অস্ট্রিয়ার পরিচালক অ্যাড্রিয়ান গয়িগিঙ্গার পরিচালিত ‘ফোর মাইনাস থ্রি’ (জার্মান শিরোনাম Vier Minus Drei) বেরলিন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের প্যানোরামা বিভাগে বিশ্বপ্রদর্শনী পাচ্ছে। চলচ্চিত্রটি বাস্তব ঘটনার ওপর ভিত্তি করে তৈরি এবং পরিবার, মৃত্যু, শোক, আশা ও হাসির মিশ্রণকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে।
গয়িগিঙ্গার এই কাজের জন্য অস্ট্রিয়ার ২০১০ এন্টারটেইনমেন্ট এবং জার্মানির গিগ্যান্টেন ফিল্মের সঙ্গে যৌথভাবে প্রযোজনা করেছেন। পরিচালক নিজে ছবির দায়িত্বে ছিলেন এবং প্রযোজনা দলেও পিটার ওয়াইল্ডলিং, গেরিট ক্লেইন, মার্টিন ফেইল ও ডেভিড স্টোলিঙ্গার অন্তর্ভুক্ত।
চলচ্চিত্রের চিত্রনাট্য সেনাদ হালিলবাশিচ লিখেছেন; তিনি একই নামের বেস্টসেলিং উপন্যাসের ওপর ভিত্তি করে স্ক্রিপ্ট তৈরি করেছেন। উপন্যাসটি বারবারা পাখল‑এবারহার্টের লেখা এবং তার বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে অনুপ্রাণিত।
প্রধান ভূমিকায় অস্ট্রিয়ার অভিনেত্রী ভ্যালেরি প্যাচনার অভিনয় করেছেন, যিনি ‘দ্য স্টোরিজ’ ও ‘এ গহিডেন লাইফ’ ইত্যাদি ছবিতে পরিচিত। তার সঙ্গী হেলি চরিত্রে রবার্ট স্টাডলবার অভিনয় করছেন; দুজনেই পেশাদার ক্লাউন হিসেবে কাজ করেন এবং দুই সন্তানসহ একটি রঙিন জীবনযাপন করে। এছাড়াও স্টেফানি রেইনস্পারগার, হ্যান্নো কোফ্লার ও রোনাল্ড জেহরফেল্ড ছবিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।
গল্পটি একটি দুঃখজনক দুর্ঘটনা দিয়ে শুরু হয়; বারবারা হেলি এবং তাদের দুই সন্তানকে গাড়ি দুর্ঘটনায় হারিয়ে ফেলেন। এই একঘাতী শোকের পরেও তিনি হাসি ও মানবিকতা বজায় রাখার চেষ্টা করেন। তার জীবনের রঙিন দিক—ক্লাউন হিসেবে পারফরম্যান্স—এবং অন্ধকার মুহূর্তের মধ্যে সমন্বয় খুঁজে বের করা ছবির মূল থিম।
চলচ্চিত্রটি শোকের গভীরতা, স্মৃতির জটিলতা এবং পুনরুজ্জীবনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করে। হেলির অদৃশ্যতা সত্ত্বেও বারবারা হাসি ও আশার মাধ্যমে নিজের অস্তিত্ব পুনর্নির্মাণের পথ খুঁজে বের করার চেষ্টা করেন। এই প্রক্রিয়ায় ক্লাউন হিসেবে তার কাজের রূপক অর্থও প্রকাশ পায়, যা দর্শকের হৃদয়ে গভীর ছাপ ফেলবে।
গয়িগিঙ্গার পরিচালক ছবির স্ক্রিপ্ট প্রথম দেখার সময়ই নিজের দ্বিতীয় সন্তানের জন্মের মুহূর্তে এটি পড়েছিলেন। তিনি উল্লেখ করেন, একসঙ্গে দুই সন্তান হারানোর কল্পনা তাকে প্রাথমিকভাবে অতিরিক্ত ভারী লাগলেও, হালিলবাশিচের প্রথম খসড়া তাকে গল্পের গভীরতা বুঝতে সাহায্য করে।
বেরলিন চলচ্চিত্র উৎসবে প্যানোরামা বিভাগে এই চলচ্চিত্রের স্থান পাওয়া মানে আন্তর্জাতিক দর্শকদের সামনে অস্ট্রিয়ান ও জার্মান সিনেমার সমন্বয় উপস্থাপন করা। উৎসবের পরিবেশে এই ধরনের মানবিক ও আবেগময় গল্পগুলোকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়, ফলে ‘ফোর মাইনাস থ্রি’কে বিশাল মনোযোগের আশা করা যায়।
দর্শকরা যখন এই চলচ্চিত্রে প্রবেশ করবেন, তখন সম্ভবত টিস্যুর বাক্স হাতে রাখবেন; কারণ গল্পের গতি শোকের গভীরতা ও হাসির হালকা ছোঁয়া একসাথে উপস্থাপন করে। তবে এই মিশ্রণই ছবিটিকে আলাদা করে, যা পরিবারিক ক্ষতি ও পুনরুদ্ধারের পথে মানবিক শক্তিকে তুলে ধরে। শেষ পর্যন্ত, বারবারার যাত্রা আমাদেরকে স্মরণ করিয়ে দেয় যে অন্ধকারের পরেও হাসি ফিরে আসতে পারে, এবং জীবনের নতুন রঙে রাঙার সুযোগ থাকে।



