মিনিয়াপলিসে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অফিসার (আইসিই) দ্বারা আইসিই নার্স অ্যালেক্স প্রেট্টি, যিনি ইসিইউতে কাজ করতেন, গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছেন। এই ঘটনা সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে এবং দেশের বিভিন্ন অংশে নিন্দার স্রোত তৈরি করেছে। লেট নাইট শো’র জিমি কিম্মেল ও স্টিফেন কোলবার্ট উভয়েই তাদের প্রোগ্রামে এই ঘটনার তীব্র সমালোচনা করেছেন।
প্রেট্টির মৃত্যু আইসিই-র মিনিয়াপলিসে দ্বিতীয় প্রাণঘাতী শুটিং হিসেবে রেকর্ড হয়েছে। প্রথমটি রেনি নিকোল গুডের মৃত্যু, যাকে ৭ জানুয়ারি আইসিই এজেন্ট গুলি করে মারেছিল। উভয় ঘটনার পর শহরের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
জিমি কিম্মেল তার শো’র উদ্বোধনী অংশে আইসিই কর্মীদের প্রশিক্ষণ ও নেতৃত্বের ঘাটতি উল্লেখ করে, তাদেরকে অপ্রশিক্ষিত ও অনৈতিক গ্যাং হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, এই ধরনের কাজের কোনো নিয়ম নেই এবং এজেন্টরা নিজেদের নিয়ম তৈরি করে কাজ করে। কিম্মেল এই ঘটনার ফলে দেশের আইন ও শৃঙ্খলা সম্পর্কে প্রশ্ন তুলেছেন।
স্টিফেন কোলবার্টও একই শো’তে ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি ও আইসিই-র কার্যক্রমের উপর কঠোর সমালোচনা করেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, ফেডারেল এজেন্টদের দ্বারা নাগরিকদের উপর গুলি চালানো একটি গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং এর জন্য দায়িত্বশীলদের জবাবদিহি করা উচিত। কোলবার্টের মন্তব্যে ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি-নির্ধারণের পদ্ধতি ও তার প্রভাবের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
কিম্মেল উল্লেখ করেন, প্রেট্টিকে গুলি করার আগে ট্রাম্প প্রশাসন তাকে অস্ত্রধারী আক্রমণকারী হিসেবে চিত্রিত করার চেষ্টা করেছে, যদিও ঘটনাস্থল থেকে প্রাপ্ত ভিডিও ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তথ্য এই দাবিকে খণ্ডন করেছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এমন দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া জনগণের বিশ্বাসকে ক্ষুণ্ন করে এবং শাসনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে বাধ্য করে।
কিম্মেল তার নিজের পরিবারকে মিনিয়াপলিসে উল্লেখ করে, সেখানে বসবাসকারী মানুষদের স্কুলে সন্তান পাঠাতে, কাজ করতে বা দৈনন্দিন জীবনে নিরাপদ বোধ করতে পারছে না বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বিশেষ করে বর্ণগত বৈষম্যের প্রভাবের ওপর আলোকপাত করে, প্রশ্ন তোলেন যে এই ধরনের নীতি কি ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থকদের জন্যই প্রযোজ্য। তিনি নেতৃত্বের দায়িত্ব ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে স্পষ্ট উত্তর না পাওয়াকে সমালোচনা করেন।
আইসিই শুটিংয়ের পর ফেডারেল ও স্থানীয় তদন্ত চলছে। আইসিই-র কর্মীদের কাজের বৈধতা, ব্যবহৃত শক্তি এবং প্রোটোকল অনুসরণ করা হয়েছে কিনা তা নির্ধারণের জন্য বিশেষ তদন্ত দল গঠন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আরও তথ্য পাওয়া গেলে মামলার আইনি দিকও স্পষ্ট হবে।
এই ঘটনার পর জনসাধারণের মধ্যে বিশাল প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। বিভিন্ন নাগরিক সংগঠন ও রাজনৈতিক দল আইসিই-র কাজের ন্যায়সঙ্গততা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে এবং ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি পরিবর্তনের দাবি জানাচ্ছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে আইসিই-র কার্যক্রমের ওপর কঠোর নজরদারি এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি বলে বিশেষজ্ঞরা মত প্রকাশ করেছেন।



