ঢাকার মিরপুরের পল্লবী ও খিলখেত এলাকায় আজ প্রাতঃকালীন সময়ে দুটো স্বতন্ত্র ডাকাতি ঘটেছে, যার ফলে দুইজন পুরুষ আহত হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (ডিএমসিএইচ)-এ ভর্তি হয়েছেন। মিরপুরে ৪৫ বছর বয়সী মুদি দোকানের কর্মী মোহাম্মদ হোসেন দিপু, এবং খিলখেতে ২৮ বছর বয়সী নির্মাণ শ্রমিক মোঃ লিটন উভয়েই গুলিবিদ্ধ ও ছুরিকাঘাতের শিকার হন। দু’টি ঘটনার স্থান, সময় ও শিকারদের পরিচয় একই সূত্রে প্রকাশিত হয়েছে, এবং সংশ্লিষ্ট পুলিশ ক্যাম্পের ইনস্পেক্টর মোঃ ফারুক ঘটনাগুলি তদন্তের দায়িত্বে আছেন।
মিরপুরের পল্লবী এলাকায় প্রায় সকাল ৫:৩০ টার দিকে দিপু তার দোকানে কাজের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তখন দুই থেকে তিনজন পুরুষ এক মটরসাইকেলে এসে তার কাছ থেকে সব কিছু চায়, কিন্তু দিপু প্রতিরোধ করার মুহূর্তে গুলিবিদ্ধ হন। গুলিটি তার পায়ে আঘাত হানে, ফলে তার পা ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং তিনি তৎক্ষণাৎ রক্তক্ষরণে ভুগতে শুরু করেন।
দিপুর স্ত্রী আফ্রোজা আখতার জানান, দিপু ও তার পরিবার মিরপুর‑১২ নম্বর এলাকায় বসবাস করেন এবং তাদের বাড়ির তলায় একটি মুদি দোকান পরিচালনা করেন। গুলির সময় দিপুর ওয়ালেট থেকে প্রায় টাকার ১৭,০০০ টাকা এবং মোবাইল ফোন চুরি হয়। দিপু গুলির পর প্রথমে কুরমিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হন, তবে পরে তার অবস্থার তীব্রতা বিবেচনা করে ডিএমসিএইচ-এ স্থানান্তর করা হয়।
খিলখেতের ঘটনা প্রায় সকাল ৪:০০ টায় ঘটেছে, যখন লিটন ডিনাজপুরের গ্রাম থেকে ফিরে বাসে করে ঢাকায় পৌঁছেছিলেন। বাস থেকে নামার মুহূর্তে তিনজন অপরিচিত ব্যক্তি রেললাইন সংলগ্ন এলাকায় তাকে থামিয়ে, তার ব্যাগ, নগদ অর্থ এবং মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয় এবং ছুরিকাঘাত করে। লিটনের গলা ও কাঁধে আঘাত লেগে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর জরুরি শল্যচিকিৎসা করা হয়।
লিটনের সহকর্মী মোহসিন ইসলাম জানান, লিটন বাস থেকে নামার ঠিক পরই এই তিনজন অপরাধী তার দিকে এগিয়ে আসে এবং দ্রুত পালিয়ে যায়। লিটন আহত অবস্থায় ডিএমসিএইচ-এ ভর্তি হয়েছেন এবং বর্তমানে তার স্বাস্থ্যগত অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানানো হয়েছে।
উভয় ঘটনার প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট থানা স্টেশনে দাখিল করা হয়েছে। মিরপুরের ঘটনা মিরপুর থানায় এবং খিলখেতের ঘটনা খিলখেত থানায় রেজিস্টার করা হয়েছে। ইনস্পেক্টর ফারুক উল্লেখ করেন, উভয় মামলায় অপরাধীদের সনাক্তকরণ ও গ্রেফতার করার জন্য তদন্ত চলছে এবং প্রয়োজনীয় ফরেনসিক পরীক্ষা চালু করা হয়েছে।
পুলিশের মতে, গুলিবিদ্ধ ও ছুরিকাঘাতের অপরাধগুলো বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ধারা ৩৪১ (ডাকাতি) ও ধারা ৩৪২ (হিংসাত্মক ডাকাতি) অনুযায়ী দায়ের করা হবে। এখন পর্যন্ত সন্দেহভাজনদের কোনো সনাক্তকরণ করা যায়নি, তবে ক্যামেরা ফুটেজ ও সাক্ষ্য সংগ্রহের মাধ্যমে দ্রুত গ্রেফতার করা হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
দিপু ও লিটনের পরিবার বর্তমানে শোকাহত হলেও শারীরিকভাবে স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে। দুজনেরই চিকিৎসা খরচের জন্য হাসপাতালের তহবিল ও বীমা সুবিধা ব্যবহার করা হচ্ছে, এবং পরিবারকে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ নাগরিকদের সতর্কতা অবলম্বন করার আহ্বান জানিয়েছে, বিশেষ করে প্রাতঃকালীন সময়ে একা চলাচল বা অপ্রয়োজনীয় জায়গায় থামা থেকে বিরত থাকতে। মেরামত ও মোবাইল ফোনের মতো মূল্যবান সামগ্রী বহন করার সময় অতিরিক্ত সুরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ডিএমসিএইচের চিকিৎসা দল উভয় শিকারকে পর্যবেক্ষণাধীন রাখছে এবং প্রয়োজনীয় শল্যচিকিৎসা ও পুনর্বাসন সেবা প্রদান করছে। শিকারের স্বাস্থ্যের উন্নতি হলে হাসপাতাল থেকে ছাড়ার পরিকল্পনা করা হবে, তবে আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা বজায় থাকবে।
এই দুইটি ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে, ঢাকা শহরের নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুনর্বিবেচনা ও অতিরিক্ত পুলিশ পেট্রোল বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা তীব্রভাবে অনুভূত হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে শহরের বিভিন্ন এলাকায় নজরদারি বাড়াবে এবং সন্দেহজনক কার্যকলাপের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে।



