পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য দল ঘোষণা করেছে, তবে টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও অমীমাংসিত। এই অনিশ্চয়তার পেছনে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের প্রভাব রয়েছে।
দল ঘোষণার পরেও পিসিবি এখনও নিশ্চিত করেনি যে তার দল আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে কিনা। টুর্নামেন্টের সময়সূচি ও প্রতিপক্ষের তালিকা প্রকাশিত হলেও পাকিস্তানের অংশগ্রহণের বিষয়টি এখনো আলোচনার স্তরে রয়েছে।
বহু সূত্রের ভিত্তিতে জানা যায়, পিসিবি পুরো টুর্নামেন্টের বয়কট করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে, যা বাংলাদেশকে সমর্থন জানাতে নেওয়া একটি পদক্ষেপ হিসেবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে। বয়কটের সুনির্দিষ্ট কারণ ও সময়সীমা এখনও প্রকাশিত হয়নি, তবে এটি দুই দেশের ক্রীড়া সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম জিএনএন জানিয়েছে, আইসিসি (ICC) চেয়ারম্যান জয় শাহ ন্যূনতম আটবার পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভিকে ফোন করার চেষ্টা করেছেন, তবে নাকভি কোনো কলের উত্তর দেননি। এই তথ্য থেকে বোঝা যায়, টুর্নামেন্ট সংক্রান্ত আলোচনা উচ্চ পর্যায়ে হলেও সরাসরি যোগাযোগে বাধা রয়েছে।
জিএনএন আরও জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফের সঙ্গে সাম্প্রতিক বৈঠকের পর নাকভি উল্লেখ করেছেন যে বিশ্বকাপ ও বাংলাদেশ বিষয়ক চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ৩০ জানুয়ারি অথবা ২ ফেব্রুয়ারির মধ্যে জানানো হবে। এই সময়সীমা নির্দেশ করে যে সিদ্ধান্তের জন্য এখনও কিছু দিন বাকি রয়েছে।
সংবাদমাধ্যমের মতে, পাকিস্তান সম্ভবত শুক্রবারের মধ্যে তার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রকাশ করতে পারে, এবং সেই ঘোষণাটি প্রধানমন্ত্রীর কণ্ঠে শোনা যেতে পারে। যদি এভাবে ঘোষণা করা হয়, তবে ক্রীড়া প্রশাসনের বাইরে সর্বোচ্চ রাজনৈতিক স্তরে বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে বলে ধারণা করা যায়।
এই পরিস্থিতি স্পষ্ট করে যে টুর্নামেন্টের বিষয়টি এখনো শুধুমাত্র ক্রিকেট বোর্ডের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি দেশের উচ্চতর রাজনৈতিক সংস্থার সিদ্ধান্তের অধীনে রয়েছে। তাই ভবিষ্যতে কোনো পরিবর্তন ঘটলে তা কেবল ক্রীড়া নয়, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও প্রভাব ফেলতে পারে।
গুজবের মধ্যে রয়েছে যে নাকভি, যিনি পিসিবি চেয়ারম্যানের পাশাপাশি পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ মন্ত্রীও, বাংলাদেশ সফরে যেতে পারেন। যদি সফর বাস্তবায়িত হয়, তবে তা দুই দেশের ক্রীড়া ও রাজনৈতিক সংলাপের নতুন দিক উন্মোচন করতে পারে।
বিশ্বকাপের সূচি ইতিমধ্যে নির্ধারিত, এবং অন্যান্য দলগুলোর প্রস্তুতি চলমান। পাকিস্তানের অংশগ্রহণ নিশ্চিত না হলেও, টুর্নামেন্টের অগ্রগতি ও ফলাফল ক্রীড়া প্রেমীদের নজরে থাকবে। ভবিষ্যতে কোনো আপডেট প্রকাশিত হলে তা দ্রুত সংবাদমাধ্যমে জানানো হবে।



