মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বুধবার সেনেটের জনাকীর্ণ শোনানিতে জানিয়েছেন, ভেনেজুয়েলা সরকারের নতুন নেতৃত্ব ও মার্কিন সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলার প্রচেষ্টার ফলে বর্তমানে অতিরিক্ত সামরিক হস্তক্ষেপের কোনো প্রয়োজন নেই। তিনি উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক লক্ষ্য হল কেবল বিদ্যমান দূতাবাস রক্ষা করা এবং পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখা।
প্রথম জানুয়ারির শুরুর দিকে ভেনেজুয়েলা সরকারের প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেফতার করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়ার পর রুবিওকে প্রথমবারের মতো কংগ্রেসের প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়। সেই মুহূর্তে তিনি ভেনেজুয়েলা সরকারের পরিবর্তনশীল গতিপথ সম্পর্কে বিশদ ব্যাখ্যা দেন।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রুবিওকে নির্দেশ দেন, নতুন অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যেতে। রদ্রিগেজের সরকার যদি মার্কিন সরকারের চাহিদা মেনে না চলে, তবে অতিরিক্ত সামরিক পদক্ষেপের হুমকি পূর্বে প্রকাশ করা হয়েছিল।
মাদুরোকে গ্রেফতার করার পর রদ্রিগেজ ভেনেজুয়েলা সরকারের অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তার নেতৃত্বে ভেনেজুয়েলা সরকার ও মার্কিন সরকারের মধ্যে কূটনৈতিক সংলাপ পুনরায় শুরু হয়।
সেনেটের শোনানিতে রুবিও স্পষ্ট করে বলেন, ট্রাম্প কোনো বিকল্প পরিকল্পনা বাতিল করেননি, তবে বর্তমান সময়ে অতিরিক্ত সামরিক হস্তক্ষেপের জন্য যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত নয়। তিনি যুক্তি দেন, বর্তমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টা বেশি কার্যকর হবে।
রুবিও বলেন, “আমরা ভেনেজুয়েলা সরকারে সামরিক পদক্ষেপের জন্য সুনির্দিষ্টভাবে প্রস্তুত না, এমন কোনো ইচ্ছা বা প্রত্যাশা নেই।” এই বক্তব্যে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সম্পৃক্ততা সীমিত রাখার নীতি পুনর্ব্যক্ত করেন।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রুবিওর এই মন্তব্য থেকে ট্রাম্প প্রশাসনের রদ্রিগেজের প্রতি সন্তুষ্টি প্রকাশ পেয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক দল রদ্রিগেজের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে।
রুবিও আরও উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি এখনো শুধুমাত্র কারাকাসের দূতাবাস ও সেখানকার মেরিন রক্ষীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ। তিনি বলেন, এটাই বর্তমান লক্ষ্য এবং প্রত্যাশা।
ভেনেজুয়েলা সরকারের সঙ্গে যোগাযোগকে রুবিও “অত্যন্ত শ্রদ্ধাশীল ও ফলপ্রসূ” বলে বর্ণনা করেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক মিশনকে শক্তিশালী করার জন্য উভয় পক্ষের সহযোগিতা প্রয়োজনীয় বলে জোর দেন।
মার্কিন সরকার শিগগিরই ভেনেজুয়েলা সরকারের সঙ্গে কূটনৈতিক উপস্থিতি পুনরায় শুরু করার আশা প্রকাশ করেছে। রুবিও বিশ্বাস করেন, দূতাবাসের পুনরায় খোলার মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে।
কারাকাসে মার্কিন দূতাবাস ২০১৯ সাল থেকে বন্ধ রয়েছে। তবে সম্প্রতি মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ভেনেজুয়েলা সরকারের সঙ্গে পুনরায় সংলাপ স্থাপনের জন্য কর্মকর্তাদের পাঠিয়েছে, যা দূতাবাস পুনরায় খোলার প্রস্তুতি নির্দেশ করে।
সেনেটের কমিটিতে রুবিও উল্লেখ করেন, আগামী ২০ বছরের মধ্যে ইরানের উপস্থিতি কমানো, চীন ও রাশিয়ার প্রভাব সীমিত করা এবং ভেনেজুয়েলা সরকারের বিভিন্ন রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক পুনর্গঠন নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা চালিয়ে যাবে। এই আলোচনায় ভেনেজুয়েলা সরকারের অভ্যন্তরীণ বহু পক্ষের ভূমিকা বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।



