ম্যানচেস্টার সিটি এবং চেলসির মধ্যে শিরোপা দৌড়ে স্কোয়াডের গভীরতা এখন মূল বিষয় হিসেবে উঠে এসেছে। ম্যানচেস্টার সিটি ঘূর্ণায়মান খেলোয়াড়ের ব্যবহারকে তাদের শীর্ষে থাকা অবস্থার মূল চালিকাশক্তি হিসেবে উল্লেখ করেছে, যা তাদের চেলসির তুলনায় নয় পয়েন্টের সুবিধা এনে দিয়েছে। এই সুবিধা নিয়ে দলটি আগামী রবিবারের চেলসি বিরোধী ম্যাচে আত্মবিশ্বাসী অবস্থায় প্রস্তুত।
সাম্প্রতিক সিজনে দেখা গেছে, লিগ জয় এখন কেবলমাত্র সেরা খেলোয়াড়ের উপস্থিতি নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স বজায় রাখতে সক্ষম সমগ্র স্কোয়াডের ওপর নির্ভরশীল। ঘন ঘন ম্যাচের সূচি, একাধিক ট্রফি জন্য লড়াই এবং ক্লাবের ভিন্ন ভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের ফলে ক্লান্তি, আঘাত এবং তীব্রতা হ্রাস এখন নিয়মিত চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে।
ক্লাবের কোচরা এই বাস্তবতাকে স্বীকার করে সিদ্ধান্ত গ্রহণে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করছেন। আর্সেনালের প্রধান কোচ রেনি স্লেগার্স গত সপ্তাহে জোর দিয়ে বলেছিলেন, ঘন সূচিতে খেলোয়াড় নির্বাচন জটিল এবং প্রতিটি ম্যাচে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে বহু বিষয় বিবেচনা করতে হয়। তিনি উল্লেখ করেছেন, দলকে সব প্রতিযোগিতায় প্রতিযোগিতামূলক রাখতে একটি উচ্চমানের স্কোয়াড গঠন করা প্রয়োজন।
এই দৃষ্টিভঙ্গি স্কোয়াডের স্থায়িত্বকে গুরুত্ব দেয়, নির্দিষ্ট মূল খেলোয়াড়ের ওপর নির্ভর না করে প্রত্যেককে প্রস্তুত রাখতে চায়। ম্যানচেস্টার সিটি, চেলসি এবং আর্সেনাল এই নীতিতে অগ্রগামী, যদিও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডও জানুয়ারি ট্রান্সফার উইন্ডোতে তিনজন নতুন খেলোয়াড় সই করে স্কোয়াডকে শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে।
ম্যানচেস্টার সিটির কোচ অ্যান্ড্রি জেগলেটজের অধীনে উচ্চ তীব্রতার প্রেসিং, প্রান্তে অতিরিক্ত চাপ এবং ধারাবাহিক আক্রমণাত্মক চাপের কৌশল প্রয়োগ করা হয়। এই শৈলীর জন্য ঘূর্ণায়মান খেলোয়াড়ের ব্যবহার অপরিহার্য, যাতে মূল খেলোয়াড়দের অতিরিক্ত ক্লান্তি থেকে রক্ষা করা যায় এবং দলটি পুরো সিজনে শীর্ষ পারফরম্যান্স বজায় রাখতে পারে।
স্কোয়াডের গভীরতা ম্যাচের শেষ পর্যায়ে স্পষ্ট হয়ে ওঠে। অক্টোবর মাসে আর্সেনালের বিরুদ্ধে ঘরে অনুষ্ঠিত তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক ম্যাচে ম্যানচেস্টার সিটি বেঞ্চ থেকে ইমান বেনি নিয়ে গ্রীস ক্লিনটনকে ৫৯তম মিনিটে বদলায় এবং ৮৮তম মিনিটে জয়ী গোল করে। এই মুহূর্তটি দেখিয়েছে যে ঘূর্ণায়মান খেলোয়াড়ের সঠিক ব্যবহার কীভাবে ম্যাচের ফলাফলকে বদলে দিতে পারে।
সারসংক্ষেপে, WSL শিরোপা দৌড়ে স্কোয়াডের গভীরতা এবং ঘূর্ণায়মান খেলোয়াড়ের কৌশল এখন অপরিহার্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। ম্যানচেস্টার সিটির সফলতা তাদের ঘন সূচিতে ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ক্ষমতা, চেলসির সঙ্গে পার্থক্য এবং অন্যান্য ক্লাবের স্কোয়াড গঠন নীতির সঙ্গে তুলনা করে দেখা যায়। আগামী সপ্তাহে চেলসির মুখোমুখি হওয়া ম্যাচে এই কৌশল কতটা কার্যকর হবে তা লিগের শীর্ষে অবস্থান নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



