বেরলিন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের ২০২৬ সংস্করণের ‘পার্সপেকটিভস’ শাখায় চীনের অ্যানিমেটেড ফিচার ‘হান ইয়ে ডেং জু’ (ইংরেজি শিরোনাম লাইট পিলার) বিশ্বপ্রিমিয়ার পেয়েছে। পরিচালক শু জাও (যাকে শু জিংওয়ে বা জিংওয়ে শু নামেও চেনা যায়) পরিচালিত এই কাজটি উৎসবের শেষ এবং চৌদ্দতম এন্ট্রি হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়েছে। অনুষ্ঠানটি বৃহস্পতিবারে প্রকাশিত হয়, যেখানে চলচ্চিত্রটি প্রথমবারের মতো জার্মানির রাজধানী শহরে উপস্থাপিত হবে।
‘লাইট পিলার’ একটি হাইব্রিড রূপের কাজ, যেখানে বাস্তব শুটিং ও অ্যানিমেশন উভয়ই মিশ্রিত হয়েছে। গল্পটি দূর ভবিষ্যতে, যেখানে মহাকাশ ভ্রমণ সাধারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, সেটিংয়ে গড়ে উঠেছে। একাকী জ্যানিটর একটি দেউলিয়া চলচ্চিত্র স্টুডিওর ধ্বংসাবশেষে কাজ করে, তার একমাত্র সঙ্গী হলেন এক সময়ের বিখ্যাত বিড়াল অভিনেতা। হঠাৎই তিনি একটি ভার্চুয়াল জগতে এক নারী চরিত্রের সঙ্গে রোমান্টিক যাত্রা শুরু করেন, যা দর্শকের কল্পনাকে উড়িয়ে দেয়।
এই চলচ্চিত্রের উৎপাদন শু জাও এবং অভিনেতা-পরিচালক দা পেংের যৌথ উদ্যোগে, ফেংদুয়ান ফিল্মের তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন হয়েছে। শু জাও পূর্বে অ্যানিমেটেড ডকুমেন্টারি ‘নো চেঞ্জেস হ্যাভ টেকেন ইন আওয়ার লাইফ’ দিয়ে ২০২৩ সালে ডি.ও.কে লেইপজিগের গোল্ডেন ডোভ পুরস্কার অর্জন করেন। তার এই সাফল্য ‘লাইট পিলার’কে আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিয়ে যাওয়ার ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছে।
‘লাইট পিলার’ এই বছর বেরলিনের মূল প্রোগ্রামের দ্বিতীয় অ্যানিমেশন ফিচার হিসেবে স্বীকৃত হয়েছে। একই উৎসবে জাপানি পরিচালক ইয়োশিতোশি শিনোমিয়ার ‘এ নিউ ডন’ অ্যানিমে শৈলীর কাজ প্রতিযোগিতামূলক বিভাগে প্রদর্শিত হবে। দু’টি অ্যানিমেটেড ফিচার একসাথে উপস্থিত হওয়া এই বছরের উৎসবের বৈচিত্র্যকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।
‘পার্সপেকটিভস’ শাখার অন্যান্য উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে মার্কিন পরিচালক ডারা ভ্যান ডুসেনের ‘এ প্রেয়ার ফর দ্য ডাইং’, যেখানে জোনি ফ্লিন, জন সি. রিলি এবং ক্রিস্টিন কুজাথ থর্পের অভিনয় রয়েছে। এছাড়া ব্রিটিশ অভিনেতা-পরিচালক অ্যাশলি ওয়াল্টারসের ‘অ্যানিমল’ এবং কোরিয়ান-আমেরিকান চলচ্চিত্র নির্মাতা লিজ সার্জেন্টের ‘টেক মি হোম’ অন্তর্ভুক্ত, যেগুলো যথাক্রমে পশ্চিমা থ্রিলার ও স্যান্ড্যান্সে প্রিমিয়ার হওয়ার কথা।
বেরলিনের এই নির্বাচন চীনের অ্যানিমেশন শিল্পের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি বাড়িয়ে তুলেছে এবং ভবিষ্যতে আরও বৈশ্বিক সহযোগিতার দরজা খুলে দেবে বলে আশা করা হচ্ছে। ‘লাইট পিলার’ এর মতো কাজগুলো প্রযুক্তি ও মানবিক অনুভূতির সমন্বয় ঘটিয়ে নতুন গল্প বলার পদ্ধতি উপস্থাপন করে, যা দর্শকদের নতুন দৃষ্টিকোণ প্রদান করবে।
উৎসবের আয়োজকরা উল্লেখ করেছেন, ‘পার্সপেকটিভস’ শাখা বিভিন্ন সংস্কৃতি ও শৈলীর চলচ্চিত্রকে একত্রিত করে একটি সমৃদ্ধ প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে। এই বছরের তালিকায় যুক্ত হওয়া ‘লাইট পিলার’ এবং অন্যান্য বৈচিত্র্যময় কাজগুলো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র প্রেমিকদের জন্য আকর্ষণীয় বিকল্প হিসেবে কাজ করবে।
বেরলিন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের ২০২৬ সংস্করণে ‘লাইট পিলার’ এর বিশ্বপ্রিমিয়ার দর্শকদের নতুন ভিজ্যুয়াল অভিজ্ঞতা এবং ভবিষ্যৎ কল্পনার দিগন্ত প্রসারিত করবে, যা এই উৎসবের সাংস্কৃতিক মিশ্রণকে আরও সমৃদ্ধ করবে।



