ইরাকের পার্লামেন্টে শিয়া জোটের সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী নুরি আল‑মালিকিকে আবারও প্রধানমন্ত্রী পদে মনোনীত করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের পর মার্কিন সরকার ইরান‑সমর্থিত গোষ্ঠী ক্ষমতায় এলে নিষেধাজ্ঞা আরোপের ইঙ্গিত দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের টুইটে ইরাকের নতুন সরকারকে আর কোনো আর্থিক সহায়তা না দেওয়া হবে বলে সতর্কতা প্রকাশ করা হয়েছে। নুরি আল‑মালিকির পুনরায় মনোনয়নের ফলে ইরাকের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।
ইরাকের শিয়া রাজনৈতিক জোটের কো‑অর্ডিনেশন ফ্রেমওয়ার্কের ঘোষণাপত্রে নুরি আল‑মালিকিকে প্রধানমন্ত্রী পদে পুনরায় প্রস্তাব করা হয়েছে। জোটের সদস্যরা তাকে দেশের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের জন্য উপযুক্ত প্রার্থী হিসেবে উল্লেখ করেছে। পার্লামেন্টে এই প্রস্তাবের জন্য বেশিরভাগ ভোট পাওয়া সত্ত্বেও, বিরোধী দলগুলো নুরির পূর্বের শাসনকালকে সমালোচনা করে তার পুনরায় ক্ষমতায় আসা বিরোধিতা করেছে।
নুরি আল‑মালিকি ২০১৪ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত ইরাকের শীর্ষমন্ত্রীর পদে ছিলেন, যখন দেশটি সেক্টরাল হিংসা ও নিরাপত্তা সংকটের মুখে পড়েছিল। তার শাসনকালকে ইরান‑সমর্থিত নীতি ও সামরিক অব্যবস্থাপনার জন্য দোষারোপ করা হয়। সেই সময়ে ইরাকের অর্থনৈতিক অবস্থা অবনতি, দারিদ্র্য বৃদ্ধি এবং মৌলিক সেবার ঘাটতি দেখা দেয়। এই ইতিহাসই আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নুরির পুনরায় মনোনয়নের ওপর সন্দেহের মূল কারণ।
মার্কিন সরকার নুরির পুনরায় মনোনয়নের পর দ্রুত মন্তব্য করে ইরান‑সমর্থিত গোষ্ঠী ক্ষমতায় এলে ইরাকের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপের সম্ভাবনা রয়েছে বলে সতর্কতা জানায়। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের টুইটে তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, যদি নুরি আল‑মালিকি আবার প্রধানমন্ত্রী হন, তবে মার্কিন আর্থিক ও সামরিক সহায়তা বন্ধ হবে। ট্রাম্পের এই মন্তব্য ইরাকের ভবিষ্যৎ নীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশ্লেষকরা সতর্কতা প্রকাশ করেছেন।
ট্রাম্পের টুইটে তিনি নুরির পূর্বের শাসনকে “খুবই খারাপ সিদ্ধান্ত” বলে সমালোচনা করেন এবং ইরাকের পুনরায় দারিদ্র্য ও বিশৃঙ্খলায় নিমজ্জিত হওয়ার সম্ভাবনা উল্লেখ করেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ধরণের সহায়তা আর প্রদান না করার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন, যা ইরাকের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ও নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের জন্য বড় ধাক্কা হতে পারে। এই ধরণের সরাসরি হুমকি ইরাকের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি করেছে।
নুরি আল‑মালিকি ট্রাম্পের মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে ইরাকের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে মার্কিন হস্তক্ষেপকে সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি যুক্তি দেন, ইরাকের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তগুলো আন্তর্জাতিক চাপের বদলে দেশের নিজস্ব স্বার্থ ও জনগণের চাহিদার ভিত্তিতে নেওয়া উচিত। নুরি এই অবস্থান থেকে ইরাকের স্বাধীনতা রক্ষার পাশাপাশি দেশের পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় স্বতন্ত্র নীতি নির্ধারণের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, যদি নুরি আল‑মালিকি পুনরায় প্রধানমন্ত্রী হন, তবে মার্কিন সরকার থেকে আর্থিক ও সামরিক সহায়তা বন্ধ হওয়া ইরাকের বাজেট ঘাটতি বাড়াবে এবং নিরাপত্তা গ্যাপকে তীব্র করবে। অন্যদিকে, ইরান‑সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর প্রভাব বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা ইরাকের বিদ্যমান সেক্টরাল বিভাজনকে আরও জটিল করতে পারে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টিতে ইরাকের রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা পুনরায় নির্ধারণের প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
পরবর্তী সপ্তাহে পার্লামেন্টে নুরি আল‑মালিকির মনোনয়ন নিয়ে ভোট অনুষ্ঠিত হবে। ভোটের ফলাফলই শেষ পর্যন্ত তার প্রধানমন্ত্রী পদে পুনরায় শপথ নেওয়ার সম্ভাবনা নির্ধারণ করবে। ভোটের আগে শিয়া জোটের মধ্যে এবং বিরোধী দলগুলোর মধ্যে তীব্র আলোচনার প্রত্যাশা করা হচ্ছে, যেখানে প্রতিটি দল নুরির ক্ষমতায় আসার সম্ভাব্য ঝুঁকি ও সুবিধা তুলে ধরবে।
ইরাকের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে নুরি আল‑মালিকির পুনরায় মনোনয়ন এবং মার্কিন সরকারের সতর্কতা একসাথে দেশের ভবিষ্যৎ নীতি, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা কাঠামোর ওপর গভীর প্রভাব ফেলবে। উভয় পক্ষের অবস্থান স্পষ্ট হওয়ায় ইরাকের নেতৃত্বের নির্বাচন প্রক্রিয়া আন্তর্জাতিক নজরে থাকবে এবং পরবর্তী পদক্ষেপগুলো দেশের স্থিতিশীলতা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



