ভারতে নিপাহ ভাইরাসের সংক্রমণ বাড়ার পরিপ্রেক্ষিতে পাকিস্তানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সীমানা, বিমানবন্দর ও সমুদ্রবন্দরে কঠোর স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং পর্যবেক্ষণ বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছে। এই পদক্ষেপটি দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং ভাইরাসের সম্ভাব্য প্রবেশ রোধে নেওয়া হয়েছে। নির্দেশনা জানানো হয়েছিল বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারি, এবং তা দেশের স্বাস্থ্য নীতি সমন্বয়কারী সংস্থার মাধ্যমে প্রকাশিত হয়।
মন্ত্রণালয় উল্লেখ করেছে যে, বিমানবন্দর, সমুদ্রবন্দর এবং স্থল সীমান্তে যাত্রীদের শারীরিক তাপমাত্রা, শ্বাসপ্রশ্বাসের অবস্থা এবং অন্যান্য সম্ভাব্য উপসর্গের জন্য তাত্ক্ষণিক স্ক্রিনিং করা হবে। সন্দেহজনক কোনো লক্ষণ দেখা দিলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে অবিলম্বে আলাদা করে আইসোলেশন করা হবে এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সহায়তা প্রদান করা হবে।
এই তথ্য পাকিস্তানি টেলিভিশন চ্যানেল সামা টিভির প্রতিবেদনে প্রকাশ পায়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় দেশের সীমানা পারাপারকারী যাত্রীদের জন্য অতিরিক্ত সতর্কতা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে, যাতে কোনো অজানা সংক্রমণ দেশের ভিতরে প্রবেশ না করতে পারে।
নিপাহ ভাইরাসের প্রধান প্রাকৃতিক হোস্ট হিসেবে বড় আকারের ফলখেকো বাদুড় (ফলবেড) চিহ্নিত হয়েছে। এই বাদুড়ের লালার মাধ্যমে বা তাদের মলমূত্রের সংস্পর্শে এসে মানুষ সংক্রমিত হতে পারে। বাদুড়ের বাসস্থান ও মানব বসতির নিকটবর্তী এলাকায় সংস্পর্শ বাড়লে ভাইরাসের ঝুঁকি তীব্রতর হয়। তাই মন্ত্রণালয় বিশেষভাবে এই ধরনের পরিবেশে সতর্কতা বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছে।
পাকিস্তানের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে যে, এখন পর্যন্ত দেশের কোনো রোগীকে নিপাহ ভাইরাসে নিশ্চিতভাবে শনাক্ত করা যায়নি। যদিও সংক্রমণের সম্ভাবনা সম্পর্কে উদ্বেগ রয়েছে, তবুও বর্তমান পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা এবং দ্রুত আইসোলেশন প্রোটোকল রোগের বিস্তার রোধে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে নিপাহ ভাইরাসের পাঁচজন রোগীর নিশ্চিত রিপোর্ট পাওয়া গেছে। এই রোগীরা মূলত বাদুড়ের সংস্পর্শে আসার পর রোগে আক্রান্ত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। রোগের উপসর্গে জ্বর, মাথা ব্যথা, শ্বাসকষ্ট এবং নিউরোলজিক্যাল লক্ষণ দেখা দেয়, যা দ্রুত চিকিৎসা না করা হলে মারাত্মক হতে পারে।
নিপাহ ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সাধারণত নিম্নলিখিত সতর্কতা মেনে চলার পরামর্শ দেন: বাদুড়ের বাসস্থানযুক্ত গাছের ফল সরাসরি না খাওয়া, ফল পরিষ্কার করে খাওয়া, বাদুড়ের মলমূত্রের সংস্পর্শে না আসা এবং রোগী বা সন্দেহজনক উপসর্গযুক্ত ব্যক্তির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা। এছাড়া, যাত্রীরা যদি কোনো শ্বাসযন্ত্রের অস্বাভাবিকতা, জ্বর বা মাথা ঘোরা অনুভব করেন, তবে তৎক্ষণাৎ চিকিৎসা সংস্থায় জানানো উচিত।
পাকিস্তান ও ভারতের স্বাস্থ্য বিভাগ উভয়ই রোগের বিস্তার রোধে জনসাধারণকে সচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়েছে। বিশেষ করে সীমান্ত পারাপারকারী যাত্রীদের জন্য স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং আইসোলেশন প্রোটোকল কার্যকর করা জরুরি। এই পদক্ষেপগুলো রোগের প্রাথমিক সনাক্তকরণ এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়া নিশ্চিত করবে।
আপনার আশেপাশে যদি বাদুড়ের বাসস্থান থাকে বা আপনি সম্প্রতি এমন কোনো এলাকায় ভ্রমণ করে থাকেন, তবে নিজের স্বাস্থ্যের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দিন। কোনো অস্বাভাবিক উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে নিকটস্থ স্বাস্থ্য কেন্দ্রে পরামর্শ নিন এবং স্থানীয় স্বাস্থ্য নির্দেশনা মেনে চলুন। আপনার নিরাপত্তা এবং সমাজের স্বাস্থ্যের জন্য এই সতর্কতাগুলো মেনে চলা গুরুত্বপূর্ণ।



