নেটফ্লিক্সের রেজেন্সি ড্রামা ‘ব্রিজারটন’ এর চতুর্থ সিজন সম্প্রচারের সঙ্গে সঙ্গে, শোটি নারী যৌন অভিজ্ঞতা সম্পর্কে সামাজিক নিষেধাজ্ঞা তুলে ধরেছে। সিরিজটি রেজেন্সি যুগের উচ্চবিত্ত সমাজের গোপন দিকগুলোকে পুনরায় বিশ্লেষণ করে, বিশেষত পুরুষ ও নারীর যৌন জ্ঞানগত পার্থক্যকে কেন্দ্র করে।
সিজনের প্রধান চরিত্রে ফিরে আসে ফ্রান্সেসকা নি ব্রিজারটন, যাকে হ্যানা ডড অভিনয় করেছেন, এবং তার স্বামী জন স্টার্লিং, যাকে ভিক্টর আলি চিত্রিত করেছেন। দুজনই কিলমার্টিনের আর্ল ও লেডি, সম্প্রতি হাইল্যান্ডস থেকে মায়ফেয়ারে ফিরে এসে বিবাহিত জীবনের প্রথম দিনগুলো কাটাচ্ছেন।
ঐতিহাসিক রেজেন্সি সময়ে অবিবাহিত উচ্চবিত্ত নারীরা যৌন বিষয়ে অজ্ঞতা বজায় রাখতে বাধ্য হতেন, যেখানে পুরুষদের ইউরোপ ভ্রমণের মাধ্যমে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ ছিল। এই পার্থক্যই সিরিজের নতুন থিমের মূল ভিত্তি, যা ফ্রান্সেস্কার শোয়ার ঘরে ঘন ঘন সংঘর্ষের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
ফ্রান্সেস্কা এবং জনের শোয়ার সম্পর্কের অস্বস্তি স্পষ্ট হয়ে ওঠে, কারণ ফ্রান্সেস্কা স্বীকার করেন যে তিনি যৌন আনন্দের প্রকৃত অর্থ সম্পর্কে অপর্যাপ্ত তথ্য পেয়েছেন। তার এই উদ্বেগ তাকে তার নারীত্বের সহচরদের সঙ্গে পরামর্শ নিতে প্ররোচিত করে।
ফ্রান্সেস্কা তার মাতা, লেডি ব্রিজারটন (রুথ গেমেল অভিনীত) এবং শ্বশুরবাড়ির বোন পেনেলোপ (নিকোলা কাউগ্লিন অভিনীত) এর সঙ্গে আলোচনা করেন। এই নারী বন্ধুত্বের মাধ্যমে তিনি নিজের যৌন পরিচয় সম্পর্কে প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে চেষ্টা করেন।
হ্যানা ডড শোয়ের প্রযোজনা সংক্রান্ত এক সাক্ষাৎকারে উল্লেখ করেন, পুরুষদের যৌন অভিজ্ঞতা অর্জনের স্বাধীনতা এবং নারীদের তা থেকে বঞ্চিত থাকা অযৌক্তিক। তিনি বলেন, এমন পরিবেশে নারীর শারীরিক ও শারীরবৃত্তীয় জ্ঞান অর্জন কঠিন হয়ে যায়।
সিরিজে ফ্রান্সেস্কা এবং জনের মধ্যে এই বিষয়টি সরাসরি আলোচিত হয়। দুজনই একে অপরকে জানার প্রাথমিক পর্যায়ে থাকায়, উভয়েরই অন্তর্মুখী স্বভাবের কারণে সংলাপের ফাঁক তৈরি হয়। তারা দুজনই নিজেদের স্বাচ্ছন্দ্যের সীমা ছাড়িয়ে যেতে বাধ্য হয়।
শোয়ার দৃশ্যগুলোতে দেখা যায়, ফ্রান্সেস্কা তার মায়ের পরামর্শে নিজের দেহের সংবেদনশীলতা সম্পর্কে জানার চেষ্টা করেন, আর জনও নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করে সমঝোতার পথ খুঁজে বের করার চেষ্টা করেন। এই পারস্পরিক প্রচেষ্টা শোয়ার সম্পর্ককে নতুন দিক দেয়।
ব্রিজারটন সিরিজের পূর্ববর্তী সিজনগুলোতে উচ্চবিত্ত সমাজের প্রেম, বিবাহ ও গোপন সম্পর্কের চিত্রায়ন করলেও, এই সিজনে যৌন শিক্ষা ও স্ব-অন্বেষণের বিষয়কে সরাসরি তুলে ধরা হয়েছে। এটি দর্শকদের জন্য একটি নতুন দৃষ্টিকোণ উন্মোচন করে।
শোয়ের নির্মাতা দল উল্লেখ করেছেন, রেজেন্সি যুগের সামাজিক নিয়মগুলোকে আধুনিক দৃষ্টিকোণ থেকে পুনর্বিবেচনা করা তাদের লক্ষ্য। বিশেষত নারীর যৌন স্বায়ত্তশাসন ও আত্মবিশ্বাসের বিষয়টি তুলে ধরতে তারা এই থিমটি বেছে নিয়েছেন।
দর্শক ও সমালোচকরা ইতিমধ্যে এই নতুন থিমের প্রশংসা করছেন, কারণ এটি ঐতিহাসিক পটভূমিতে লুকিয়ে থাকা লিঙ্গ বৈষম্যের প্রশ্নকে উন্মোচিত করে। একই সঙ্গে, এটি নারীর যৌন স্বাস্থ্যের সচেতনতা বাড়াতে সহায়ক হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সারসংক্ষেপে, নেটফ্লিক্সের ব্রিজারটন সিজন ৪ রেজেন্সি সমাজের লুকায়িত লিঙ্গ বৈষম্যের ওপর আলোকপাত করে, যেখানে পুরুষের যৌন অভিজ্ঞতা স্বাভাবিক এবং নারীর তা থেকে বঞ্চনা অযৌক্তিক হিসেবে চিত্রিত হয়েছে। এই বিষয়টি শোয়ার ঘরে উভয় চরিত্রের সম্পর্কের গভীরতা বাড়িয়ে তুলেছে এবং দর্শকদের নতুন আলোচনার সূচনা করেছে।



