চট্টগ্রাম নগর শাখার বিএনপি সদস্যসচিব নাজিমুর রহমান ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত গণভোটে ‘না’ ভোটের পক্ষে তার মতামত প্রকাশ করে ফেসবুকে পোস্ট করেছেন। পোস্টটি গত বুধবার রাতেই প্রকাশিত হয় এবং দেশের বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। তিনি ভোটকে ‘প্রতারণার ফাঁদ’ বলে উল্লেখ করে, জনগণের ওপর জোরপূর্বক চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে সমালোচনা করেন।
নাজিমুর রহমানের পোস্টে তিনি স্পষ্টভাবে ‘না’ ভোটের পক্ষে তার অবস্থান তুলে ধরেছেন এবং ভোটারদেরকে দেশের স্বার্থ ও গণতন্ত্র রক্ষার জন্য ‘না’ ভোট দিতে আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, ‘গণভোটের ফলাফলকে যদি ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে স্বীকৃতি দেওয়া হয়, তবে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার অতিরিক্ত ছয় মাসের ক্ষমতা পাবে।’
ফেসবুক পোস্টটি প্রকাশের পর অনলাইন ব্যবহারকারীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। কিছু সমর্থক নাজিমুরের বক্তব্যকে স্বাগত জানিয়ে তাকে প্রশংসা করেন, আবার অন্যদিকে কিছু ব্যবহারকারী তার মতামতের বিরোধিতা করে মন্তব্য করেন। সামাজিক নেটওয়ার্কে পোস্টটি শেয়ার, মন্তব্য ও লাইকসহ ব্যাপক আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে।
পোস্টের বিষয়বস্তু স্বীকার করে নাজিমুর রহমানের সঙ্গে আজ দুপুরে প্রথম আলো সাক্ষাৎকারে কথা হয়। তিনি নিশ্চিত করেন যে তিনি নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে সরাসরি এই আহ্বান জানিয়েছেন এবং কোনো তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপ নেই। তিনি বলেন, ‘আমি স্পষ্টভাবে ‘না’ ভোটের পক্ষে আছি এবং এই সিদ্ধান্তের পেছনে আমার নিজস্ব বিশ্লেষণ রয়েছে।’
নাজিমুরের মতে, ‘হ্যাঁ’ ভোটের ফলাফল হলে নির্বাচিত দলকে ক্ষমতা গ্রহণের জন্য ছয় মাসের অতিরিক্ত সময় দিতে হবে, যা বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের জন্য সুবিধাজনক হবে। তিনি যুক্তি দেন, এই অতিরিক্ত সময়ের মাধ্যমে সরকার তার নীতি ও কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারবে, যদিও জনগণের বিশ্বাস ইতিমধ্যে ক্ষয়প্রাপ্ত।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকার জনগণের ওপর আস্থা হারিয়ে ফেলেছে এবং ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে তাদের ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করা গণতান্ত্রিক নীতির বিরোধী হবে। নাজিমুরের মতে, ভোটারদের উচিত এমন একটি সিদ্ধান্ত নেওয়া যা দেশের স্বার্থে দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করে।
নাজিমুরের বিশ্লেষণে তিনি বলেন, ‘যদি ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত দল ক্ষমতা গ্রহণ করে, তবে তারা বাস্তবিকভাবে জনগণের ইচ্ছা অনুযায়ী কাজ করতে পারবে না।’ তিনি এই দৃষ্টিকোণ থেকে ‘না’ ভোটকে এক ধরনের প্রতিরোধ হিসেবে উপস্থাপন করেন, যা বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতা কমাতে সহায়ক হতে পারে।
বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, ‘না’ ভোটের উচ্চ শতাংশ যদি দেখা যায়, তবে তা বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের জন্য রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে এবং ভবিষ্যৎ নির্বাচনী প্রক্রিয়ার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। অন্যদিকে, ‘হ্যাঁ’ ভোটের ফলাফল সরকারকে অতিরিক্ত সময় দিয়ে তার নীতি বাস্তবায়নের সুযোগ দেবে। তাই উভয় দিকেই ভোটের ফলাফল দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে পারে।
গণভোটের দিন নাগাদ ভোটারদের সিদ্ধান্ত দেশের রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা নির্ধারণে মূল ভূমিকা রাখবে। নাজিমুর রহমানের ‘না’ ভোটের আহ্বান দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক গোষ্ঠীর মধ্যে বিতর্ককে তীব্র করেছে এবং ভোটের ফলাফল কীভাবে দেশের ভবিষ্যৎ গঠন করবে তা নিয়ে আলোচনা বাড়িয়ে তুলেছে।



