রাজশাহী‑৪ (বাগমারা) আসনের নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সময় জামাতের কর্মী ও নেতা‑কর্মীকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগে তাঁতী দলের এক নেতার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। অভিযোগ অনুসারে নওশাদ মোল্লা (৩০), নরদাশ ইউনিয়নের হাটমাধনগর গ্রামবাসী, তাঁতী দলের উপজেলা শাখার নেতা হিসেবে হুমকি জানিয়েছেন। এই ঘটনার পর জামাতের প্রার্থী সমর্থনে বুধবার সন্ধ্যায় সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়।
অভিযোগের ভিত্তিতে নওশাদ মোল্লার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কথা বলেননি। নরদাশের স্থানীয় বাসিন্দা ও বিএনপি উপজেলা শাখার আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মোশারফ হোসেন মন্তব্য করেন, “রাজনীতির বক্তব্যে সহনশীলতা থাকা দরকার,” এবং নওশাদের পূর্বে আওয়ামী লীগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, পরে তিনি বিএনপিতে যোগ দেন বলে জানান।
নরদাশ ইউনিয়নের জামাতের সহসভাপতি আবদুল মান্নান সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে হুমকির অভিযোগ তুলে ধরেন। মান্নান জানান, তাঁতী দলের নেতার প্রকাশ্য হুমকি জামাতের কর্মী, সাধারণ মানুষ এবং ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে, যা সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য হুমকি স্বরূপ।
সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও বাগমারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুবুল ইসলাম জানান, এই বিষয়টি নিয়ে রাজশাহী‑৪ (বাগমারা) আসনের নির্বাচন অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে চিঠি পাঠানো হয়েছে, যাতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া যায়।
বাগমারা উপজেলা নির্বাচন অফিসের মতে, এই অভিযোগের পরবর্তী তদন্তের জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র ও ভিডিও প্রমাণ সংরক্ষণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে, নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা রক্ষার জন্য সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে আহ্বান জানানো হয়েছে।
রাজশাহী‑৪ (বাগমারা) আসনে বর্তমানে চারজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এদের মধ্যে বিএনপি থেকে ডিএমডি জিয়াউর রহমান এবং জামাত থেকে আবদুল বারী সরদার প্রার্থী হিসেবে তালিকাভুক্ত। উভয় দলের সমর্থক ও ভোটারগণ এই ঘটনার প্রভাব সম্পর্কে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
নওশাদ মোল্লার পূর্বের রাজনৈতিক পটভূমি সম্পর্কে জানা যায়, তিনি একসময় আওয়ামী লীগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং পরে বিএনপিতে যোগ দেন। তবে এই হুমকি মামলায় তার বর্তমান রাজনৈতিক সংযুক্তি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি।
ঘটনার পর, স্থানীয় প্রশাসন ও নির্বাচন কর্মকর্তারা উভয় দলের মধ্যে উত্তেজনা কমাতে এবং নির্বাচনী পরিবেশ শান্ত রাখতে তদবির করছেন। তারা উল্লেখ করেন, হুমকি বা সহিংসতার কোনো রূপই নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতাকে ক্ষুণ্ণ করতে পারে।
বাগমারা উপজেলার নির্বাচন অফিসের একটি বিবৃতি অনুযায়ী, হুমকি সংক্রান্ত অভিযোগের তদন্ত চলমান এবং প্রয়োজনীয় শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। এছাড়া, সকল প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়ানো হবে।
এই ঘটনার ফলে নির্বাচনী সময়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সম্পর্কের জটিলতা আবারও প্রকাশ পেয়েছে। বিশেষ করে, স্থানীয় স্তরে দলীয় নেতাদের মধ্যে পারস্পরিক বিরোধ ভোটারদের মনোভাবকে প্রভাবিত করতে পারে বলে বিশ্লেষকরা সতর্কতা প্রকাশ করেছেন।
অবশেষে, নির্বাচনী কমিশন এই ধরনের হুমকি মোকাবিলায় কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এবং সকল প্রার্থীকে আইনানুগভাবে প্রতিযোগিতা করতে আহ্বান জানিয়েছে। নির্বাচনের ফলাফল নির্ধারিত হলে, এই বিষয়টি আবার আলোচনার বিষয় হবে।



