যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বুধবার মার্কিন সিনেটের একটি কমিটির শুনানিতে জানিয়েছেন, ইরানের বর্তমান শাসনভঙ্গের পর নতুন শাসকের পরিচয় সম্পর্কে কোনো স্পষ্ট উত্তর নেই। তিনি উল্লেখ করেন, ইরানের রাজনৈতিক কাঠামো অন্য দেশের তুলনায় জটিল, তাই শাসন পরিবর্তনের পর কী হবে তা নির্ধারণ করা কঠিন। এই মন্তব্যটি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের তীব্র উদ্বেগের প্রেক্ষাপটে প্রকাশিত হয়।
রুবিও ভেনেজুয়েলার উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, সেখানে শাসন পরিবর্তন তুলনামূলকভাবে সহজ ছিল, কিন্তু ইরানের ক্ষেত্রে তা প্রযোজ্য নয়। তিনি ইঙ্গিত দেন, ইরানের অভ্যন্তরীণ গঠন ও বাহ্যিক প্রভাবের সমন্বয়কে বিবেচনা না করে কোনো পূর্বাভাস দেওয়া সম্ভব নয়। এই অবস্থানটি যুক্তরাষ্ট্রের নীতি নির্ধারণে একটি সতর্কতা হিসেবে দেখা যায়।
একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের পারমাণবিক প্রোগ্রাম নিয়ে কঠোর সতর্কতা প্রকাশ করেন। ট্রাম্পের মতে, আলোচনার ব্যর্থতা হলে সামরিক পদক্ষেপের বিকল্প খোলা থাকবে এবং তিনি এ বিষয়ে স্পষ্ট ইঙ্গিত দেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উল্লেখ করেন, একটি বিশাল মার্কিন নৌবহর ইরানের দিকে অগ্রসর হচ্ছে, যা সম্ভাব্য শক্তি প্রদর্শনের ইঙ্গিত দেয়।
রুবিও যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তুতি সম্পর্কে জানান, প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্র তার সেনাবাহিনী, আঞ্চলিক ঘাঁটি এবং মিত্রদের রক্ষা করতে আগাম ব্যবস্থা নিতে পারে। তবে তিনি আশাবাদ প্রকাশ করেন, পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে না পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। এই বিবৃতি যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক ও সামরিক কৌশলের সমন্বয়কে নির্দেশ করে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়েদ আব্বাস আরাগচি মার্কিন হুমকির তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, হুমকির পরিবেশে কোনো আলোচনা সম্ভব নয় এবং চাপের মাধ্যমে আলোচনার অগ্রগতি অর্জন করা যায় না। আরাগচি ইরানের অবস্থানকে জোর দিয়ে বলেন, দেশটি শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কার্যক্রম চালানোর অধিকার রক্ষা করবে এবং হুমকি ছাড়া আলোচনাই একমাত্র পথ।
দুই দেশই নিজেদের অবস্থানে অটল রয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি বন্ধ করতে চায়, আর ইরান তার পারমাণবিক অধিকার রক্ষা করে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণকে প্রত্যাখ্যান করে। এই পারস্পরিক অবস্থানটি বর্তমান কূটনৈতিক deadlock-কে আরও জটিল করে তুলেছে।
২০২৫ সালের জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সমন্বয়ে ইরানের একাধিক পারমাণবিক স্থাপনায় আক্রমণ চালানো হয়। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি অনুযায়ী, সেই হামলায় ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতায় উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়েছে। ইরান এই দাবিকে প্রত্যাখ্যান করে, তবে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিবেশে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।
ইরানের শাসন পরিবর্তনের সম্ভাবনা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতায় বড় প্রভাব ফেলতে পারে। যদি বর্তমান শাসনভঙ্গ ভেঙে যায়, নতুন নেতৃত্বের দিকনির্দেশনা ও নীতি নির্ধারণে অনিশ্চয়তা থাকবে, যা মধ্যপ্রাচ্যের জোট ও বিরোধকে পুনর্গঠন করতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের জন্যও এই অনিশ্চয়তা কূটনৈতিক কৌশল ও নিরাপত্তা নীতিতে পুনর্বিবেচনার প্রয়োজনীয়তা তৈরি করবে।
অতএব, বর্তমান পরিস্থিতিতে উভয় পক্ষই তাদের মূল লক্ষ্য বজায় রাখছে; যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক বিস্তার রোধে চাপ বাড়াতে চায়, আর ইরান আন্তর্জাতিক চাপের মুখে তার পারমাণবিক অধিকার রক্ষা করতে দৃঢ়। ভবিষ্যতে কোনো সমঝোতা অর্জন হলে তা কূটনৈতিক চ্যানেল ও নিরাপত্তা কাঠামোর পুনর্গঠনকে প্রয়োজন করবে।
এই জটিল দ্বিপাক্ষিক বিরোধের মধ্যে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ভূমিকা ও মধ্যস্থতা প্রক্রিয়া কীভাবে বিকশিত হবে, তা পরবর্তী সময়ে স্পষ্ট হবে। বর্তমান অগ্রগতি না থাকায়, ইরানের শাসনভঙ্গের পরবর্তী নেতৃত্বের প্রশ্নটি যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অজানা হিসেবে রয়ে গেছে।



