22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধবাগেরহাটে মুক্তি প্রাপ্ত ছাত্রলীগ নেতার জেলারের বিরুদ্ধে ঘুষের অভিযোগ

বাগেরহাটে মুক্তি প্রাপ্ত ছাত্রলীগ নেতার জেলারের বিরুদ্ধে ঘুষের অভিযোগ

যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পেয়ে বুধবার সন্ধ্যায় বাগেরহাটে পৌঁছানো নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগ নেতা জুয়েল হাসান (সাদ্দাম) জেলারের কাছ থেকে ঘুষের দাবি তুলে ধরেছেন। তিনি নিজের স্ত্রী ও সন্তানদের দাফন শেষে মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলার সময় এই অভিযোগ করেন।

জুয়েল নিজেকে ‘নির্দোষ’ ও ‘রাজনৈতিক বন্দী’ বলে দাবি করে বলেন, জামিনের পর তিন মাস সেলে আটকে রাখা হয়েছিল এবং তার স্ত্রী মানসিকভাবে ভেঙে গিয়েছিল। তিনি জেলারের ওপর টাকা চাওয়ার অভিযোগ করেন, যদিও জেলারের পক্ষ থেকে কোনো স্বীকারোক্তি পাওয়া যায়নি।

বাগেরহাট জেলা কারাগারের জেলা খোন্দকার মো. আল‑মামুন জুয়েলের অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, জেলারের কোনো ঘুষের চাহিদা নেই এবং তিনি কোনো বন্দীকে অন্য জেলে স্থানান্তর করতে পারেন না। তিনি জুয়েলের আচরণই তাকে যশোরে পাঠানোর মূল কারণ বলে উল্লেখ করেন।

মামুনের মতে, জুয়েল প্রথম থেকেই আক্রমণাত্মক স্বভাবের এবং বিভিন্ন বন্দীকে গালি-গালাজ ও শারীরিক হিংসা করে আসছে। তাই নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য তাকে সেলে রাখা হয়েছিল, শাস্তি নয়। সেলটি শারীরিক শাস্তির স্থান নয়, বরং নিরাপত্তার জন্য সীমাবদ্ধ করা হয়।

বাগেরহাট কারাগারের নথি অনুযায়ী, জুয়েল গত বছর ১২ মার্চ সেল ইনচার্জ বাদশা মিয়াকে হুমকি ও গালি দিয়ে তাড়া দিয়েছিলেন। এছাড়া ৬ জুলাই অন্য এক বন্দীকে মারধর করার রেকর্ড রয়েছে। এই ঘটনাগুলোই তার কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার পেছনের কারণ।

মামুন আরও জানান, জুয়েল বাগেরহাটে আসার পরপরই ৭ এপ্রিল তার স্ত্রী, শ্বশুর এবং অন্যান্য আত্মীয়রা কারাগারে এসে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাৎটি স্বাভাবিকভাবে চলেছিল, তবে তার পরিবারে এক হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছে, যা তিনি এখনো মিডিয়ায় তুলে ধরছেন।

জুয়েল দাবি করেন, তার পরিবারে মৃতদেহ দেখার পর মানসিক শক থেকে তিনি বিভিন্ন ধরনের অপপ্রচার ও অযৌক্তিক অভিযোগে জর্জরিত হচ্ছেন। তিনি পাঁচ লাখ টাকার কোনো অযৌক্তিক দাবি বা মিথ্যা ভিত্তিক কথাবার্তা না বলার দাবি করেন।

বাগেরহাটে তার স্ত্রী-সন্তানের দাফন শেষে, জুয়েল কিছু সময় সাবেকডাঙ্গা গ্রামে শ্বশুরবাড়িতে অবস্থান করেন। সেখান থেকে তিনি প্রথমে একটি মোটরসাইকেল এবং পরে সাদা রঙের গাড়ি ব্যবহার করে অন্যত্র চলে যান।

অধিক তথ্য অনুযায়ী, জুয়েলকে যশোরে স্থানান্তর করার মূল কারণ ছিল তার আক্রমণাত্মক আচরণ, যা কারাগারের শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় বলে বিবেচিত হয়। জেলারের বিরুদ্ধে ঘুষের অভিযোগের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এটিকে ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।

জুয়েলের মুক্তি ও অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে, স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থা বিষয়টি তদন্তের আওতায় রাখার কথা জানিয়েছে। বর্তমানে কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয়নি, তবে ভবিষ্যতে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।

এই ঘটনার পর, ছাত্রলীগের অন্যান্য নেতারা জুয়েলের প্রতি সমর্থন প্রকাশ করে, তাকে রাজনৈতিক কারাবাসের শিকার বলে উল্লেখ করেছে। তবে জেলার পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

বাগেরহাট জেলা কারাগারের কর্মকর্তারা জুয়েলের অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে চিহ্নিত করে, ভবিষ্যতে এ ধরনের ভিত্তিহীন অভিযোগের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। বিষয়টি এখন আদালতে বা তদন্তে কীভাবে এগোবে, তা সময়ের সাথে স্পষ্ট হবে।

৯২/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: প্রথম আলো
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments