বাংলাদেশ সরকার সিভিল এভিয়েশন অথরিটি (CAAB)‑কে নিয়ন্ত্রক ও পরিচালনামূলক দায়িত্বে পৃথক সংস্থায় ভাগ করার নীতি গ্রহণ করেছে। এই সিদ্ধান্তটি সিভিল এভিয়েশন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় কর্তৃক CAAB‑কে প্রেরিত সরকারি চিঠির মাধ্যমে জানানো হয়েছে এবং তা সরকারী নথিতে রেকর্ড করা হয়েছে।
বর্তমানে CAAB একসঙ্গে উভয় ভূমিকা পালন করে; একটি দিক থেকে দেশের বেসামরিক বিমান চলাচলের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা তদারকি করে, অন্যদিকে এয়ার নেভিগেশন সেবা প্রদান এবং আন্তর্জাতিক ও গৃহস্থালী বিমানবন্দর পরিচালনা করে। এই দ্বৈত কাঠামো আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রাখতে প্রায়ই চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে।
মন্ত্রণালয় উল্লেখ করেছে যে, একই সংস্থার নিয়ন্ত্রক ও অপারেটর ভূমিকা একসঙ্গে থাকলে স্বার্থের সংঘাতের সম্ভাবনা বাড়ে, বিশেষত যখন নিয়ন্ত্রক হিসেবে নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো সরাসরি নিজস্ব পরিচালনামূলক কার্যক্রমকে প্রভাবিত করে। এই ধরনের সংঘাত আন্তর্জাতিক সিভিল এভিয়েশন সংস্থার (ICAO) অডিটে পুনরায় উল্লেখিত হয়েছে।
ICAO কর্তৃক পরিচালিত অডিটে CAAB‑এর দ্বৈত দায়িত্বের ফলে স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা হ্রাসের ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছে, যা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও সেবা মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। অডিটের ফলাফল অনুসারে, নিয়ন্ত্রক ও অপারেটর ফাংশনকে আলাদা করা আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মেনে চলার অন্যতম মূল শর্ত হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
অধিকন্তু, ১৮ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ইম্পোর্ট কার্গো কমপ্লেক্সে ঘটিত অগ্নিকাণ্ডের তদন্তে গৃহস্থালী মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সেক্রেটারির নেতৃত্বে গঠিত অনুসন্ধান কমিটি একই বিভাজনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে। কমিটির রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে যে, অপারেশনাল দায়িত্বের সঙ্গে নিয়ন্ত্রক ক্ষমতা একত্রে থাকলে জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ও নিরপেক্ষ সিদ্ধান্ত গ্রহণে বাধা সৃষ্টি হতে পারে।
এইসব সুপারিশের আলোকে সরকার নীতি স্তরে বিভাজনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে এবং সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধিমালা শীঘ্রই প্রণয়ন বা সংশোধনের পরিকল্পনা করেছে। নতুনভাবে গঠিত অপারেটর সংস্থা এয়ার নেভিগেশন সেবা এবং বিমানবন্দর পরিচালনা দায়িত্বে নিবেদিত হবে, আর নিয়ন্ত্রক দায়িত্ব একটি স্বতন্ত্র সিভিল এভিয়েশন রেগুলেটরি বডিতে স্থানান্তরিত হবে।
প্রত্যাশা করা হচ্ছে যে, এই কাঠামোগত পরিবর্তন আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা পূরণে সহায়তা করবে এবং সিভিল এভিয়েশন সেবার গুণগত মান উন্নত করবে। স্বচ্ছ নিয়ন্ত্রক পরিবেশ গড়ে ওঠা বিদেশি বিনিয়োগ, এয়ারলাইন কোম্পানি এবং বিমানবন্দর সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য আকর্ষণীয় পরিবেশ তৈরি করবে। একই সঙ্গে, সেবা মানের উন্নতি গ্রাহক সন্তুষ্টি এবং দেশের বিমান চলাচলের সামগ্রিক দক্ষতা বৃদ্ধি করবে।
বাজারের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায়, অপারেশনাল ইউনিটের পৃথকীকরণ নতুন টেন্ডার ও পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের সুযোগ উন্মুক্ত করবে, যেখানে বেসরকারি সংস্থাগুলো এয়ার নেভিগেশন ও বিমানবন্দর ব্যবস্থাপনা ক্ষেত্রে অংশগ্রহণের সম্ভাবনা পাবে। তবে সংস্থার পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় মানবসম্পদ স্থানান্তর, প্রযুক্তিগত সমন্বয় এবং নিয়ন্ত্রক-অপারেটর সংযোগের সুষ্ঠু পরিচালনা নিশ্চিত করা চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে যাবে। সরকার যদি সময়মতো আইনগত কাঠামো সম্পন্ন করে এবং পর্যাপ্ত তদারকি ব্যবস্থা গড়ে তোলে, তবে এই রূপান্তর দেশের বিমান শিল্পকে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় এগিয়ে নিয়ে যাবে এবং দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক বৃদ্ধিতে অবদান রাখবে।



