পোল্যান্ডের তরুণ পরিচালক লুকাশ রোন্ডুদা ‘টেল মি হোয়াট ইউ ফিল’ শিরোনামের নতুন চলচ্চিত্রকে আন্তর্জাতিক ফিল্ম ফেস্টিভাল রটারড্যাম (IFFR) এর ৫৫তম সংস্করণের বিগ স্ক্রিন প্রতিযোগিতায় ৩১ জানুয়ারি শনিবার বিশ্বপ্রদর্শনীতে উপস্থাপন করা হবে। চলচ্চিত্রটি রোন্ডুদা এবং আগাতা কে. কোশমিডার একসাথে রচনা করেছেন এবং আধুনিক প্রেমের জটিলতা, সামাজিক পার্থক্য ও অতিরিক্ত থেরাপি সংস্কৃতির প্রভাবকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে।
চলচ্চিত্রের প্রধান চরিত্রে ইজাবেলা দুদজাক মারিয়া এবং জান স্যালাসিন্স্কি পাত্রিকের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন। পাত্রিক একজন সংগ্রামী চিত্রশিল্পী, যিনি নিজের কাজ বিক্রি করতে সমস্যার সম্মুখীন, আর মারিয়া সমৃদ্ধ পরিবার থেকে আসা এক তরুণী, যিনি ‘টিয়ার ডিলার’ নামে একটি শিল্পপ্রকল্প চালু করেছেন যেখানে দরিদ্র মানুষ তাদের অশ্রু ভাস্কর্য হিসেবে বিক্রি করতে পারে।
‘টিয়ার ডিলার’ প্রকল্পটি বাস্তব জীবনের পোলিশ শিল্পী পাত্রিক রোজিকি এবং একজন নারী শিল্পীর অভিজ্ঞতার উপর ভিত্তি করে তৈরি, তবে রোন্ডুদা বাস্তব ঘটনার সঙ্গে নিজের সৃজনশীল উপাদান মিশিয়ে একটি কাল্পনিক বর্ণনা গঠন করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে চলচ্চিত্রটি বাস্তব অনুপ্রেরণার ওপর ভিত্তি করে একটি সৃজনশীল কল্পনা, যা দর্শকের কাছে নতুন পুরুষত্বের ধারণা ও আধুনিক প্রেমের চ্যালেঞ্জগুলোকে তুলে ধরে।
ফিল্মের মূল থিমগুলোতে পুঁজিবাদ, সামাজিক স্তরবিন্যাস এবং অতিরিক্ত থেরাপি সংস্কৃতি অন্তর্ভুক্ত। রোন্ডুদা দেখান কীভাবে তরুণ প্রজন্মের আবেগের ওপর অতিরিক্ত জোর সামাজিক ও আর্থিক সীমা অতিক্রমের মায়া তৈরি করে, যদিও বাস্তবে সেই সীমা এখনও বিদ্যমান। চলচ্চিত্রটি প্রেমের সম্পর্ক গঠনে এইসব উপাদান কীভাবে প্রভাব ফেলে তা বিশ্লেষণ করে, তবে কোনো নির্দিষ্ট মতামত বা ব্যাখ্যা না দিয়ে কেবল ঘটনাগুলোকে উপস্থাপন করে।
‘টেল মি হোয়াট ইউ ফিল’ নাতালিয়া গ্রেজগোরজেকের তত্ত্বাবধানে কসকিনো প্রোডাকশন হাউসের মাধ্যমে নির্মিত, এবং ডকুমেন্টারি ও ফিচার ফিল্ম স্টুডিও (WFDiF), সিলেসিয়া ফিল্ম, EC1-লজ এবং ফিক্সাফিল্মের যৌথ সহযোগিতায় তৈরি। পোলিশ ফিল্ম ইনস্টিটিউটের আর্থিক সহায়তাও এই প্রকল্পকে সমর্থন করেছে।
ফেস্টিভালের বিগ স্ক্রিন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে রোন্ডুদা আন্তর্জাতিক মঞ্চে তার কাজের স্বীকৃতি পেতে চাচ্ছেন। চলচ্চিত্রের প্রিমিয়ার রটারড্যাম শহরের প্রধান থিয়েটারে অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে চলচ্চিত্রপ্রেমী ও শিল্প সমালোচকরা উপস্থিত থাকবে। এই অনুষ্ঠানে চলচ্চিত্রের সঙ্গীত, দৃশ্যশৈলী ও অভিনয়ের গুণগত মানের প্রশংসা করা হয়েছে।
চলচ্চিত্রের গল্পে পাত্রিকের আর্থিক সংগ্রাম এবং মারিয়ার সামাজিক সুবিধা একসাথে তুলে ধরা হয়েছে, যা আধুনিক প্রেমের সম্পর্কের জটিলতা ও সমতা অনুসন্ধানের প্রতীক। দুজন চরিত্রের পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়া এবং তাদের শিল্পপ্রকল্পের মাধ্যমে সমাজের গোপন দিকগুলো প্রকাশ পায়।
রোন্ডুদা ভবিষ্যতে আরও এমন প্রকল্পে কাজ করার পরিকল্পনা প্রকাশ করেছেন, যেখানে বাস্তব জীবনের গল্পকে সৃজনশীলভাবে পুনর্গঠন করা হবে। তিনি উল্লেখ করেন যে আধুনিক সমাজে আবেগের প্রকাশ ও থেরাপি সংস্কৃতি কীভাবে সম্পর্কের গঠনকে প্রভাবিত করে, তা নিয়ে আরও গবেষণা চালিয়ে যেতে চান।
যদি আপনি আধুনিক প্রেমের দিকগুলো, সামাজিক পার্থক্য এবং শিল্পের মাধ্যমে সামাজিক সমস্যার সমাধান নিয়ে আগ্রহী হন, তবে রোন্ডুদার ‘টেল মি হোয়াট ইউ ফিল’ চলচ্চিত্রটি দেখার জন্য রটারড্যাম ফেস্টিভালের সময়সূচি অনুসরণ করতে পারেন। এই কাজটি শুধু একটি সিনেমা নয়, বরং তরুণ প্রজন্মের মানসিকতা ও সামাজিক কাঠামোর উপর একটি সূক্ষ্ম দৃষ্টিপাত।
চলচ্চিত্রটি আন্তর্জাতিক মঞ্চে প্রশংসা পেতে থাকলে পোল্যান্ডের তরুণ চলচ্চিত্র নির্মাতাদের জন্য নতুন দিগন্ত উন্মুক্ত হবে এবং ভবিষ্যতে আরও সমৃদ্ধ কন্টেন্টের সম্ভাবনা তৈরি হবে।



