Olympic Industries, দেশের শীর্ষ ভোক্তা পণ্য প্রস্তুতকারক, ২০২৫-২০২৬ আর্থিক বছরের অক্টোবর‑ডিসেম্বর ত্রৈমাসিকে নিট মুনাফা Tk 62.46 কোটি অর্জন করে, যা গত বছরের তুলনায় ৪ শতাংশ বৃদ্ধি। এই ফলাফল কঠিন বাজার পরিবেশের মাঝেও অর্জিত হয়েছে। কোম্পানি দাবি করে যে স্থিতিশীল চাহিদা ও ব্যবস্থাপনা পদক্ষেপই মূল চালিকাশক্তি।
মৌলিক ও ডাইলিউটেড শেয়ার প্রতি আয় যথাক্রমে Tk 3.12 এবং Tk 2.99 থেকে বৃদ্ধি পেয়ে Tk 3.12 এ পৌঁছেছে। শেয়ার প্রতি আয়ের এই উন্নতি মুনাফার সামান্য বৃদ্ধি প্রতিফলিত করে। কোম্পানি উল্লেখ করে যে মূল্যবৃদ্ধি শেয়ারধারীর আয়ে প্রভাব ফেলেনি।
জুলাই‑ডিসেম্বর অর্ধবছরে নিট মুনাফা Tk 119.71 কোটি, যা পূর্ববছরের একই সময়ে Tk 116.31 কোটি থেকে সামান্য বেশি। একই সময়ে রাজস্ব ৩.৮৫ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। এই সংখ্যা বাজারে পণ্যের ধারাবাহিক চাহিদা নির্দেশ করে।
ভোক্তা পণ্যের বাজারে প্রতিযোগিতা তীব্র হলেও কোম্পানি দাবি করে যে তার কৌশল বাজার শেয়ার বজায় রাখতে কার্যকর। লোডেড তেল, ডিটারজেন্ট ইত্যাদি মৌলিক পণ্যের চাহিদা স্থিতিশীল রয়েছে। ফলে বিক্রয় বৃদ্ধি পেতে থাকে।
দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচামালের দাম দ্রুত বেড়েছে, যা উৎপাদন খরচে চাপ সৃষ্টি করেছে। তবুও মোট মুনাফা Tk 386.95 কোটি, পূর্ববছরের Tk 372.69 কোটি থেকে বৃদ্ধি পায়। এই উন্নতি খরচ নিয়ন্ত্রণে কোম্পানির সক্ষমতা প্রকাশ করে।
জুলাই‑ডিসেম্বর সময়ে শেয়ার প্রতি নিট অপারেটিং ক্যাশ ফ্লো Tk 7.15 এ হ্রাস পায়, যেখানে পূর্ববছরে এটি Tk 7.25 ছিল। হ্রাসের প্রধান কারণ উচ্চতর আয়কর পরিশোধ এবং অন্যান্য অপারেশনাল ব্যয়। তবুও মোট তরলতা স্থিতিশীল রয়ে গেছে।
পরিচালনা পর্ষদ লোলাটি কারখানার পাশে সোনারগাঁ, নারায়ণগঞ্জে ১৫৯ ডেসিমেল জমি Tk 23 কোটি মূল্যে ক্রয় অনুমোদন করেছে। এই জমি ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণের জন্য নির্ধারিত। পরিকল্পনা অনুযায়ী নতুন উৎপাদন লাইন ও লজিস্টিক সুবিধা এখানে গড়ে তোলা হবে।
৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের তথ্য অনুযায়ী স্পনসর ও পরিচালকগণ কোম্পানির শেয়ার ৩২.৩৮ শতাংশ ধরে রেখেছেন। এই অভ্যন্তরীণ মালিকানা কর্পোরেট শাসনে স্থিতিশীলতা যোগায়। প্রতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীর অংশীদারিত্বও উল্লেখযোগ্য।
ভোক্তা পণ্য সেক্টরের বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন যে কাঁচামাল মূল্যের ধারাবাহিক বৃদ্ধি মুনাফার উপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে, তবে Olympic Industries এর বর্তমান কৌশল তা কিছুটা কমিয়ে দিচ্ছে। ভবিষ্যতে মূল্য নির্ধারণের ক্ষমতা ও খরচ নিয়ন্ত্রণই মূল চাবিকাঠি হবে। নতুন জমি ব্যবহার করে উৎপাদন বাড়ানো কোম্পানির বৃদ্ধির গতি ত্বরান্বিত করতে পারে।
সংক্ষেপে, কোম্পানি অক্টোবর‑ডিসেম্বর ত্রৈমাসিকে ৪ শতাংশ মুনাফা বৃদ্ধি, মোট মুনাফা উন্নতি, এবং ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণের জন্য জমি ক্রয়সহ শক্তিশালী আর্থিক অবস্থান প্রদর্শন করেছে। তবে কাঁচামাল দামের উত্থান ও করের বোঝা ঝুঁকি হিসেবে রয়ে গেছে। এই পরিস্থিতিতে পরিচালনা দলকে দক্ষতা ও বাজার চাহিদা সমন্বয় করে চলতে হবে।



