লালমনিরহাটের পাটগ্রাম রেলস্টেশনে বৃহস্পতিবার প্রায় সকাল ছয়টায় একটি ট্রেনের ধাক্কায় ৩০ বছর বয়সী মুন্না নামের যুবক প্রাণ হারিয়েছেন। ভোরের ফজরের নামাজ শেষ করে তিনি রেললাইন পার করার সময় ঘটনার সূত্রপাত হয়। স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানিয়েছে, বুড়িমারী থেকে লালমনিরহাটগামী একটি লোকাল ট্রেন রেলস্টেশনে প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে তিনি ট্রেনের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন।
মুন্না পাটগ্রাম চৌরঙ্গীর কাপড় ব্যবসায়ী খোকনের পুত্র, স্থানীয় ব্যবসায়িক পরিবারে জন্মগ্রহণকারী। তার পরিবার গৃহস্থালি ব্যবসা চালাত এবং স্থানীয় বাজারে পরিচিত। এই যুবকটি তার পরিবারের একমাত্র সন্তান হিসেবে পরিচিত ছিল এবং তার অকাল মৃত্যুর শোক পুরো গ্রামজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে।
সকালবেলায় ফজরের নামাজের পর মুন্না রেলস্টেশনের আশেপাশে ঘুরে বেড়াতে গিয়েছিলেন। ট্রেনের আগমনের সময় তিনি রেললাইন পার করার চেষ্টা করেন, তবে ট্রেনের গতি ও সিগন্যালের কারণে তিনি সময়মতো সরে যেতে পারেননি। ট্রেনের ধাক্কা পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তিনি গুরুতরভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হন এবং মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
দুর্ঘটনা ঘটার পর কাছাকাছি থাকা কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করেন। আহত অবস্থায় তিনি স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে উপস্থিত চিকিৎসক দ্রুত তার অবস্থার মূল্যায়ন করে জানিয়ে দেন যে, গুরুতর আঘাতের ফলে তার জীবন রক্ষা করা সম্ভব নয় এবং তিনি মৃত ঘোষণা করা হয়।
পাটগ্রাম রেলস্টেশনের স্টেশন মাস্টার নুর আলম জানান, দুর্ঘটনার তথ্য সঙ্গে সঙ্গে রেলওয়ে পুলিশ (GRP)কে জানানো হয়েছে। রেলওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
পাটগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ নাজমুল হোসেনও ঘটনাটির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, রেলওয়ে পুলিশকে বিষয়টি জানানো হয়েছে এবং তারা যথাযথ তদন্তের পর প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেবে। তিনি উল্লেখ করেন যে, রেলওয়ে নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘনের সম্ভাব্য দিকগুলোও তদন্তের আওতায় থাকবে।
বর্তমানে রেলওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে ফরেনসিক দল পাঠিয়ে ট্রেনের গতি, সিগন্যাল সিস্টেম এবং রেললাইন পার হওয়ার সময়ের ভিডিও রেকর্ড সংগ্রহ করছে। এছাড়া, ট্রেনের ড্রাইভার ও স্টেশন কর্মীদের বিবৃতি নেওয়া হচ্ছে যাতে দুর্ঘটনার কারণ নির্ণয় করা যায়।
অনুসন্ধানের ফলাফল অনুযায়ী রেলওয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থার কোনো ত্রুটি থাকলে তা সংশোধন করা হবে এবং ভবিষ্যতে অনুরূপ ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে অতিরিক্ত সতর্কতা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষও রেললাইন পার করার সময় সঠিক নিরাপত্তা নির্দেশনা অনুসরণ করার গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করেছে।
দুর্ঘটনা ঘটার পর স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে রেললাইন পার হওয়ার সময় সতর্কতা বজায় রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে নিরাপত্তা চিহ্ন ও সিগন্যালের যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করা হবে বলে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। এই দুঃখজনক ঘটনার মাধ্যমে রেললাইন পার হওয়ার সময় সঠিক আচরণ ও আইনগত বিধি মেনে চলার প্রয়োজনীয়তা আবারও স্পষ্ট হয়েছে।



