২০২৬ সালের প্রথম আন্তর্জাতিক উইন্ডো শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের মহিলা জাতীয় দল (USWNT) নিয়ে প্রশ্নগুলো এখনও রয়ে গেছে। কোচ এমা হেইস এই সময়ে দলকে পুনর্গঠন করার সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করেছেন, যেখানে নতুন মুখগুলোকে পরীক্ষা করা হয়েছে। প্রথম ম্যাচে পারাগুয়েতে ৬-০ বড় জয় অর্জনের পর, দলটি গড় ক্যাপের দিক থেকে ঐতিহাসিক নিম্ন স্তরে পৌঁছেছে।
ফেডারেশন অনুযায়ী, পারাগুয়েতে ৬-০ জয়ের সময় শুরুর একাদশের গড় ক্যাপ মাত্র ৯.৬ ছিল, যা গত চতুর্দশ শতাব্দীর মধ্যে সর্বনিম্ন রেকর্ড। তবে মঙ্গলবারের ম্যাচে এই গড় আরও কমে ৫.২ ক্যাপে নেমে আসে, ফলে রেকর্ড আবার ভেঙে যায়। তুলনা করে দেখলে, ২০২৪ অলিম্পিক্সে নির্বাচিত ২২ জন খেলোয়াড়ের (বিকল্পসহ) গড় ক্যাপ ছিল ৫১.৪, যা বর্তমান দলের অভিজ্ঞতার পার্থক্য স্পষ্ট করে।
গোলরক্ষক পদের পরিবর্তন বিশেষভাবে নজরে এসেছে। দীর্ঘ সময়ের প্রধান গোলরক্ষক আলিসা নেহেরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শেষ হওয়া কোনো বিস্ময় নয়, তবে তার অবসরের সঙ্গে সঙ্গে উত্তরসূরি স্পষ্ট না থাকায় দলটি কিছুটা অনিশ্চিত অবস্থায় রয়েছে। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ফ্যালন টুলিস-জয়েস, যাঁর ২৯ জানুয়ারি পর্যন্ত চারটি আন্তর্জাতিক ক্যাপ রয়েছে, এখন প্রধান বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন। গ্রীষ্মে দলটির পজেশন গেমে তিনি সহজে মানিয়ে নিয়েছেন এবং শট-স্টপিং দক্ষতা দেখিয়ে দলের আস্থা জিতেছেন। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে তার পারফরম্যান্সও তার প্রোফাইলকে আরও উজ্জ্বল করেছে।
অন্যান্য গোলরক্ষকও দলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। ম্যান্ডি ম্যাকগ্লিন, যাঁর পাঁচটি ক্যাপ রয়েছে, প্রথম ম্যাচে শুরুর গার্ড হিসেবে খেলেছিলেন, তবে পারাগুয়েতে মাত্র দুইটি শটের মুখোমুখি হওয়ায় তার কাজ তুলনামূলকভাবে সহজ ছিল। ক্লাউডিয়া ডিকি, সাতটি ক্যাপের অধিকারী, হেইসের দৃষ্টিতে ক্রমশ বেশি গুরুত্ব পাচ্ছেন এবং চিলিতে ৫-০ জয়ের সময় অপরিবর্তিত ক্লিন শিট বজায় রেখেছেন। বেই এফসির জর্ডান সিলকোয়িটজ এখনও আন্তর্জাতিক মঞ্চে পদচিহ্ন রাখতে পারেননি, তবে তার সম্ভাবনা দলটি নজরে রাখছে।
দলটির সামগ্রিক গঠন এখনও পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে। হেইসের অধীনে খেলোয়াড়দের ঘূর্ণন ও নতুন সংযোজনের মাধ্যমে দলটি গভীর পুল থেকে সর্বোত্তম সংমিশ্রণ গড়ে তোলার চেষ্টা করছে। তবে ক্যাপের গড় এত কম হওয়া মানে হল যে অভিজ্ঞতার ঘাটতি রয়েছে, যা আসন্ন বিশ্বকাপ কোয়ালিফায়ার ম্যাচে বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে। নভেম্বর মাসে শুরু হওয়া কোয়ালিফায়ার সিরিজে দলকে স্থিতিশীলতা ও অভিজ্ঞতা দুটোই প্রয়োজন হবে।
এই পরিস্থিতিতে কোচ হেইসের জন্য চারটি মূল দিক বিবেচনা করা জরুরি। প্রথমত, গোলরক্ষক পদের জন্য স্পষ্ট উত্তরসূরি নির্ধারণ করা, যাতে ম্যাচের চাপের সময় দলটি আত্মবিশ্বাসী থাকে। দ্বিতীয়ত, ক্যাপের গড় বাড়াতে অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের পুনরায় অন্তর্ভুক্তি বা নতুন অভিজ্ঞতা অর্জনকারী খেলোয়াড়দের দ্রুত অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করা। তৃতীয়ত, দলের আক্রমণাত্মক ও রক্ষণাত্মক গঠনকে সমন্বয় করে, যেসব খেলোয়াড়ের পারফরম্যান্স ইতিমধ্যে প্রমাণিত হয়েছে, তাদের ভূমিকা স্পষ্ট করা। চতুর্থত, আসন্ন নভেম্বরের কোয়ালিফায়ার ম্যাচের জন্য প্রস্তুতি বাড়াতে, প্রশিক্ষণ ও ট্যাকটিক্যাল সেশনকে তীব্র করা।
USWNT-এর এই প্রথম উইন্ডোতে দেখা গিয়েছে যে দলটি গভীর পুল থেকে নতুন মুখ তুলে ধরতে সক্ষম, তবে অভিজ্ঞতার ঘাটতি এখনও বড় প্রশ্ন রয়ে গেছে। ক্যাপের গড় রেকর্ড ভাঙা এবং গোলরক্ষক পদের অনিশ্চয়তা দলকে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা করতে বাধ্য করবে। নভেম্বরের কোয়ালিফায়ার ম্যাচে এই বিষয়গুলো কীভাবে সমাধান হবে, তা নির্ধারণ করবে দলটির বিশ্বকাপের পথে অগ্রগতি।



