ওয়াশিংটন সুন্ডার এবং তিলক বর্মা দুজনের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের ওপর ভিত্তি করে ভারত এ বিশ্বকাপের প্রস্তুতি নিয়ে ইতিবাচক মনোভাব গড়ে উঠেছে। দুজনই সীমিত‑ওভার ফরম্যাটে ধারাবাহিকভাবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং কোচিং স্টাফের দৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন।
ওয়াশিংটন সুন্ডার সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে মিডল‑অর্ডার স্পিনার হিসেবে দলের আউটফিল্ডে গুরুত্বপূর্ণ উইকেট সংগ্রহ করেছেন। তার বোলিং গতি এবং ব্যাটিং ক্ষমতা দুটোই টিমের ব্যালেন্স বজায় রাখতে সহায়তা করেছে। বিশেষ করে কঠিন পরিস্থিতিতে চাবিকাঠি গেইল‑ড্রপ এবং স্লোড্রাইভের ব্যবহার তাকে মূল্যবান সম্পদে পরিণত করেছে।
দলের প্রধান কোচ উল্লেখ করেছেন, ওয়াশিংটনের বহুমুখী দক্ষতা টেস্ট, ওডিআই এবং টি২০ তে সমানভাবে প্রযোজ্য। তিনি বললেন, “যদি কোনো ম্যাচে ব্যাটিং‑বোলিং উভয় দিকেই সমর্থন দরকার হয়, ওয়াশিংটন সুন্ডার প্রথম পছন্দের তালিকায় থাকবে।” এই মন্তব্যটি মিডিয়া ও ভক্তদের মধ্যে আশার সঞ্চার করেছে।
তিলক বর্মা দেশের ডোমেস্টিক টুর্নামেন্টে ধারাবাহিক উচ্চ স্কোরের মাধ্যমে নিজের অবস্থান দৃঢ় করেছেন। রঞ্জি ট্রফি এবং আইপিএল প্ল্যাটফর্মে তার আক্রমণাত্মক স্টাইল এবং ধারাবাহিকতা কোচিং স্টাফের নজরে এসেছে। তার শট নির্বাচন এবং ফ্লাইটের পরিবর্তনশীলতা তাকে আধুনিক ব্যাটসম্যানের মানদণ্ডে উপযুক্ত করে তুলেছে।
আইপিএল মৌসুমে তিলকের পারফরম্যান্স বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তিনি মাঝারি অবস্থান থেকে দ্রুত রান সংগ্রহ করে দলের স্কোরে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। তার ফ্ল্যাশি সিক্স এবং রেজিলিয়েন্সি ম্যাচের গতি পরিবর্তনে সহায়তা করেছে, যা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তার সম্ভাবনা বাড়িয়ে তুলেছে।
সিলেকশন কমিটি উভয় খেলোয়াড়কে বিশ্বকাপের সম্ভাব্য স্কোয়াডে অন্তর্ভুক্ত করার কথা বিবেচনা করছে। ওয়াশিংটনের স্পিন এবং তিলকের ব্যাটিং উভয়ই ভারসাম্যপূর্ণ দলে প্রয়োজনীয় বৈচিত্র্য যোগ করবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। নির্বাচনের আগে বাকি সিরিজগুলোতে তাদের পারফরম্যান্সের ওপর নজর রাখা হবে।
দল গঠনের ক্ষেত্রে স্পিনার ও ফাস্ট বোলার, টপ অর্ডার ও মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যানের সমন্বয় গুরুত্বপূর্ণ। ওয়াশিংটনের বোলিং বৈচিত্র্য এবং তিলকের আক্রমণাত্মক ব্যাটিং স্টাইল দলকে বিভিন্ন পিচে অভিযোজিত হতে সহায়তা করবে। এই দিক থেকে দুজনের সমন্বয়কে কোচিং স্টাফ ইতিবাচকভাবে মূল্যায়ন করছে।
আসন্ন সিরিজগুলোতে ভারত এ অস্ট্রেলিয়া এবং দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে টি২০ ও ওডিআই ম্যাচ রয়েছে। এই ম্যাচগুলোতে ওয়াশিংটন ও তিলক উভয়ের পারফরম্যান্স সরাসরি বিশ্বকাপের সিলেকশনে প্রভাব ফেলবে। বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়ার দ্রুত পিচে ওয়াশিংটনের স্পিন এবং তিলকের রিটেইলিং ক্ষমতা পরীক্ষা করা হবে।
বিশ্বকাপের প্রস্তুতিতে দলকে ব্যাটিং‑বোলিং উভয় দিকেই সমন্বিত বিকল্প দরকার, আর ওয়াশিংটন ও তিলক এই চাহিদা পূরণে সক্ষম বলে বিশ্লেষকরা মত পোষণ করছেন। তাদের ধারাবাহিকতা এবং মানসিক দৃঢ়তা দীর্ঘমেয়াদী টুর্নামেন্টে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ভক্তদের মধ্যে দুজনের প্রতি প্রত্যাশা বাড়ছে। সামাজিক মাধ্যমে ওয়াশিংটনের স্পিনের মুহূর্তগুলো এবং তিলকের আক্রমণাত্মক শটগুলো নিয়ে আলোচনা চলছে। উভয় খেলোয়াড়ের পারফরম্যান্স দলকে আত্মবিশ্বাসী করে তুলছে এবং বিশ্বকাপের পথে ইতিবাচক মনোভাব গড়ে তুলছে।
সারসংক্ষেপে, ওয়াশিংটন সুন্ডার এবং তিলক বর্মা দুজনই ভারত এ বিশ্বকাপের প্রস্তুতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে প্রস্তুত। তাদের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স, কোচের মন্তব্য এবং আসন্ন সিরিজের গুরুত্বকে বিবেচনা করে দল তাদেরকে মূল খেলোয়াড় হিসেবে গড়ে তুলতে চায়। ভবিষ্যৎ ম্যাচগুলোতে তাদের অবদান শেষ পর্যন্ত সিলেকশন সিদ্ধান্তকে নির্ধারণ করবে।



