বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড ২৯ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত একটি সভার পরে সিদ্ধান্ত নেয় যে, জাতীয় দলের পুলের খেলোয়াড়দের জন্য ১ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু করে ৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত একটি ফিটনেস ও কন্ডিশনিং ক্যাম্প চালু করা হবে। বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দল অংশ না নেওয়ায় কোনো আন্তর্জাতিক ম্যাচের সময়সূচি না থাকায়, খেলোয়াড়দের শারীরিক ও মানসিক প্রস্তুতি বজায় রাখতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ক্যাম্পে টেস্ট, ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি দলসহ জাতীয় দলের সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য খেলোয়াড়দেরও অন্তর্ভুক্ত করা হবে। ক্যাম্পের চূড়ান্ত স্কোয়াড নির্ধারণের দায়িত্ব জাতীয় দলের নির্বাচক প্যানেলকে দেওয়া হয়েছে, যারা খেলোয়াড়দের ফিটনেস ও কন্ডিশনিং অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করবে।
ক্যাম্প সমাপ্তির পর, খেলোয়াড়দের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট দেওয়ার জন্য ছুটি প্রদান করা হবে। নির্বাচনের পর, ১৭ অথবা ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগ (বিসিএল) ওয়ানডে টুর্নামেন্ট শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই টুর্নামেন্টে চারটি দল অংশ নেবে; তিনটি দল জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের নিয়ে গঠিত হবে, আর চতুর্থ দল হবে হাই পারফরম্যান্স (এইচপি) ইউনিটের খেলোয়াড়দের নিয়ে।
বিসিএল ওয়ানডে লিগের ম্যাচগুলো রাজশাহী ও বগুড়া স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে, এবং ফাইনাল ম্যাচের জন্য মিরপুরকে সম্ভাব্য ভেন্যু হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। পূর্ববর্তী সভায় টুর্নামেন্টের নীতিগত দিকগুলি চূড়ান্ত করা হয়েছিল। প্রথমে অর্ধ-২৩ বয়সের খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণের পরিকল্পনা ছিল, তবে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশ না নেওয়ার ফলে পরিকল্পনা পরিবর্তন করে জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
কন্ডিশনিং ক্যাম্পটি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগই সংগঠিত করছে। ক্যাম্পের মূল লক্ষ্য হল খেলোয়াড়দের শারীরিক ফিটনেস বজায় রাখা, কোনো আঘাতের দ্রুত সেরে ওঠা নিশ্চিত করা এবং মানসিক দিক থেকে প্রস্তুত রাখা। এই সময়ে বিশেষজ্ঞ প্রশিক্ষক ও ফিজিওথেরাপিস্টদের সহায়তায় ব্যক্তিগত ও দলগত প্রশিক্ষণ সেশন চালানো হবে।
ক্যাম্পের সময়সূচি অনুযায়ী, প্রতিদিনের রুটিনে শারীরিক ব্যায়াম, স্ট্রেচিং, গতি প্রশিক্ষণ এবং মানসিক কন্ডিশনিং কর্মশালা অন্তর্ভুক্ত থাকবে। খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স রেকর্ড করা হবে এবং তা নির্বাচক প্যানেলকে সরবরাহ করা হবে, যাতে তারা টুর্নামেন্টের জন্য সর্বোত্তম স্কোয়াড গঠন করতে পারে।
নির্বাচক প্যানেল ক্যাম্পের অগ্রগতি মূল্যায়ন করে টুর্নামেন্টের জন্য চূড়ান্ত দল গঠন করবে। এতে টেস্ট, ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের পাশাপাশি উদীয়মান প্রতিভাদেরও সুযোগ দেওয়া হবে। ক্যাম্পের সমাপ্তি এবং নির্বাচনের পরের ছুটির সময়ে, খেলোয়াড়রা ভোটদান সম্পন্ন করে দ্রুত মাঠে ফিরে আসবে।
বিসিএল ওয়ানডে টুর্নামেন্টের সূচি নির্ধারিত হওয়ায়, ক্রিকেট ভক্তদের জন্য শীঘ্রই দেশীয় ক্রিকেটের উত্তেজনা ফিরে আসবে। চারটি দলে ভাগ হয়ে খেলোয়াড়দের পারস্পরিক প্রতিযোগিতা দেশের ক্রীড়া পরিবেশকে সক্রিয় রাখতে সহায়তা করবে।
এই উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড নিশ্চিত করতে চায় যে, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অংশ না নেওয়া সত্ত্বেও, দেশের ক্রিকেটাররা শারীরিক ও মানসিকভাবে সর্বোচ্চ প্রস্তুতিতে থাকবে এবং দেশীয় লিগে উচ্চমানের পারফরম্যান্স প্রদর্শন করতে সক্ষম হবে।



