মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গোরেয়া ইউনিয়ন, ঠাকুরগাঁও-১ সংসদীয় এলাকার সমাবেশে আজ বিকেলে ১৯৭১ মুক্তিযুদ্ধের সময়ের অপরাধ স্বীকারের দাবি জানিয়ে ভোটের আগে ক্ষমা চেয়েছেন। তিনি উপস্থিত ভক্ত ও সমর্থকদের সামনে বললেন, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি ও ন্যায়বিচার ছাড়া কোনো নির্বাচনী প্রচারণা সার্থক নয়।
সমাবেশে তিনি পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ১৯৭১ সালের ব্যাপক নৃশংসতা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বললেন, বহু পরিবার ভারতীয় সীমান্তে শরণার্থী হয়ে গিয়েছিল, গ্রাম ও শহরের বাড়ি জ্বলে পুড়েছিল। এই ধ্বংসযজ্ঞের শিকারদের সংখ্যা ও কষ্টের মাত্রা তিনি সংক্ষেপে তুলে ধরেন, যাতে শোনা যায় যে যুদ্ধের ক্ষতিগ্রস্ত জনগণ এখনও তার পরিণতি ভোগ করছে।
মির্জা ফখরুল তার নিজের পরিবারিক ক্ষতি উল্লেখ করে বলেন, থাকুরগাঁও শহরে তার পারিবারিক বাড়ি সম্পূর্ণভাবে লুটপাট ও ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। পেট্রোল পাম্পের ভূগর্ভস্থ জ্বালানি ট্যাঙ্ক, পাশাপাশি পিতার নির্মাণ ব্যবসার মালিকানাধীন ট্রাকগুলোও নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই সব ধ্বংসযজ্ঞ পাকিস্তান সেনাবাহিনীর হাতে ঘটেছিল এবং সেই সময়ের সহযোগীদের ভূমিকা অস্বীকার করা যায় না।
কোনো নির্দিষ্ট দলকে নাম না তুলে, তিনি উল্লেখ করেন যে যেসব রাজনৈতিক গোষ্ঠী বা ব্যক্তিরা সেই সময়ে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সঙ্গে সহযোগিতা করেছে, তাদের প্রথমে নিজেদের কাজের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা উচিত। ক্ষমা না করে ভোটের জন্য আবেদন করা নৈতিকভাবে অনুচিত, তিনি যুক্তি দেন।
মির্জা ফখরুলের মতে, বর্তমান কিছু রাজনৈতিক শক্তি বিএনপির ওপর আক্রমণ চালিয়ে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের উদ্দেশ্যকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, “তারা আমাদের ওপর আক্রমণ চালিয়ে আমাদেরকে জিজ্ঞাসা করছে কেন আমরা মুক্তিযুদ্ধ লড়াই করেছি।” এই ধরনের আচরণ তিনি ভোটারদের কাছে অনৈতিক বলে উল্লেখ করেন।
স্বাধীনতা ও দেশপ্রেমের গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করে তিনি অতীতের দুইজন নেতার কথা স্মরণ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, স্বাধীনতা ঘোষণার সময় আনিসুর রহমান জিকো (যা পূর্বে জানি-যা) স্বাধীনতা ঘোষণা করেন এবং খালেদা জিয়া একই পতাকাকে রক্ষা করেছেন। এই ঐতিহ্যকে তিনি বর্তমানের নেতৃত্বের সঙ্গে যুক্ত করে বলেন, “আজ তরিক রহমান সেই পতাকাকে বহন করছেন, এবং আমরা সেই ধারায় অগ্রসর হব।”
নির্বাচনের দিনগুলো ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে তিনি ভোটারদের সতর্ক করেন, ভুল ভোটের ফলস্বরূপ দেশের আরও কষ্ট ও দুর্ভোগ বাড়বে। তিনি বলেন, “যদি আমরা সঠিক নির্বাচন না করি, তবে দেশের ভবিষ্যৎ আরও দুঃখজনক হবে।” এই সতর্কবার্তা দিয়ে তিনি ভোটারদের সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে আহ্বান জানান।
মির্জা ফখরুল আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেন, বিএনপি দেশের সর্বত্র জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে এবং শীঘ্রই সরকার গঠন করবে। তিনি এই বিশ্বাসকে ভিত্তি করে ভোটারদের সমর্থন চাইছেন, যাতে দেশের উন্নয়নমূলক কাজগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করা যায়।
থাকুরগাঁও-১ থেকে তিনি সরাসরি ভোটের আহ্বান জানান, যদি তিনি নির্বাচনে জয়ী হন তবে ইনশা আল্লাহ সরকারে অংশ নেবেন। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, যুবকদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি, কৃষি ভিত্তিক শিল্প প্রতিষ্ঠা, এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোন (EPZ) গঠন, একটি মেডিকেল কলেজ, একটি বিশ্ববিদ্যালয় এবং একটি বিমানবন্দর নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
অবশেষে তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই সব উন্নয়নমূলক প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য বিএনপির নেতৃত্ব অপরিহার্য। তিনি ভোটারদের অনুরোধ করেন, “আপনারা যদি আমাকে থাকুরগাঁও-১-এ ভোট দেন, তবে আমি এই প্রতিশ্রুতিগুলোকে বাস্তবে রূপ দিতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।” এই বক্তব্যে সমাবেশের উচ্ছ্বাস ও প্রত্যাশা স্পষ্ট হয়ে ওঠে, এবং নির্বাচনী লড়াইয়ের তীব্রতা বাড়ে।



