বিএনপি চেয়ারপার্সন তারেক রহমান রায়শাহীর একটি বৃহৎ সমাবেশে দেশের রাজনৈতিক পরিবেশ ও উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরেন। তিনি ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত জাতীয় নির্বাচনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানান। সমাবেশটি রায়শাহি শহরের প্রধান পার্কে অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে তিনি রায়শাহি অঞ্চলে বিশেষায়িত হাসপাতাল গড়ে তোলার পরিকল্পনা প্রকাশ করেন। পাশাপাশি পাডমা ও পার্শ্ববর্তী নদীগুলোর প্রবাহ উন্নত করতে পুরনো খালগুলো পুনঃনির্মাণের কথা উল্লেখ করেন। কৃষি ভিত্তিক শিল্পকে উৎসাহিত করতে উদ্যোক্তাদের জন্য ঋণ সুবিধা প্রদান করার প্রতিশ্রুতি দেন।
বিশেষায়িত হাসপাতালটি আঞ্চলিক রোগীর সেবা বাড়াতে আধুনিক যন্ত্রপাতি ও প্রশিক্ষিত কর্মীসহ গড়ে তোলার লক্ষ্য। পুনঃনির্মিত খালগুলো বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও সেচের কার্যকারিতা বাড়াবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই উদ্যোগগুলো রায়শাহি ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার অর্থনৈতিক উন্নয়নে সহায়ক হবে।
ঋণ সুবিধার আওতায় কৃষকদের জন্য কম সুদে ঋণ ও দীর্ঘমেয়াদী পরিশোধের ব্যবস্থা থাকবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী কৃষি-ভিত্তিক উৎপাদনশীলতা বাড়াতে নতুন কারখানা ও প্রক্রিয়াকরণ ইউনিট স্থাপন করা হবে। এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টির সম্ভাবনা বৃদ্ধি পাবে।
তারেক রহমান আইন ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে যে কোনো ‘অপ্রয়োজনীয় ঘটনা’ের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি করেন। তদন্তে যদি বিএনপি জড়িত পাওয়া যায়, তবে তিনি সম্পূর্ণ সহযোগিতা করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন যাতে ন্যায়বিচার নিশ্চিত হয়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, তদন্তের প্রক্রিয়া দেশের আইনের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে।
গত ১৬ বছর ধরে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় ভোটারদের অধিকার থেকে বঞ্চিত হওয়ার অভিযোগ তিনি তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা পালিয়ে গেছেন, তবে নতুন গোষ্ঠী এখন নির্বাচনের বাধা সৃষ্টি করতে চায়।
এমন গোষ্ঠীর ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে জনগণকে সতর্ক থাকতে আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত নির্বাচনে কেউই হস্তক্ষেপ করতে পারবে না। তিনি ভোটারদের সচেতনতা ও অংশগ্রহণ বাড়াতে বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
অতিরিক্তভাবে, পাডমা ব্যারেজের নির্মাণ, কৃষকদের জন্য সর্বোচ্চ ১০,০০০ টাকার ঋণ ও সুদ মওকুফ, এবং বারিন্দ প্রকল্পের পুনরুজ্জীবনের পরিকল্পনা তিনি ঘোষণা করেন। এই প্রকল্পগুলো দেশের অবকাঠামো ও কৃষি উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর লক্ষ্য রাখে।
তারেক রহমান সংঘাত এড়িয়ে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে কাজ করার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে সমালোচনা না করার কারণ ব্যাখ্যা করে বলেন, সমালোচনা থেকে কোনো বাস্তব উপকার বা কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয় না।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, যদি তিনি অন্যকে সমালোচনা করেন, তবে তা কেবল তর্কে শেষ হবে, আর কৃষকদের ঋণ মওকুফের মতো বাস্তব সুবিধা প্রদান সম্ভব হবে না। তাই তিনি শান্তি বজায় রেখে পরিকল্পনা বাস্তবায়নে মনোনিবেশ করতে চান।
শান্তিপূর্ণ পরিবেশে এই উন্নয়নমূলক পরিকল্পনা কার্যকর করা সম্ভব হবে, এটাই তারেকের মূল বক্তব্য। তিনি দেশের সামগ্রিক অগ্রগতির জন্য রাজনৈতিক বিরোধের পরিবর্তে সহযোগিতার আহ্বান জানান।
অস্থায়ী সরকার এই সময়ে আইন শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং নির্বাচনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রস্তুত থাকার কথা জানিয়েছে, তবে তারেকের ঘোষিত পরিকল্পনা ও প্রতিশ্রুতি সম্পর্কে এখনো কোনো সরকারি মন্তব্য প্রকাশিত হয়নি।
বিপক্ষের কিছু নেতা বলছেন, নির্বাচনের আগে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি, এবং সকল দলকে শান্তিপূর্ণ প্রচারণা বজায় রাখতে হবে। তবে তারা বিএনপির অর্থনৈতিক প্রতিশ্রুতি নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছে।
আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে তারেকের আহ্বান ও উন্নয়ন পরিকল্পনা বিএনপির ভোটার ভিত্তি শক্তিশালী করার একটি কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে। যদি সমাবেশে উল্লিখিত প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হয়, তবে রায়শাহি ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে ভোটারদের সমর্থন বাড়তে পারে।
অন্যদিকে, নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি এবং সম্ভাব্য আইনি প্রক্রিয়া রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়াতে পারে, যা নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে। তাই সকল রাজনৈতিক দলকে আইনগত প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচারকে সম্মান করতে হবে।
রায়শাহি সমাবেশের মাধ্যমে তারেক রহমান দেশের উন্নয়ন ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের জন্য একটি স্পষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করেছেন, যা আগামী সপ্তাহে রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে থাকবে।



