ইরান সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে নিহত বিক্ষোভকারীদের পরিবারকে মিথ্যা স্বীকারোক্তিতে সই করতে বাধ্য করা হচ্ছে, এই অভিযোগ মার্কিন সরকারের পার্সি ভাষার অফিসিয়াল অ্যাকাউন্টে প্রকাশ করেছে। দাবি করা হচ্ছে, স্বীকারোক্তিতে মৃতরা ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের সমর্থক ছিলেন বলে উল্লেখ করতে হবে, না হলে দেহ পুড়িয়ে ফেলা হতে পারে।
মার্কিন সরকারের বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ইরান সরকার শোকাহত পরিবারগুলোকে চাপে রেখে এই মিথ্যা স্বীকারোক্তিতে সই করাচ্ছে। স্বীকারোক্তি না দিলে মৃতদেহ ফেরত না দিয়ে দহনের হুমকি দেওয়া হচ্ছে, যা পরিবারকে অমানবিক অবস্থায় ফেলে দিচ্ছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ইরান সরকারের নীতি দেশের অর্থনীতিকে ধ্বংসের পথে নিয়ে গেছে, ফলে সাধারণ মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণে অক্ষমতা দেখা দিচ্ছে। এই অর্থনৈতিক সংকটই জনগণকে প্রতিবাদে অংশ নিতে উদ্বুদ্ধ করেছে।
ইরান সরকারের শাসকরা জনগণের দুর্দশাকে নিজের স্বার্থের জন্য ব্যবহার করছেন, যা মানবিক নীতির বিরুদ্ধে। শোকাহত পরিবারগুলোকে মৃতদেহ পাওয়ার জন্য অনুপযুক্ত শর্ত ও চাহিদা মেনে নিতে বাধ্য করা হচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ডের লঙ্ঘন বলে বিবেচিত হচ্ছে।
ইরানের এই আচরণকে ঘৃণ্য ও অমানবিক বলে বর্ণনা করা হয়েছে, এবং শাসকরা জনগণের সঙ্গে চরম বর্বরতা প্রদর্শন করছেন বলে অভিযোগ তোলা হয়েছে। পরিবারগুলোকে তাদের প্রিয়জনের দেহ পাওয়ার জন্য অস্বাভাবিক শর্ত মেনে নিতে হচ্ছে, যা কোনো সীমা অতিক্রম করেছে।
অন্যদিকে, মার্কিন সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা সামাজিক মাধ্যমে একটি পোস্টে ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে আলোচনা দ্রুত শুরু করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, একটি ন্যায়সঙ্গত ও সমতাপূর্ণ চুক্তি সব পক্ষের জন্য উপকারী হবে এবং সময় দ্রুত শেষ হয়ে আসছে।
সেই পোস্টে ইরান যদি আলোচনার টেবিলে না বসে চুক্তি না করে, তবে পরবর্তী হামলা “আরও ভয়াবহ” হবে এমন হুমকি দেওয়া হয়েছে। এই বক্তব্যে ইরানের সম্ভাব্য পারমাণবিক কার্যক্রমের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এই হুমকির জবাবে জানান, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী মার্কিন সরকারের কোনো সম্ভাব্য আক্রমণের তাত্ক্ষণিক ও তীব্র প্রতিক্রিয়া দিতে প্রস্তুত। তিনি উল্লেখ করেছেন, দেশের নিরাপত্তা রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইরান সরকার এই মন্তব্যকে তার সার্বভৌমত্বের প্রতি হুমকি হিসেবে দেখছে এবং আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে তার অধিকার রক্ষার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে। একই সঙ্গে, ইরানের সামরিক প্রস্তুতি বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, যাতে কোনো বহিরাগত হস্তক্ষেপের মুখে দ্রুত সাড়া দেওয়া যায়।
এই ঘটনাগুলি ইরান ও মার্কিন সরকারের মধ্যে বিদ্যমান উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলতে পারে, বিশেষ করে পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে আলোচনার অগ্রগতি ও মানবাধিকার সংক্রান্ত অভিযোগের প্রেক্ষিতে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি এখন উভয় পক্ষের পদক্ষেপের দিকে কেন্দ্রীভূত, যাতে সংঘাতের সম্ভাবনা কমে এবং মানবিক পরিস্থিতি উন্নত হয়।
মার্কিন সরকারের এই প্রকাশনা ও হুমকি, এবং ইরানের কঠোর প্রতিক্রিয়া উভয়ই অঞ্চলের নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক গতিপথে প্রভাব ফেলবে বলে বিশ্লেষকরা সতর্ক করছেন। ভবিষ্যতে কোনো চুক্তি না হলে সামরিক উত্তেজনা বাড়তে পারে, আর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার সংস্থার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারে।
সারসংক্ষেপে, ইরান সরকার শোকাহত পরিবারকে মিথ্যা স্বীকারোক্তিতে বাধ্য করার অভিযোগের মুখে আন্তর্জাতিক সমালোচনার সম্মুখীন, আর মার্কিন সরকার পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে দ্রুত আলোচনা ও সম্ভাব্য সামরিক হুমকি প্রকাশ করেছে। উভয় পক্ষের এই পদক্ষেপের পরিণতি দেশীয় ও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



