বেঙ্গালুরুয়ের হাই গ্রাউন্ডস থানা-তে রনবীর সিংয়ের বিরুদ্ধে হিন্দু ধর্মীয় অনুভূতি আঘাতের অভিযোগে FIR দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগটি চাবুন্দি দাইবা নামক উপকূলীয় কর্ণাটকের ঐতিহ্যকে অপমান করার ভিত্তিতে, এবং মামলাটি ৮ এপ্রিল শুনানির জন্য নির্ধারিত হয়েছে।
FIRটি বুধবার দায়ের করা হয়, যদিও সংশ্লিষ্ট ঘটনা কয়েক মাস আগে ঘটেছিল। অভিযোগকারী প্রাশান্ত মেথাল, ৪৬ বছর বয়সী বেঙ্গালুরু ভিত্তিক একজন আইনজীবী, এই অভিযোগটি আদালতে উপস্থাপন করেছেন।
বিবাদিত ঘটনা ঘটেছিল ২৮ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে, গোয়ায় অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব (IFFI) এর সমাপনী অনুষ্ঠানে। সমাপনী অনুষ্ঠানের সময় রনবীর সিং একটি পারফরম্যান্সে অংশ নেন, যেখানে তিনি রিশাব শেট্টির ‘কান্তারা: এ লেজেন্ড – চ্যাপ্টার ১’ ছবির অনুপ্রাণিত দাইবা নৃত্যকে অনুকরণ করেন।
অনুকরণটি দাইবা পারফরম্যান্সের মূল উপাদানগুলোকে হাস্যকরভাবে উপস্থাপন করার অভিযোগে সমালোচিত হয়। বিশেষ করে পাঞ্জুরলি ও গুলিগা দাইবাদের চিহ্নিত অভিব্যক্তিগুলোকে অশোভন ও সরল রূপে উপস্থাপন করা হয়েছে বলে অভিযোগ তোলা হয়।
সামাজিক মাধ্যমে এই কাজের ব্যাপক নিন্দা দেখা যায়। অনেক নেটিজেন অভিনেতার কাজকে পবিত্র ধর্মীয় রীতি অবমাননা হিসেবে চিহ্নিত করে তীব্র সমালোচনা করেন। মন্তব্যগুলোতে চাবুন্দি দাইবাকে ‘মহিলা ভূত’ বলে উল্লেখ করার অভিযোগও উঠে।
প্রতিক্রিয়ার পর রনবীর সিং ইনস্টাগ্রাম স্টোরিজের মাধ্যমে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে কোনো সম্প্রদায় বা ঐতিহ্যকে আঘাত করার কোনো ইচ্ছা ছিল না এবং তার কাজের ফলে যে কোনো বেদনায় দুঃখ প্রকাশ করেন।
আইনি দিক থেকে FIRটি ভারতীয় বিচার সংহিতা (BNS) এর ধারা ১৯৬, ২৯৯ ও ৩০২ অনুযায়ী দায়ের করা হয়েছে। ধারা ১৯৬ ধর্মীয় অনুভূতি আঘাতের জন্য, ধারা ২৯৯ ও ৩০২ যথাক্রমে হিংসা ও মৃত্যুদণ্ডের সম্ভাব্য অপরাধের জন্য প্রযোজ্য।
অভিযোগকারী মেথালের মতে, রনবীর সিং দাইবা পারফরম্যান্সের সময় পাঞ্জুরলি ও গুলিগা দাইবাদের ঐতিহ্যবাহী অভিব্যক্তি ‘অশালীন ও হাস্যকর’ভাবে উপস্থাপন করেছেন। তাছাড়া, তিনি চাবুন্দি দাইবাকে ‘মহিলা ভূত’ বলে উল্লেখ করেছেন, যা ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রতি গুরুতর অবমাননা হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।
এই মামলাটি বেঙ্গালুরুয়ের প্রথম অতিরিক্ত প্রধান মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (CMM) আদালতে পাঠানো হয়েছে। আদালত এই বিষয়টি পর্যালোচনা করে ৮ এপ্রিল শুনানির তারিখ নির্ধারণ করেছে।
এখন পর্যন্ত রনবীর সিং বা তার প্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে FIR দায়ের হওয়া সম্পর্কে কোনো মন্তব্য বা ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। আদালতে উপস্থিতি ও প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে পরবর্তী তথ্য প্রকাশিত হলে তা জানানো হবে।
ধর্মীয় ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক রীতির প্রতি সংবেদনশীলতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শিল্পকর্মে সৃষ্টিকর্তাদের দায়িত্বও বাড়ছে। এই ধরনের ঘটনা সমাজে ধর্মীয় অনুভূতি রক্ষার জন্য আইনি পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরছে।
পাঠকগণকে অনুরোধ করা হচ্ছে যে, কোনো সাংস্কৃতিক বা ধর্মীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা বা প্রকাশের সময় যথাযথ গবেষণা ও সম্মান বজায় রাখুন। একই সঙ্গে, সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত মতামতকে সমালোচনামূলকভাবে বিশ্লেষণ করে সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে মত গঠন করা উচিত।



