স্বাস্থ্য ও লাইফস্টাইল কোচ নায়মা হাসান ডায়ানা, নিজের শৈশবের ওজন বৃদ্ধি ও ক্লান্তি সমস্যার সঙ্গে লড়াই করে আজকের দিনে স্বাস্থ্যকর খাবারের ভুল ধারণা দূর করছেন। তার গল্পটি কিশোর বয়স থেকে শুরু হয়, যখন তিনি অজানা ওজন বাড়া, শারীরিক ক্লান্তি এবং স্বাস্থ্যের অস্বচ্ছতা নিয়ে সংগ্রাম করছিলেন।
কিশোরাবস্থায় তিনি কোনো পেশাদার দিকনির্দেশনা ছাড়াই ম্যাগাজিন ও টেলিভিশনের তথ্যের ওপর নির্ভর করে ডায়েটের চেষ্টা করতেন, তবে ফলাফল কখনোই স্থায়ী হয়নি। বছর পর বছর একই পদ্ধতি পুনরাবৃত্তি করেও ওজন কমাতে পারছিলেন না, ফলে তার আত্মবিশ্বাস ক্ষয়প্রাপ্ত হচ্ছিল।
কম্পিউটার সায়েন্সে স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের পর তিনি একটি সফটওয়্যার কোম্পানিতে কাজ শুরু করেন। চাকরির প্রথম বছরেই তার স্বাস্থ্যের অবস্থা আরও খারাপ হয়ে যায়; তিনি দিন দিন দুর্বল বোধ করতেন, ঘুমের পরেও ক্লান্তি কাটছিল না এবং তীব্র পিঠের ব্যথা অনুভব করতেন। ওজন ধারাবাহিকভাবে বাড়তে থাকায় তিনি উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন।
পরবর্তীতে ডায়ানা পলিসিস্টিক ওভারিয়ান সিনড্রোম (PCOS) রোগ নির্ণয় করেন, যা তার দীর্ঘ সময়ের ডায়েট ব্যর্থতার মূল কারণ হিসেবে প্রকাশ পায়। তিনি জানান, একই পদ্ধতি অন্যদের জন্য কাজ করলেও তার ক্ষেত্রে হরমোনাল সমস্যার কারণে ফলাফল আসেনি। এই রোগের সঠিক জ্ঞান তাকে নিজের স্বাস্থ্যের পুনর্গঠন শুরু করতে সাহায্য করে।
ডায়ানা নিজেকে পুষ্টিবিদ ও লাইফস্টাইল কোচের মধ্যে পার্থক্য স্পষ্ট করে বলেন। তিনি উল্লেখ করেন, পুষ্টিবিদরা ক্লিনিক্যাল দৃষ্টিকোণ থেকে কাজ করেন, যেখানে তিনি মানসিকতা, দৈনন্দিন অভ্যাস এবং জীবনধারার পরিবর্তনের ওপর জোর দেন। তার কাজের মূল লক্ষ্য হল ক্লায়েন্টের সঙ্গে সমানভাবে কাজ করা, যাতে পরিবর্তনটি টেকসই হয়।
একটি কঠোর ডায়েটের অভিজ্ঞতা তার দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দেয়। তিনি তিন থেকে চার মাসের জন্য কঠোর ডায়েট অনুসরণ করে কিছু ফলাফল পেয়েছিলেন, তবে পরে তিনি নিজেকে জিজ্ঞাসা করেন, “এখন কী হবে? কীভাবে এই পরিবর্তনকে দৈনন্দিন জীবনে সংযুক্ত করা যায়?” এই প্রশ্নই তাকে আরও টেকসই পদ্ধতির সন্ধানে চালিত করে।
ডায়ানা প্রিসিশন নিউট্রিশন থেকে সার্টিফাইড নিউট্রিশন কোচ এবং ন্যাশনাল একাডেমি অফ স্পোর্টস মেডিসিন (NASM) থেকে সার্টিফাইড পার্সোনাল ট্রেইনার হিসেবে প্রশিক্ষণ অর্জন করেছেন। তার প্রশিক্ষণে নিরাপদ ও কার্যকরী ব্যায়াম, বৈজ্ঞানিক পুষ্টি এবং অনলাইন কোচিং দক্ষতা অন্তর্ভুক্ত, যা তাকে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ক্লায়েন্টদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে সক্ষম করে।
ক্লায়েন্টদের সঙ্গে কাজ করার সময় তিনি প্রায়শই একই ভুল ধারণা শুনেন: “স্বাস্থ্যকর খাবার মানে সব কার্বোহাইড্রেট বাদ দেয়া” বা “ক্যালোরি গণনা ছাড়া কোনো ডায়েট কার্যকর নয়”। ডায়ানা ব্যাখ্যা করেন, স্বাস্থ্যকর খাবার মানে পুষ্টিকর উপাদানগুলোর সুষম গ্রহণ, অতিরিক্ত সীমাবদ্ধতা নয়।
তার কোচিং পদ্ধতি বৈজ্ঞানিক গবেষণার ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে, যেখানে ব্যক্তিগত চাহিদা ও শারীরিক সক্ষমতা বিবেচনা করে খাবার পরিকল্পনা ও ব্যায়াম রুটিন তৈরি করা হয়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, নিরাপদ ও বাস্তবিক গতিবিধি, যথাযথ বিশ্রাম এবং মানসিক স্বাস্থ্যের সমন্বয়ই দীর্ঘমেয়াদী সাফল্যের চাবিকাঠি।
ডায়ানা পাঠকদের জন্য প্রধান পরামর্শ হল, দ্রুত ফলাফল অর্জনের চেয়ে ধারাবাহিক এবং টেকসই অভ্যাস গড়ে তোলা। তিনি সুপারিশ করেন, অতিরিক্ত সীমাবদ্ধ ডায়েটের পরিবর্তে ছোট ছোট পরিবর্তন করে খাবারের গুণমান ও পরিমাণে মনোযোগ দেওয়া উচিত। এছাড়া, স্বাস্থ্যের কোনো সমস্যার ক্ষেত্রে পেশাদার পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
শেষে ডায়ানা প্রশ্ন উত্থাপন করেন, “আপনি কি আপনার খাবারের পছন্দে দীর্ঘমেয়াদী পরিবর্তন আনতে প্রস্তুত?” এই প্রশ্নটি পাঠকদেরকে নিজের অভ্যাস পুনর্বিবেচনা করতে এবং স্বাস্থ্যকর জীবনধারার দিকে অগ্রসর হতে উৎসাহিত করে।



