নাইজের রাজধানী নাইমে-তে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পার্শ্ববর্তী এলাকায় রাতের অর্ধরাতের পর গুলিবর্ষণ ও তীব্র বিস্ফোরণ শোনা যায়। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, শবদগুলো হঠাৎই শুরু হয়ে প্রায় দুই ঘন্টা স্থায়ী হয়।
সাক্ষী ও ভিডিওতে দেখা যায়, বিমানবন্দরের নিকটবর্তী বায়ু প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অজানা প্রকল্পাইলের দিকে গুলি চালিয়ে প্রতিক্রিয়া জানায়। এই ঘটনার সময় আকাশে ধোঁয়া ও আলো দেখা গিয়েছিল, যা স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়ে দেয়।
প্রায় মধ্যরাতের পরেই পরিস্থিতি ধীরে ধীরে শান্ত হয় এবং দুই ঘন্টার মধ্যে গুলিবর্ষণ বন্ধ হয়ে যায়। বাসিন্দারা জানান, শবদ শূন্যে মিলিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এলাকায় স্বাভাবিকতা ফিরে আসে।
একজন সরকারি কর্মকর্তার মতে, বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং জনগণকে উদ্বিগ্ন হওয়ার প্রয়োজন নেই। তিনি অতিরিক্ত বিশদ না দিয়ে, নিরাপত্তা বাহিনীর কাজের প্রশংসা করে পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকার কথা জানান।
বিস্ফোরণ ও গুলিবর্ষণের সঠিক কারণ এখনও অজানা, এবং কোনো প্রাণহানি ঘটেছে কিনা তা নিশ্চিত করা যায়নি। সামরিক শাসনকেন্দ্রের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
ডিওরি হামানি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, যা নাইমে শহরের প্রায় ১০ কিলোমিটার (ছয় মাইল) দূরে অবস্থিত, একই সঙ্গে একটি বিমানবাহিনীর ঘাঁটি হিসেবেও কাজ করে। বিমানবন্দরের নিকটবর্তী এই ঘাঁটি দেশের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
নাইজের সামরিক সরকার, যা প্রতিবেশী বুর্কিনা ফাসো ও মালির মতোই জিহাদী গোষ্ঠীর সঙ্গে লড়াই করে চলেছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অঞ্চলে বেশ কয়েকটি মারাত্মক হামলার মুখোমুখি হয়েছে। এই গোষ্ঠীগুলোর কার্যক্রম দেশীয় নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে।
দেশটি ইউরেনিয়ামের প্রধান উৎপাদক, এবং আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানির জন্য বড় পরিমাণে ইউরেনিয়াম প্রস্তুত রয়েছে। তবে সামরিক শাসনকেন্দ্রের অধীনে খনি জাতীয়করণের পর, ফ্রান্সের সঙ্গে আইনি ও কূটনৈতিক বিরোধের কারণে একটি বিশাল ইউরেনিয়াম শিপমেন্ট বিমানবন্দরে আটকে রয়েছে।
সরকারি সূত্র জানিয়েছে, গুলিবর্ষণ ও ইউরেনিয়াম শিপমেন্টের মধ্যে কোনো সংযোগ আছে কিনা তা নির্ধারণের জন্য তদন্ত চলছে। এই বিষয়টি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও নিরাপত্তা উভয়ের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা করা হচ্ছে।
নাইজের বর্তমান শাসক আবদুরাহামান তিয়ানি, ২০২৩ সালের সামরিক অভ্যুত্থানে নির্বাচিত সিভিল প্রেসিডেন্টকে উৎখাত করে ক্ষমতা গ্রহণ করেন। তার শাসনামলে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক উভয় স্তরে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ বৃদ্ধি পেয়েছে।
অঞ্চলীয় দৃষ্টিকোণ থেকে, নাইমের এই অস্থিরতা পশ্চিম আফ্রিকায় নিরাপত্তা অবস্থা আরও জটিল করে তুলতে পারে। জিহাদী গোষ্ঠীর কার্যক্রম ও ইউরেনিয়াম রপ্তানির সঙ্গে যুক্ত কূটনৈতিক সমস্যাগুলো সমাধান না হলে, ভবিষ্যতে অনুরূপ ঘটনা পুনরাবৃত্তি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সামগ্রিকভাবে, বিমানবন্দরের নিকটে ঘটিত গুলিবর্ষণ ও বিস্ফোরণ সাময়িকভাবে নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে, তবে এর পেছনের কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে বিশ্লেষণ অব্যাহত রয়েছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা পরিস্থিতি ঘনিষ্ঠভাবে অনুসরণ করছেন এবং নিরাপত্তা ও বাণিজ্যিক স্বার্থের সুরক্ষার জন্য সমন্বিত পদক্ষেপের আহ্বান জানাচ্ছেন।



