22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeখেলাধুলাবাংলাদেশের নারী ফুতসাল দল শিরোপা নিয়ে দেশে ফিরে ছাদখোলা বাসে স্বাগত

বাংলাদেশের নারী ফুতসাল দল শিরোপা নিয়ে দেশে ফিরে ছাদখোলা বাসে স্বাগত

বাংলাদেশের নারী ফুতসাল দল ২৯ জানুয়ারি শিরোপা হাতে নিয়ে দেশের মাটিতে পা রাখে। এ বছর প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত সাফ ফুতসাল চ্যাম্পিয়নশিপে দলটি অপ্রতিদ্বন্দ্বীভাবে শিরোপা জিতে দেশের গর্ব বাড়িয়ে দিয়েছে। শোয়া ছয়টায় আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে দলটি ছাদখোলা বাসে হাটিরঝিলের দিকে রওনা হয়।

বিমানবন্দর থেকে বেরিয়ে দলটি উন্মুক্ত ছাদবিশিষ্ট বাসে চড়ে শহরের কেন্দ্রীয় হাটিরঝিলে পৌঁছায়। সেখানে উপস্থিত ভক্ত ও কর্মীরা উল্লাসের সঙ্গে দলকে স্বাগত জানায়। রাতের বেলা একই স্থানে গ্র্যান্ড রিসিপশন আয়োজন করা হয়, যেখানে শিরোপা প্রদর্শন করে গর্বের মুহূর্ত ভাগ করা হয়।

সমারোহে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি তাবিথ আউয়াল, ক্রীড়া উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল এবং ক্রীড়া সচিব উপস্থিত ছিলেন। তারা দলের সাফল্যকে প্রশংসা করে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করেন। অনুষ্ঠানের শেষে দলকে স্নেহের সঙ্গে আলিঙ্গন ও শুভেচ্ছা জানানো হয়।

প্রোগ্রাম শেষ হওয়ার পর দলকে জলসিরিতে নৈশভোজের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। ভোজন শেষে দলটি গুলশানের একটি হোটেলে বিশ্রাম নিতে থাকে। এই ব্যবস্থা দলের স্বাস্থ্যের যত্ন এবং শীর্ষ পর্যায়ের সাফল্য উদযাপনের অংশ হিসেবে গৃহীত হয়েছে।

টুর্নামেন্টটি দক্ষিণ এশিয়ার সাতটি দেশের অংশগ্রহণে লিগ ফরম্যাটে অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ দল মোট ছয়টি ম্যাচে ষোল পয়েন্ট সংগ্রহ করে শীর্ষে উঠে চ্যাম্পিয়ন হয়। ভুটান দল পাঁচটি ম্যাচে এগারো পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে।

দলটির জয়লাভের পেছনে ধারাবাহিক জয় এবং শক্তিশালী রক্ষণশক্তি রয়েছে। প্রতিটি ম্যাচে দলটি আক্রমণাত্মক খেলা বজায় রেখে প্রতিপক্ষকে নিয়ন্ত্রণে রাখে। এই ধারাবাহিকতা শীর্ষে পৌঁছাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

সাবিনা খাতুনের অধিনেতৃত্বে গড়ে ওঠা এই দলটি এখন দেশের ক্রীড়া ইতিহাসে নতুন মাইলফলক স্থাপন করেছে। শিরোপা নিয়ে দেশে ফিরে তারা তরুণ ক্রীড়াবিদদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক মঞ্চে আরও সাফল্য অর্জনের প্রত্যাশা বাড়ছে।

ঢাকা শহরের রাস্তায় শিরোপা নিয়ে ফিরে আসা দলকে দেখে ভক্তদের মুখে আনন্দের হাসি ছড়িয়ে পড়ে। সামাজিক মাধ্যমেও দলকে সমর্থন জানিয়ে অসংখ্য পোস্ট ও বার্তা শেয়ার করা হয়। তরুণ কিশোর-কিশোরী খেলোয়াড়রা দলকে মডেল হিসেবে দেখে ভবিষ্যতে নিজেও আন্তর্জাতিক মঞ্চে নামার স্বপ্ন দেখে। এই উচ্ছ্বাস দেশের ক্রীড়া পরিবেশে নতুন উদ্যম যোগায়।

বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন এই সাফল্যকে দেশের ক্রীড়া নীতির সফলতা হিসেবে তুলে ধরেছে। ফেডারেশন কর্মকর্তারা ভবিষ্যতে নারী ফুতসাল ও অন্যান্য ইনডোর ক্রীড়ার জন্য অবকাঠামো ও প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা শক্তিশালী করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। সরকারী স্পনসরশিপ এবং বেসরকারি সংস্থার সমর্থনও এই সাফল্যের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। এ ধরনের সমন্বিত প্রচেষ্টা ভবিষ্যতে আরও আন্তর্জাতিক শিরোপা অর্জনে সহায়ক হবে।

নারী ফুতসাল দলকে দেশের প্রথম চ্যাম্পিয়ন হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া নারী ক্রীড়ার উন্নয়নে মাইলফলক। এই জয় তরুণী খেলোয়াড়দের জন্য দৃশ্যমান রোল মডেল তৈরি করে, যা অংশগ্রহণের হার বাড়াতে সহায়তা করবে। স্কুল ও কলেজ পর্যায়ে ফুতসাল ক্লাবের সংখ্যা বাড়াতে এখন নীতি নির্ধারকরা উদ্যোগ নিচ্ছেন। এভাবে ভিত্তি শক্তিশালী হলে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় ধারাবাহিক সাফল্য অর্জন সম্ভব হবে।

শিরোপা হাতে নিয়ে দেশে ফিরে দলটি গর্বের সঙ্গে দেশের ক্রীড়া ইতিহাসে নতুন অধ্যায় যোগ করেছে। তাদের সাফল্য কেবল একটি ট্রফি নয়, বরং দেশের ক্রীড়া সংস্কৃতিতে নারীর অবস্থানকে উঁচুতে তুলে ধরেছে। ভবিষ্যতে আরও বেশি নারী ক্রীড়াবিদ আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজেদের প্রমাণ করতে পারবে এই আশায় সবাই একত্রিত হয়েছে। এভাবেই বাংলাদেশ ক্রীড়া জগতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
ক্রীড়া প্রতিবেদক
ক্রীড়া প্রতিবেদক
AI-powered খেলাধুলা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments