাত্ক্ষণিক স্কোরের মাধ্যমে আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর এই পদ্ধতি দ্রুতই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। যদিও কোনো রেফারি বা নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেই, তবু ব্যবহারকারীরা স্বেচ্ছায় অংশগ্রহণ করে, যা শহরের সামাজিক সংস্কৃতিতে নতুন একটি রীতি গড়ে তুলছে।
সারসংক্ষেপে, ঢাকায় পাঞ্চিং মেশিনের উত্থান শহরের বিনোদন ও ব্যবসার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। স্বল্প মূল্যে দ্রুত স্কোর পাওয়া, সামাজিক মিথস্ক্রিয়া এবং পুনরায় প্রচুর টাকা খরচের মাধ্যমে আত্মসম্মান পুনর্গঠন করার এই মডেলটি শহরের তরুণ ও মধ্যবয়সী জনগোষ্ঠীর মধ্যে ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে। ভবিষ্যতে এই ধরনের যন্ত্রের সংখ্যা বাড়তে পারে, এবং শহরের বিনোদন শিল্পে নতুন প্রবণতা হিসেবে 자리 দখল করতে পারে।



