দিল্লি হাই কোর্ট বৃহস্পতিবার সমীর ওয়াঙ্কহেডের মানহানি মামলাকে প্রত্যাখ্যান করেছে, যেখানে তিনি আর্যন খান পরিচালিত নেটফ্লিক্স সিরিজ The Ba***ds of Bollywood‑এ নিজেকে কল্পিত চরিত্রের মাধ্যমে চিত্রিত হওয়ার অভিযোগ তুলেছিলেন। আদালত মামলাটির বিচারিক ক্ষমতা না থাকায় পিটিশনটি ফেরত পাঠিয়ে ওয়াঙ্কহেডকে উপযুক্ত আদালতে দায়ের করার নির্দেশ দিয়েছে। একই সময়ে সিরিজের স্ট্রিমিং বন্ধের জন্য চাওয়া অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা আবেদনও প্রত্যাখ্যান করা হয়।
বিচারিক আদেশ প্রদানকারী বিচারপতি পুরুষেন্দ্র কুমার কৌরভ উল্লেখ করেন যে, মামলাটি এমন একটি আদালতে দাখিল করা উচিত যেখানে বিষয়টির বিচারিক ক্ষমতা রয়েছে। তিনি সকল মুলতুবি আবেদনকেও বাতিল করে দেন এবং পিটিশনকারীকে সঠিক ফোরামে পুনরায় আবেদন করার সুযোগ দেন।
শুনানির সময় আদালত দুইটি মূল প্রশ্নের ওপর আলোকপাত করে: প্রথমত, দিল্লি হাই কোর্টের অধিক্ষেত্রের মধ্যে এই মামলাটি রাখা যায় কিনা; দ্বিতীয়ত, সিরিজে প্রদর্শিত কল্পিত চরিত্রটি যখন পুরো প্রেক্ষাপটে বিশ্লেষণ করা হয়, তখন তা কি সত্যিকারের মানহানি ঘটায় নাকি শিল্পসৃষ্টির সুরক্ষিত প্রকাশের আওতায় পড়ে।
সমীর ওয়াঙ্কহেডের পক্ষে জ্যেষ্ঠ অ্যাডভোকেট জে সাই দীপক উপস্থিত ছিলেন। শাহরুখ খানের প্রোডাকশন হাউস রেড চিলিজ এন্টারটেইনমেন্টের প্রতিনিধিত্ব করেন জ্যেষ্ঠ অ্যাডভোকেট নীরজ কিশন কৌল, আর নেটফ্লিক্সের পক্ষে জ্যেষ্ঠ অ্যাডভোকেট রাজীব নায়ার উপস্থিত ছিলেন।
ওয়াঙ্কহেড দাবি করেন যে সিরিজে একটি সরকারী কর্মকর্তা চরিত্রের মাধ্যমে তার গোপনীয় চিত্রায়ণ হয়েছে, যা তার সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। তিনি ২ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে মানহানি মামলায় আদালতে হাজির হন এবং এই চিত্রায়ণকে ২০২১ সালের কর্ডেলিয়া এমপ্রেস ক্রুজ ড্রাগ কেসের সঙ্গে যুক্ত করেন, যেখানে আর্যন খানও গ্রেফতার হয়েছিলেন কিন্তু পরে সব অভিযোগ থেকে মুক্তি পেয়েছিলেন।
রেড চিলিজ এন্টারটেইনমেন্টের পক্ষ থেকে যুক্তি দেয়া হয় যে সিরিজে সমীর ওয়াঙ্কহেডের কোনো সরাসরি উল্লেখ নেই এবং কর্ডেলিয়া ক্রুজ কেসের সঙ্গে কোনো সংযোগও নেই। তারা জোর দিয়ে বলেন যে এই কাজটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক এবং কেবল অতিরিক্ত উগ্র আইন প্রয়োগের ধারণা থেকে অনুপ্রাণিত।
আদালত শেষমেশ সিদ্ধান্তে পৌঁছায় যে মামলাটির বিচারিক ক্ষমতা দিল্লি হাই কোর্টের মধ্যে নেই এবং পিটিশনটি ফেরত পাঠিয়ে ওয়াঙ্কহেডকে উপযুক্ত আদালতে পুনরায় দায়ের করার সুযোগ দেয়। একই সঙ্গে সিরিজের স্ট্রিমিং বন্ধের জন্য চাওয়া অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা আবেদনও প্রত্যাখ্যান করা হয়, ফলে নেটফ্লিক্সে সিরিজটি কোনো বাধা ছাড়াই চলতে থাকবে।
এই রায় মানহানি দাবির পরবর্তী পথ নির্ধারণ করে না; ওয়াঙ্কহেড এখন অন্য কোনো আদালতে মামলাটি চালিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রাখেন। meanwhile, সিরিজটি দর্শকদের জন্য নেটফ্লিক্সে উপলব্ধ থাকবে এবং এই আইনি বিরোধের পরেও তার জনপ্রিয়তা বজায় থাকবে।
The Ba***ds of Bollywood, আর্যন খান পরিচালিত, একটি কাল্পনিক সঙ্গীত লেবেলের উত্থান-পতনকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। যদিও এটি কল্পকাহিনী হিসেবে প্রচারিত, তবে গল্পের কিছু অংশ বাস্তব জীবনের ঘটনার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ হওয়ায় বিভিন্ন পক্ষ থেকে সমালোচনা ও অভিযোগের মুখে পড়েছে।
২০২১ সালের কর্ডেলিয়া এমপ্রেস ক্রুজ ড্রাগ কেসে আর্যন খানসহ কয়েকজনের গ্রেফতার হয়েছিল, তবে পরবর্তীতে সব অভিযোগ থেকে মুক্তি পায়। এই ঘটনা জনমতকে উস্কে দিয়েছিল এবং শিল্প জগতে নানা রকমের রেফারেন্সের জন্ম দিয়েছে, যা সিরিজের কাহিনীতে পরোক্ষভাবে প্রতিফলিত হতে পারে বলে অভিযোগ করা হয়।
আইনি বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন যে, শিল্পকর্মে মানহানি মামলায় মূল বিষয় হল তা কি বাস্তব তথ্যের ভিত্তিতে করা হয়েছে নাকি সৃজনশীল প্রকাশের অংশ। আদালতের এই রায় মূলত প্রক্রিয়াগত দিকের ওপর ভিত্তি করে, যা ভবিষ্যতে অনুরূপ মামলায় প্রভাব ফেলতে পারে।
এখন পর্যন্ত, নেটফ্লিক্সে সিরিজটি কোনো বাধা ছাড়াই চলতে থাকবে, আর সমীর ওয়াঙ্কহেডের মানহানি দাবি অন্য কোনো আদালতে পুনরায় দায়ের করা হলে তার ফলাফল নির্ধারিত হবে।



