ঢাকার মিরপুর‑১০ এলাকায় ২৯ জানুয়ারি বিকেল ১১টায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী (বজিএ) তার নতুন মাল্টিমিডিয়া প্রচারযান উদ্বোধন করে, যার মাধ্যমে দলটি আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের জন্য ভোটারদের কাছে সরাসরি বার্তা পৌঁছে দিতে চায়। উদ্বোধন অনুষ্ঠানে দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান উপস্থিত ছিলেন এবং বাসের প্রথম যাত্রা ঘোষণা করেন।
উদ্বোধন অনুষ্ঠানে ডা. শফিকুর রহমান উল্লেখ করেন, “শান্তিপূর্ণ ও ইতিবাচক রাজনৈতিক পরিবেশ বজায় রেখে জনগণের কাছে দলের মূল লক্ষ্য ও নীতি পৌঁছে দেওয়া আমাদের প্রধান উদ্দেশ্য।” তিনি আরও বলেন, এই প্রচারণা কেবলমাত্র তথ্য সরবরাহের মাধ্যম নয়, বরং ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপনের একটি নতুন পথ।
বাসের উদ্বোধনের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন মতামত প্রকাশ পায়। কিছু ব্যবহারকারী বাসের নকশা ও রঙের বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, অন্যদিকে বেশিরভাগই দলটির নতুন প্রচার কৌশলকে স্বাগত জানায়। এই আলোচনার মধ্যে বাসের ব্যবহারিক দিক এবং নির্বাচনী বার্তার প্রভাব নিয়ে বিশ্লেষণও দেখা যায়।
বজিএর প্রচারযান টিমের সংগঠক আব্দুর রহমান মিডিয়ায় জানান, এই মাল্টিমিডিয়া বাসটি কেবলমাত্র নির্বাচনী প্রচারণার জন্যই ব্যবহার করা হবে, আমিরের ব্যক্তিগত ভ্রমণ বা চলাচলের জন্য নয়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “আমরা এই বাসকে সম্পূর্ণভাবে প্রচারমূলক কাজে নিয়োজিত করেছি, যাতে দলটির বার্তা সর্বোচ্চ সংখ্যক মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারে।”
আব্দুর রহমান আরও ব্যাখ্যা করেন, বাসের পরিকল্পনা নভেম্বর মাসে শুরু করা হয়েছিল এবং তা দলের নির্বাচনী ব্র্যান্ডিং রঙের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তিনি উল্লেখ করেন, “আমাদের ব্র্যান্ডিং রঙের কোনো কপি করা হয়নি; বরং এটি আমাদের নিজস্ব ডিজাইন, যা পূর্বের নির্বাচনী প্রচারণায়ও ব্যবহার করা হয়েছে।” এই রঙের ধারাবাহিকতা ভোটারদের মধ্যে দলের পরিচিতি শক্তিশালী করার উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে।
মাল্টিমিডিয়া বাসটি আধুনিক অডিও‑ভিজ্যুয়াল সরঞ্জাম, LED স্ক্রিন এবং সাউন্ড সিস্টেমে সজ্জিত, যা রোডে চলার সময় প্রচারমূলক ভিডিও, স্লোগান এবং দলের নীতি সংক্রান্ত তথ্য প্রদর্শন করতে সক্ষম। বাসের অভ্যন্তরে ডিজিটাল স্লাইড শো এবং ইন্টারেক্টিভ কন্টেন্টের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যাতে যাত্রী ও পথচারীরা সহজে তথ্য গ্রহণ করতে পারে।
এই উদ্যোগটি ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। দলটি ইতিমধ্যে বিভিন্ন এলাকায় ঘাঁটি গঠন, পোস্টার বিতরণ এবং ঐতিহ্যবাহী সমাবেশের মাধ্যমে ভোটার সংযোগের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। মাল্টিমিডিয়া বাসের যোগদান প্রচার কার্যক্রমকে গতিশীল ও দৃশ্যমান করে তুলবে বলে দলটি আশাবাদী।
অন্যান্য প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোও বিভিন্ন প্রচার পদ্ধতি গ্রহণ করেছে; তবে বাজেট, প্রযুক্তি এবং লক্ষ্যভিত্তিক কৌশল ভিন্ন হওয়ায় সরাসরি তুলনা করা কঠিন। বাজেটের সীমাবদ্ধতা, গ্রাম‑শহর পার্থক্য এবং ভোটার গোষ্ঠীর বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী প্রতিটি দল নিজস্ব পদ্ধতি বেছে নেয়।
বজিএর এই নতুন প্রচারযান ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপনের পাশাপাশি মিডিয়া কাভারেজ বৃদ্ধি করার লক্ষ্য রাখে। রোডে চলার সময় বাসের LED স্ক্রিনে প্রদর্শিত স্লোগান ও নীতি সংক্রান্ত তথ্য দ্রুত বিস্তৃত হবে, যা ভোটারদের মধ্যে দলের নীতি সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে পারে।
দলটি জানায়, মাল্টিমিডিয়া বাসের ব্যবহার কেবলমাত্র একক ইভেন্টের সীমা না রেখে, নির্বাচনী ক্যাম্পেইনের পুরো সময়কালে বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে আসবে। প্রতিটি রুটে স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে সমন্বয় করে বাসের থামার সময়সূচি নির্ধারণ করা হবে, যাতে সর্বোচ্চ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা যায়।
ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক প্রভাবের দিক থেকে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রচার করা দলগুলো ভোটারদের মনোযোগ দ্রুত আকর্ষণ করতে পারবে, ফলে ভোটার ভিত্তি শক্তিশালী হবে। তবে শেষ পর্যন্ত ভোটারদের প্রকৃত সিদ্ধান্ত নির্বাচনের ফলাফল নির্ধারণ করবে।
বজিএ এখন থেকে মাল্টিমিডিয়া বাসের রুট ও সময়সূচি প্রকাশ করবে এবং নির্বাচনী ক্যাম্পেইনের অন্যান্য কার্যক্রমের সঙ্গে সমন্বয় করবে। দলটি আশা করে, এই নতুন প্রচারযান ভোটারদের কাছে দলের বার্তা পৌঁছানোর পাশাপাশি নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করে তুলবে।



