গুরুত্বপূর্ণ দুইটি আইনগত খসড়া কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি এবং পারিবারিক সহিংসতা রোধে বাংলাদেশ সরকারের নীতিগত অনুমোদন পেয়েছে। অনুমোদনটি বৃহস্পতিবার তেজগাঁওয়ের প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় নেওয়া হয়, যেখানে সহকারী প্রেস সচিব সুচিস্মিতা তিথি এই সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেন। উভয় খসড়া সরকারী পর্যালোচনার পর পরবর্তী ধাপে আইনসভার সামনে উপস্থাপন করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
কর্মক্ষেত্র‑শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি প্রতিরোধের জন্য প্রস্তুত করা “যৌন হয়রানি প্রতিরোধ অধ্যাদেশ ২০২৬” চারটি অধ্যায়ে গঠিত এবং মোট ২০টি ধারা অন্তর্ভুক্ত করে। এই খসড়ায় শারীরিক, মৌখিক, মানসিক, ইঙ্গিতপূর্ণ এবং ডিজিটাল স্পেসে ঘটতে পারে এমন সব ধরনের আচরণকে যৌন হয়রানি হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নারীদের ওপর হওয়া আক্রমণ বাড়ছে, তাই অনলাইন অভিযোগ গ্রহণের জন্য একটি নারী-নেতৃত্বাধীন কমিটি গঠন করা হবে।
কমিটি লিখিত, মৌখিক অথবা অনলাইন মাধ্যমে অভিযোগ গ্রহণের ক্ষমতা রাখবে এবং গ্রহণের ৯০ দিনের মধ্যে তদন্ত সম্পন্ন করতে হবে। তদন্তের গোপনীয়তা বজায় রাখার জন্য কঠোর ব্যবস্থা নির্ধারিত হয়েছে, পাশাপাশি শিশু ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য আলাদা সুরক্ষা ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অভিযোগকারীকে নিরাপত্তা ও মানসিক সহায়তা প্রদান এবং মিথ্যা অভিযোগের ক্ষেত্রে শাস্তি নির্ধারণের বিধানও খসড়ায় রয়েছে।
পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধের জন্য প্রণীত “পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধ অধ্যাদেশ ২০২৬” সাতটি অধ্যায়ে বিভক্ত এবং মোট ৩০টি ধারা নিয়ে গঠিত। এতে আশ্রয়কেন্দ্র, চিকিৎসা সেবা, মানসিক সহায়তা, আইনি সহায়তা এবং জরুরি নিরাপত্তা ব্যবস্থার অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। নির্যাতনকারী ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ সীমিত করার জন্য আদালতের আদেশের ভিত্তিতে অস্থায়ী সুরক্ষা আদেশ এবং তদন্তের পর স্থায়ী আদেশ জারি করার প্রক্রিয়া নির্ধারিত হয়েছে।
অভিযোগ গ্রহণের পর সাত দিনের মধ্যে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করতে হবে এবং ৩০ দিনের মধ্যে সম্পূর্ণ প্রতিবেদন জমা দিতে হবে। এছাড়া, শিকারকে ত্বরিত সুরক্ষা ও সহায়তা প্রদান, এবং শারীরিক ও মানসিক ক্ষতি কমাতে জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণের বিধানও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
দুইটি অধ্যাদেশই শাস্তি সংক্রান্ত বিধান সমৃদ্ধ। যৌন হয়রানি ক্ষেত্রে অপরাধের তীব্রতার ওপর ভিত্তি করে সতর্কীকরণ, বরখাস্ত, চাকরিচ্যুতি, বহিষ্কার অথবা ক্ষতিপূরণ প্রদান করা হবে। মিথ্যা অভিযোগের ক্ষেত্রে একই রকম শাস্তি আরোপের ব্যবস্থা রয়েছে। পারিবারিক সহিংসতার ক্ষেত্রে নির্যাতনকারীকে জরুরি সুরক্ষা আদেশের মাধ্যমে সশরীরে বিচ্ছিন্ন করা, আর অপরাধের গুরত্ব অনুসারে কারাদণ্ড বা জরিমানা আরোপের সম্ভাবনা উল্লেখ করা হয়েছে।
এই দুইটি খসড়া অনুমোদনের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকার কর্মক্ষেত্র, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং গৃহস্থালিতে নিরাপদ পরিবেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে অগ্রসর হচ্ছে। আইনসভার অনুমোদন ও কার্যকরী বাস্তবায়নের পর, সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলি দ্রুত এই বিধানগুলো কার্যকর করার জন্য প্রয়োজনীয় কাঠামো গড়ে তুলবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সরকার এই খসড়াগুলোকে জাতীয় নিরাপত্তা ও মানবাধিকার নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে তোলার জন্য বিশেষ মনোযোগ দেবে এবং সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে পরামর্শের মাধ্যমে চূড়ান্ত রূপ দেবে। ভবিষ্যতে এই আইনগুলো কীভাবে বাস্তবায়িত হবে এবং সমাজে কী প্রভাব ফেলবে তা পর্যবেক্ষণ করা হবে।



