কানাডিয়ান সরকার শরণার্থী ও আশ্রয়প্রার্থীদের স্বাস্থ্যসেবার কিছু অংশ নিজে বহন করার ব্যবস্থা ১ মে থেকে কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নতুন নীতি অনুযায়ী রিফিউজিদের ডেন্টাল, অপটোমেট্রি এবং ফিজিওথেরাপি সেবার মোট খরচের ত্রিশ শতাংশ তাদের দায়িত্বে থাকবে। এই পরিবর্তন স্বাস্থ্যসেবার বাড়তি চাহিদা মোকাবেলা এবং দীর্ঘমেয়াদে প্রোগ্রামকে টেকসই করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।
নতুন সহ‑পেমেন্ট ব্যবস্থা ডেন্টাল চিকিৎসা, চোখের রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা এবং শারীরিক থেরাপি সেবার ওপর প্রযোজ্য। সংশ্লিষ্ট সেবার মোট বিলের ত্রিশ শতাংশ শরণার্থী ও আশ্রয়প্রার্থীদের নিজস্ব অর্থে পরিশোধ করতে হবে, বাকি অংশ সরকার বহন করবে।
কানাডিয়ান সরকার উল্লেখ করেছে যে, স্বাস্থ্যসেবার চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং সম্পদের সীমাবদ্ধতা বিবেচনা করে সহ‑পেমেন্ট মডেল প্রয়োগ করা প্রয়োজন। এই ব্যবস্থা ভবিষ্যতে স্বাস্থ্যসেবা প্রোগ্রামকে আর্থিকভাবে স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রায় ছয় লাখ তেইশ হাজার শরণার্থী ও আশ্রয়প্রার্থী এই স্বাস্থ্যসেবা পরিকল্পনার আওতায় ছিলেন, যার জন্য মোট ব্যয় প্রায় আটশো ছিয়ানব্বই মিলিয়ন ডলার হয়েছে। নতুন নীতি এই ব্যয়ের অংশকে কমিয়ে আনার উদ্দেশ্যেও গৃহীত হয়েছে।
ইতিহাসে ২০১২ সালে কনজারভেটিভ শাসনকালে শরণার্থীদের স্বাস্থ্যসেবা সীমিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, যা পরবর্তীতে আদালত “অমানবিক” বলে বাতিল করে দেয়। সেই রায়ের পর লিবারেল সরকার ক্ষমতায় এসে শরণার্থীদের পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যসেবা পুনরায় চালু করে।
বর্তমান কানাডিয়ান সরকার অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সাধারণ জনগণের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে বিভিন্ন নীতি গ্রহণ করেছে। স্বাস্থ্যসেবার নতুন সহ‑পেমেন্ট ব্যবস্থা এই বৃহত্তর কৌশলের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যদিও এর প্রভাব নিয়ে জনমত বিভক্ত।
সাধারণ জনগণের মধ্যে নতুন নীতির প্রতি মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। কিছু নাগরিক স্বাস্থ্যসেবার টেকসইতা নিশ্চিত করার জন্য এই পদক্ষেপকে সমর্থন করছেন, অন্যদিকে কিছু মানুষ শরণার্থীদের প্রতি সমর্থন কমে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক শরণার্থী জানান, সহ‑পেমেন্ট ব্যবস্থা দীর্ঘমেয়াদে চালু থাকলে কানাডায় আশ্রয় নেওয়ার আগ্রহ কমে যেতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন, উচ্চ খরচ শরণার্থীদের জন্য অতিরিক্ত আর্থিক বোঝা সৃষ্টি করবে।
বিশ্লেষকরা সতর্ক করছেন, যদি শরণার্থীদের স্বাস্থ্যসেবার অংশীদারিত্ব বাড়ে, তবে কানাডিয়ান সরকারকে আন্তর্জাতিক মানবিক দায়িত্বের সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রাখতে হবে। নতুন নীতি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার নজরে আসতে পারে।
রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায়, কানাডিয়ান সরকারের এই পদক্ষেপ অভ্যন্তরীণ বাজেট চাপ কমাতে এবং স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার দীর্ঘমেয়াদী স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে চায়। তবে শরণার্থী সম্প্রদায়ের অসন্তোষ সরকারকে ভবিষ্যতে নীতি সংশোধনের দিকে ধাবিত করতে পারে।
পরবর্তী সময়ে সরকার কীভাবে এই সহ‑পেমেন্ট নীতি বাস্তবায়ন করবে এবং শরণার্থীদের স্বাস্থ্যসেবার গুণগত মান বজায় রাখবে, তা রাজনৈতিক আলোচনার মূল বিষয় হয়ে দাঁড়াবে। নতুন নীতির প্রভাব পর্যবেক্ষণ করে ভবিষ্যতে সংশোধনী বা অতিরিক্ত সহায়তা ব্যবস্থা গৃহীত হতে পারে।



