শেরপুরে গত সন্ধ্যায় সংঘটিত হিংসাত্মক সংঘর্ষে জামায়াত-এ-ইসলামি নেতা মারা যাওয়ার খবর শোনা মাত্রই অস্থায়ী সরকার গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ৩ জানুয়ারি সন্ধ্যা ৯:৪৫ টায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে মৃত ঘোষিত হন ৪২ বছর বয়সী মাওলানা মোঃ রেজাউল করিম, যিনি শেরপুরের শ্রীবর্দি উপজেলা ইউনিটের সচিব ছিলেন।
অধিকর্তা প্রধানের প্রেস বিভাগ থেকে প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, শেরপুরে ঘটিত হিংসা “সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য এবং গভীরভাবে দুঃখজনক” এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে আইনের শিকারে আনা হবে।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, স্থানীয় পুলিশ ঘটনাস্থলে তদন্ত শুরু করেছে এবং জেলা জুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। তদন্তের আওতায় গৃহীত প্রমাণের ভিত্তিতে অপরাধী সনাক্ত করে দ্রুত গ্রেফতার করা হবে।
দুই সপ্তাহের মধ্যে জাতীয় নির্বাচনের দিন আসন্ন হওয়ায় সরকার সব রাজনৈতিক দলকে, বিশেষ করে বিএনপি ও জামায়াত-এ-ইসলামি দলকে, দায়িত্বশীল নেতৃত্ব প্রদর্শন এবং সমর্থকদের মধ্যে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আহ্বান জানিয়েছে।
বিবৃতিতে জোর দিয়ে বলা হয়েছে, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সহিংসতা, হুমকি বা প্রাণহানি কোনো স্থান পায় না। এই ধরনের কাজ নির্বাচনী পরিবেশকে ক্ষুণ্ন করে এবং দেশের ভবিষ্যৎকে ঝুঁকিতে ফেলে।
সকল রাজনৈতিক দল, নেতৃবৃন্দ ও নির্বাচনী প্রচারকেও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ রক্ষা, আইন শাসন মান্য করা এবং ভোটারদের সঙ্গে গঠনমূলক সংলাপ বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সরকারের এই অবস্থান পুনরায় নিশ্চিত করেছে যে, স্বাধীন, ন্যায়সঙ্গত ও স্বচ্ছ নির্বাচন নিশ্চিত করার জন্য শৃঙ্খলা ও শান্তি অপরিহার্য।
মাওলানা রেজাউল করিমের মৃত্যু ঘটার আগে তিনি এবং প্রায় পঞ্চাশজন জামায়াত-এ-ইসলামি কর্মী ও সমর্থকরা বিএনপি কর্মীদের সঙ্গে সংঘাতে গুরুতর আঘাত পেয়েছিলেন। রেজাউল এবং দুইজন সহযোদ্ধা, আমিনুল ইসলাম ও মাওলানা তাহিরুল ইসলাম, হাসপাতালে ভর্তি হন; রেজাউল শেষ পর্যন্ত মৃত্যুবরণ করেন, আর তাহিরুলকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা পাঠানো হয়েছে।
সাক্ষী ও স্থানীয়দের মতে, সংঘর্ষের মূল কারণ ছিল ঝিনাইগাটি উপজেলা মিনি স্টেডিয়ামের মাঠে একটি অনুষ্ঠানের আসন বণ্টন নিয়ে মতবিরোধ। বিকেল ৩ টার দিকে পরিস্থিতি দ্রুত উত্তেজিত হয়ে হিংসায় রূপ নেয়।
স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, এই হিংসাত্মক ঘটনার ফলে কমপক্ষে পঁয়ষট্টি জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে বেশিরভাগই স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, কিছু গুরুতর আঘাতের শিকারকে বিশেষায়িত চিকিৎসা কেন্দ্রেও পাঠানো হয়েছে।
সরকারের বিবৃতি অনুসারে, শেরপুরে নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি বাড়ানো হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এমন কোনো ঘটনা রোধে অতিরিক্ত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। নির্বাচনের পূর্বে শান্তি বজায় রাখা এবং সকল রাজনৈতিক গোষ্ঠীর সমন্বিত প্রচেষ্টা দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার সুষ্ঠু পরিচালনার জন্য অপরিহার্য বলে জোর দেওয়া হয়েছে।



