বাংলাদেশ সরকার ২৫ জানুয়ারি প্রকাশিত গেজেটের মাধ্যমে সড়ক দুর্ঘটনা শিকারদের ক্ষতিপূরণ আবেদন জমা দেওয়ার সময়সীমা ৩০ দিন থেকে ৯০ দিন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেয়। এই পরিবর্তনটি সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে, সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ এর ধারা ১৫০-এ সংশোধনী আনা হয়েছে।
গেজেটের প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে সরকার-গঠিত ট্রাস্টি বোর্ডে আবেদন করার নিয়মাবলী আপডেট করা হয়েছে, যাতে শিকারের পরিবারগুলোকে অতিরিক্ত সময় প্রদান করা যায়। পূর্বে শিকার বা তার পরিবারকে দুর্ঘটনার ৩০ দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় ন্যূনতম অর্ধ ডজন নথি সহ আবেদন জমা দিতে হতো।
দীর্ঘমেয়াদে এই প্রক্রিয়ার জটিলতা ও সময়সীমার সংকীর্ণতা নিয়ে শিকার পরিবারের সদস্য ও সড়ক নিরাপত্তা কর্মীরা সরকারকে সময় বাড়ানোর দাবি করে আসছে। তারা উল্লেখ করেছে যে সীমিত সময়ের কারণে অনেক পরিবার আবেদন প্রক্রিয়া শেষ করতে পারেনি।
প্রকৃতপক্ষে, গত বছর জুলাই পর্যন্ত মাত্র পাঁচ শতাংশ শিকারই ক্ষতিপূরণ পেয়েছে, যা মূলত প্রক্রিয়ার দীর্ঘায়ু ও সচেতনতাহীনতার ফল। এই কম শতাংশের পেছনে আবেদন ফরম পূরণে প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহের কঠিনতা এবং সময়সীমা মেনে চলার চ্যালেঞ্জ রয়েছে।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি ২০২৩ থেকে জুলাই পর্যন্ত মোট ৩১,৯০৪ জন সড়ক দুর্ঘটনা শিকার হয়েছে, যার মধ্যে মাত্র ১,৪৭১ জন বা তাদের পরিবার ক্ষতিপূরণ পেয়েছে। এই শিকারদের মোট প্রাপ্ত অর্থ ৬৫.৫৭ কোটি টাকা, যা প্রমাণ করে যে অধিকাংশ শিকার এখনও ক্ষতিপূরণ থেকে বঞ্চিত।
বছরের শেষের দিকে ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে একটি বৈঠকে সময়সীমা বাড়ানোর প্রস্তাব উঠে আসে। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের একটি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে বোর্ডটি ৬০ দিনের সময়সীমা প্রস্তাব করেছিল, তবে সরকার শেষ পর্যন্ত ৯০ দিন অনুমোদন করে গেজেট প্রকাশ করে।
একজন সরকারি কর্মকর্তা, যিনি নাম প্রকাশ না করে কথা বলেছেন, বলেন, “এই পরিবর্তন শিকার পরিবারের জন্য বড় সহায়তা হবে এবং অধিকাংশ মানুষকে আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার সুযোগ দেবে।” তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, নতুন সময়সীমা শিকারের পরিবারকে নথি সংগ্রহ ও আবেদন সম্পন্ন করতে পর্যাপ্ত সময় দেবে।
সড়ক দুর্ঘটনা শিকারের ক্ষতিপূরণে নির্ধারিত রাশি অনুযায়ী, মৃত শিকারের পরিবারকে পাঁচ লক্ষ টাকা প্রদান করা হবে। অঙ্গহানি বা গুরুতর শারীরিক আঘাতের শিকারকে তিন লক্ষ টাকা, আর হালকা আঘাতের শিকারের জন্য এক লক্ষ টাকা নির্ধারিত আছে।
এই নীতি পরিবর্তনটি শিকারের পরিবার ও সড়ক নিরাপত্তা সমিতির কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পেয়েছে এবং ভবিষ্যতে ক্ষতিপূরণ প্রাপ্তির হার বাড়ার প্রত্যাশা করা হচ্ছে। সরকার এই পদক্ষেপকে সড়ক নিরাপত্তা নীতির অংশ হিসেবে দেখছে এবং পরবর্তী পর্যায়ে আবেদন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও সচেতনতায় জোর দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।



