সান হোসে ফেডারেল কোর্টে গুগলকে অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীদের একত্রিত করা ক্লাস অ্যাকশন মামলায় প্রাথমিকভাবে $135 মিলিয়ন সমঝোতা করতে সম্মত হয়েছে। মামলাটি দাবি করে যে ১২ নভেম্বর ২০১৭ থেকে গুগল ব্যবহারকারীর ফোনের সেলুলার ডেটা অনুমতি ছাড়াই সংগ্রহ করে আসছে, এমনকি অ্যাপ বন্ধ থাকলেও বা লোকেশন ফিচার নিষ্ক্রিয় থাকলেও।
মামলাকারীরা যুক্তি দেন গুগল এই ডেটা মার্কেটিং ও পণ্য উন্নয়নের জন্য ব্যবহার করেছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের কনভার্সন আইন অনুযায়ী অন্যের সম্পত্তি অনধিকারভাবে গ্রহণের সমতুল্য। কনভার্সন বলতে বোঝায় যখন কেউ অন্যের সম্পত্তি নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে তার থেকে বঞ্চিত করার ইচ্ছা প্রকাশ করে।
সান হোসের ফেডারেল কোর্টে দাখিল করা সমঝোতা চুক্তি এখন বিচারকের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। গুগল এই মামলায় কোনো ভুল স্বীকার করেনি, তবে ভবিষ্যতে নতুন ফোন সেটআপের সময় ব্যবহারকারীর স্পষ্ট সম্মতি নেওয়ার ব্যবস্থা করবে। এছাড়া ডেটা ট্রান্সফার সহজে বন্ধ করার জন্য একটি টগল যোগ করা হবে এবং সেবার শর্তাবলীও সংশোধন করা হবে।
গুগলকে এই পরিমাণে সমঝোতা করতে বাধ্য করা সম্ভবত একই ধরনের মামলায় সর্বোচ্চ পরিমাণ, যা আইনি বিশ্লেষক গ্লেন সামার্সের মতে পূর্বের রেকর্ড ভাঙতে পারে। সমঝোতা অনুযায়ী, মামলায় অন্তর্ভুক্ত প্রতিটি ব্যবহারকারী গুগল থেকে সর্বোচ্চ $100 পেতে পারে।
এই মামলার বিচার প্রক্রিয়া ৫ আগস্ট নির্ধারিত হয়েছে। যদি বিচারক চূড়ান্ত সমঝোতা অনুমোদন করেন, তবে গুগলকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অর্থ প্রদান করতে হবে এবং নতুন গোপনীয়তা নীতি কার্যকর করতে হবে।
গুগল এই সপ্তাহে আরেকটি বড় সমঝোতা করেছে। ২৬ জানুয়ারি গুগল সহকারীকে নিয়ে একটি ক্লাস অ্যাকশন মামলায় $68 মিলিয়ন সমঝোতা করা হয়েছিল, যেখানে অভিযোগ ছিল গুগল সহকারী ভুলভাবে শোনার ফলে ব্যবহারকারীর কথায় সক্রিয় হয়ে গোপনীয়তা লঙ্ঘন করেছিল। গুগল আবারও কোনো ভুল স্বীকার করেনি।
দুইটি সমঝোতা একসঙ্গে গুগলের ডেটা গোপনীয়তা সংক্রান্ত আইনি ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলেছে। বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন, ব্যবহারকারীর ডেটা সংগ্রহের পদ্ধতি এবং স্বচ্ছতা এখন প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ নিয়ন্ত্রক বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
গুগল এখন থেকে নতুন ফোন চালু করার সময় ব্যবহারকারীর কাছ থেকে স্পষ্ট সম্মতি চাওয়া হবে, যা পূর্বে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ডেটা সংগ্রহের পদ্ধতি বদলাবে। এই পরিবর্তনটি ব্যবহারকারীর গোপনীয়তা রক্ষার দিকে একটি ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
অতিরিক্তভাবে, গুগল ডেটা ট্রান্সফার বন্ধ করার জন্য একটি সহজ টগল যোগ করবে, যাতে ব্যবহারকারী এক ক্লিকেই ডেটা শেয়ারিং নিষ্ক্রিয় করতে পারে। এই ফিচারটি অ্যান্ড্রয়েড সেটিংসের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হবে এবং ব্যবহারকারীকে আরও নিয়ন্ত্রণ দেবে।
গুগলের শর্তাবলীর আপডেটের মাধ্যমে ডেটা সংগ্রহের উদ্দেশ্য ও পরিধি সম্পর্কে স্পষ্টতা আনা হবে। ব্যবহারকারী এখন থেকে জানবে কোন ডেটা কীভাবে ব্যবহার হবে এবং কোন ক্ষেত্রে তা শেয়ার করা হবে।
আইনি বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, গুগলের এই পদক্ষেপগুলো ভবিষ্যতে অনুরূপ মামলায় সমঝোতার পরিমাণ কমাতে সহায়ক হতে পারে। তবে ডেটা গোপনীয়তা সংক্রান্ত নিয়মাবলি ক্রমাগত পরিবর্তনশীল, তাই কোম্পানিগুলোর জন্য নিয়ম মেনে চলা এবং ব্যবহারকারীর আস্থা বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
গুগল এবং অ্যালফাবেটের (গুগল) এই দুইটি বড় সমঝোতা প্রযুক্তি শিল্পে ডেটা গোপনীয়তা নিয়ে আলোচনার তীব্রতা বাড়িয়ে দিয়েছে। ব্যবহারকারী, আইনপ্রণেতা এবং শিল্প বিশেষজ্ঞদের জন্য এটি একটি সতর্কতা, যা ভবিষ্যতে ডেটা ব্যবহারের নীতি ও প্রক্রিয়াকে আরও কঠোর করে তুলতে পারে।



