জাতীয় সংসদীয় নির্বাচনের আগে, ১৩ই ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত ১৩তম জাতীয় সংসদীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি হিসেবে নির্বাচন কমিশন (ইসি) আজ দেশের সব প্রিন্টিং প্রেসকে পোস্টার ছাপা বন্ধ করার আদেশ জারি করেছে। এই নির্দেশনা দেশের সর্বত্রের প্রিন্টিং ইউনিটকে লক্ষ্য করে, যাতে নির্বাচনের পূর্বে কোনো পোস্টার ব্যবহার না হয় এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বজায় থাকে।
ইসি গত বছর ১০ই নভেম্বর দেশের নির্বাচনী ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একটি বিস্তৃত আচরণবিধি প্রণয়ন করে, যার মূল লক্ষ্য পোস্টার ব্যবহার নিষিদ্ধ করা এবং সামাজিক মিডিয়ায় প্রচার কার্যক্রমের জন্য স্পষ্ট নিয়ম নির্ধারণ করা। এই কোড অফ কন্ডাক্ট ২০২৫ সালের নির্বাচনী বিধি হিসেবে কার্যকর হয়েছে এবং সকল রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর জন্য বাধ্যতামূলক।
কোডের অধীনে, ইসি আজ প্রার্থীদের উদ্দেশ্যে একটি চিঠি প্রেরণ করে জানিয়েছে যে, নির্বাচনী প্রচার কার্যক্রম কঠোরভাবে আচরণবিধি মেনে চলতে হবে, বিশেষ করে ধারা ৭ অনুযায়ী কোনো পোস্টার ব্যবহার করা যাবে না। চিঠিটি ডেপুটি সেক্রেটারি মোহাম্মদ মোনির হোসেনের স্বাক্ষরে প্রকাশিত হয়েছে, যেখানে তিনি সকল প্রার্থীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন যে, পোস্টারবিহীন ক্যাম্পেইন চালিয়ে কোডের শর্ত পূরণ করা উচিত।
প্রেসকে পোস্টার উৎপাদন থেকে বিরত রাখার পাশাপাশি, ইসি সকল সংশ্লিষ্ট পক্ষকে অনুরোধ করেছে যে, ২০২৫ সালের নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। এই নির্দেশনা অনুসরণ না করলে আইনি পদক্ষেপের সম্ভাবনা উল্লেখ করা হয়েছে, যা নির্বাচনের ন্যায্যতা রক্ষার জন্য অপরিহার্য বলে বিবেচিত।
নির্দেশনা প্রেরণ করা হয়েছে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের কমিশনার, পাশাপাশি ঢাকা, চট্টগ্রাম ও খুলনা অঞ্চলের নির্বাচন অফিসার এবং দেশের সব ডেপুটি কমিশনারদের কাছে। এই বিস্তৃত চিঠিপত্রের মাধ্যমে ইসি নিশ্চিত করতে চায় যে, দেশের প্রতিটি প্রশাসনিক স্তরে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকরভাবে প্রয়োগ হবে।
এই পদক্ষেপের ফলে রাজনৈতিক দলগুলোকে প্রচার কৌশল পুনর্বিবেচনা করতে হবে; প্রচলিত পোস্টার ভিত্তিক প্রচার থেকে দূরে সরে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, রেডিও ও টেলিভিশন বিজ্ঞাপন ইত্যাদিতে বেশি জোর দিতে হবে। বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেছেন, এই পরিবর্তন নির্বাচনী পরিবেশকে আধুনিকীকরণে সহায়তা করবে এবং ভোটারদের কাছে পরিষ্কার ও নির্ভরযোগ্য তথ্য পৌঁছানোর সুযোগ বাড়াবে।
ইসি জানিয়েছে যে, পোস্টার উৎপাদন বন্ধের পরেও তারা নিয়মের লঙ্ঘন পর্যবেক্ষণ করবে এবং লঙ্ঘনকারী কোনো প্রিন্টিং প্রেস বা প্রার্থীকে কঠোর শাস্তি আরোপের সম্ভাবনা রয়েছে। তদুপরি, ইসি নির্বাচনের সময়কালে সকল পর্যবেক্ষণ দলকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে নির্দেশ দেবে, যাতে কোডের লঙ্ঘন দ্রুত সনাক্ত ও মোকাবেলা করা যায়।
অবশেষে, ইসি জোর দিয়ে বলেছে যে, নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য এই ধরনের কঠোর পদক্ষেপ অপরিহার্য। ১৩ই ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত নির্বাচনের আগে পোস্টারবিহীন ক্যাম্পেইন চালিয়ে সকল প্রার্থীর সমান সুযোগ নিশ্চিত করা হবে, যা দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি আস্থা বাড়াবে।



