ঢাকার ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে বৃহস্পতিবার বিকালে অনুষ্ঠিত নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে প্রেস সচিব শফিকুল আলম ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর বর্তমান নির্বাচনী পরিবেশকে পূর্বের তুলনায় উন্নত ও ইতিবাচক বলে মন্তব্য করেন। তিনি উল্লেখ করেন, তফসিল প্রকাশের পর থেকে এখন পর্যন্ত চারজনের প্রাণহানি ঘটেছে, যা অনাকাঙ্ক্ষিত হলেও সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি পূর্বের চেয়ে স্থিতিশীল।
শফিকুল আলমের মতে, এই চারটি মৃত্যুর ঘটনা যদিও দুঃখজনক, তবু নির্বাচনের সামগ্রিক পরিবেশকে পূর্বের সরকারী সময়ের তুলনায় কম সহিংস বলে গণ্য করা যায়। তিনি অতীতের তথ্য তুলে ধরে বলেন, ২০১৪ সালের আগে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে মোট ১১৫ জনের মৃত্যু ঘটেছিল, যা বর্তমান পরিস্থিতির তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
বক্তব্যের সময় তিনি রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বৃদ্ধি পেয়েছে এমন সহিষ্ণুতার কথাও উল্লেখ করেন। শফিকুল আলমের ধারণা অনুযায়ী, প্রধান দলগুলো এখন নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় পারস্পরিক সমঝোতা ও সংলাপ বজায় রাখতে বেশি ইচ্ছুক, যা ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়ক।
অন্যদিকে, বিরোধী দলগুলোও নির্বাচনী নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারা অতীতের সহিংসতা ও হিংসাত্মক ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে নিরাপত্তা ব্যবস্থার কঠোরতা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে এবং নির্বাচন কমিশনের তদারকি শক্তিশালী করার আহ্বান জানিয়েছে। এই দৃষ্টিভঙ্গি শফিকুল আলমের মন্তব্যের সঙ্গে পারস্পরিক সমন্বয় বজায় রাখলেও, নিরাপত্তা সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জের প্রতি সতর্কতা বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে।
বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, যদি বর্তমান উন্নত পরিবেশ বজায় থাকে, তবে ভোটার অংশগ্রহণের হার বাড়তে পারে এবং নির্বাচনের ফলাফলকে অধিক স্বচ্ছতা ও বৈধতা প্রদান করবে। নিরাপদ ভোটদান প্রক্রিয়া ভোটারদের আস্থা জোরদার করবে এবং বাংলাদেশ সরকারের আন্তর্জাতিক সুনামেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যে নিরাপত্তা ব্যবস্থার পর্যালোচনা চালিয়ে যাচ্ছে এবং স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় বাড়িয়ে ঘটনার সম্ভাবনা কমাতে পদক্ষেপ গ্রহণের পরিকল্পনা জানিয়েছে। তদুপরি, আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে সতর্কতা বজায় রাখতে এবং কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার দ্রুত প্রতিক্রিয়া নিশ্চিত করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শফিকুল আলমের মন্তব্যের পর, বিভিন্ন রাজনৈতিক গোষ্ঠী ও নিরাপত্তা বিশারদদের কাছ থেকে এই দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। সকল পক্ষের সমন্বিত প্রচেষ্টা যদি নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে শান্তিপূর্ণ রাখতে সক্ষম হয়, তবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফলকে দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রগতির একটি মাইলফলক হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া সম্ভব হবে।
সারসংক্ষেপে, প্রেস সচিব শফিকুল আলমের মতে, বর্তমান নির্বাচনী পরিবেশ পূর্বের তুলনায় উন্নত এবং রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সহনশীলতা বৃদ্ধি পেয়েছে। যদিও চারজনের প্রাণহানি ঘটেছে, তবে সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্থিতিশীল বলে বিবেচিত হচ্ছে। বিরোধী দলের নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ এবং নির্বাচন কমিশনের তদারকি ব্যবস্থা একসঙ্গে কাজ করলে, নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও বৈধতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।



