ঢাকা, ২৯ জানুয়ারি ২০২৬ – জামাতের আমির এবং মার্কিন দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত আজ রাজধানীর একটি সরকারি ভবনে বৈঠক করেন। দুজনেই সরাসরি ঢাকা‑করাচি রুটে ১৪ বছর পর চালু হওয়া ফ্লাইটের গুরুত্ব ও আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের প্রেক্ষাপট নিয়ে আলোচনা করেন। বৈঠকটি দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির জন্য দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা বাড়ানোর লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকের প্রধান বিষয় ছিল দু’দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ককে শক্তিশালী করা এবং নতুন এয়ারলাইন সংযোগকে সমর্থন করা। উভয় পক্ষই উল্লেখ করেন যে সরাসরি ফ্লাইটটি বাণিজ্যিক ও মানবিক সংযোগের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এবং এর জন্য প্রায় ৩,০০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে। এই সংযোগের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে পণ্য, সেবা ও পর্যটন প্রবাহ দ্রুততর হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
জামাতের আমির বৈঠকে বলেন, “মার্কিন দূতাবাসের সঙ্গে আমাদের সহযোগিতা দেশের উন্নয়নে সহায়ক হবে এবং আমরা সকল আন্তর্জাতিক অংশীদারকে স্বাগত জানাই।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে জামাতের রাজনৈতিক লক্ষ্য দেশের স্থিতিশীলতা ও উন্নয়ন নিশ্চিত করা, এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
মার্কিন দূতাবাসের রাষ্ট্রদূতও একই রকম দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “যে সরকারই নির্বাচনে জয়লাভ করুক না কেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তার সঙ্গে কাজ করবে এবং পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে সম্পর্ককে এগিয়ে নেবে।” তিনি যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদী কূটনৈতিক নীতি এবং দক্ষিণ এশিয়ায় কৌশলগত অংশীদারিত্বের কথা উল্লেখ করেন।
বৈঠকের সময় আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের সময়সূচি ও প্রভাব নিয়ে আলোচনা হয়। দেশীয় রাজনৈতিক পরিবেশে জামাতের পাশাপাশি অন্যান্য প্রধান দলগুলোও ভোটারদের কাছে তাদের নীতি উপস্থাপন করছে। উভয় পক্ষই স্বীকার করেন যে নির্বাচনের ফলাফল দেশের ভবিষ্যৎ নীতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে, বিশেষ করে বাণিজ্য ও নিরাপত্তা ক্ষেত্রে।
মার্কিন দূতাবাসের প্রতিনিধিরা উল্লেখ করেন যে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বাংলাদেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও নিরাপদ পরিবেশ গুরুত্বপূর্ণ, যা বিনিয়োগ ও উন্নয়ন প্রকল্পের সুষ্ঠু বাস্তবায়নকে সহজ করবে। তারা এছাড়াও উল্লেখ করেন যে নতুন ফ্লাইটের মাধ্যমে বাংলাদেশি শ্রমিক ও ব্যবসায়িক সম্প্রদায়ের জন্য নিরাপদ ও দ্রুত ভ্রমণ ব্যবস্থা তৈরি হবে।
১৪ বছর পর ঢাকা‑করাচি রুটে সরাসরি ফ্লাইটের উদ্বোধন দেশের বিমান চলাচলের ইতিহাসে একটি মাইলফলক। এই রুটটি পূর্বে ২০১২ সালে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল এবং পুনরায় চালু হওয়া আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের নতুন দিগন্ত খুলে দেবে। ফ্লাইটটি সপ্তাহে তিনটি রাউন্ড ট্রিপ চালাবে এবং প্রথমে ঢাকা‑করাচি, পরে দুবাই ও কাতার মাধ্যমে অন্যান্য গন্তব্যে সংযোগ স্থাপন করবে।
অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে এই সংযোগের ফলে দু’দেশের বাণিজ্যিক পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে বলে অনুমান করা হচ্ছে। বিশেষ করে রপ্তানি পণ্যের মধ্যে পোশাক, চামড়া ও কৃষি পণ্য অন্তর্ভুক্ত, যা পাকিস্তানের বাজারে নতুন চাহিদা পাবে। একই সঙ্গে পাকিস্তানি পণ্যের বাংলাদেশে রপ্তানি, বিশেষ করে গৃহস্থালী সামগ্রী ও কাঁচামাল, বৃদ্ধি পাবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন যে এই ধরণের দ্বিপাক্ষিক উদ্যোগ নির্বাচনের পূর্বে উভয় দেশের সরকারকে ইতিবাচক ইমেজ প্রদান করতে পারে। তবে তারা সতর্ক করেন যে দীর্ঘমেয়াদী সহযোগিতা নিশ্চিত করতে নীতি ধারাবাহিকতা ও স্বচ্ছতা বজায় রাখতে হবে। উভয় পক্ষই এই বিষয়টি স্বীকার করে ভবিষ্যতে নিয়মিত সংলাপের মাধ্যমে সমন্বয় বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
বৈঠকের পর মার্কিন দূতাবাসের কর্মীরা এবং জামাতের দলীয় প্রতিনিধিরা পরবর্তী সপ্তাহে দু’দেশের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও পরিবহন বিভাগে সমন্বয় সভা করার পরিকল্পনা করেন। এই সভাগুলোতে ফ্লাইটের সময়সূচি, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং সম্ভাব্য বাণিজ্যিক চুক্তি নিয়ে বিশদ আলোচনা হবে। উভয় পক্ষই এই উদ্যোগকে দু’দেশের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন পর্যায় হিসেবে দেখছে।
সারসংক্ষেপে, আজকের বৈঠকটি কেবল কূটনৈতিক কথোপকথন নয়, বরং বাস্তবিক অর্থনৈতিক প্রকল্পের সূচনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সরাসরি ফ্লাইটের চালু হওয়া এবং নির্বাচনের নিকটবর্তী সময়ে উভয় দেশের পারস্পরিক স্বার্থের সমন্বয় ভবিষ্যতে আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার ভিত্তি গড়ে তুলবে।



