বিলি জিন কিং, টেনিসের কিংবদন্তি এবং নারী অধিকার ও LGBTQ দৃশ্যমানতার পথিকৃৎ, তার জীবনের গল্পকে কেন্দ্র করে একটি নতুন ডকুমেন্টারি ‘গিভ মি দ্য বোল!’ সান্ড্যান্স ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে প্রথম প্রদর্শিত হয়েছে। লিজ গারবাস এবং এলিজাবেথ ওলফ পরিচালিত এই চলচ্চিত্রটি ESPN Films-এর 30 for 30 সিরিজের অংশ হিসেবে তৈরি। ডকুমেন্টারিতে কিং ৮০-এর দশকে নিজেই উপস্থিত হয়ে তার ক্যারিয়ার ও ব্যক্তিগত দৃষ্টিভঙ্গি শেয়ার করেছেন।
ডকুমেন্টারির মোট দৈর্ঘ্য প্রায় এক ঘণ্টা চুয়ালিশ মিনিট এবং এতে সমৃদ্ধ আর্কাইভাল ফুটেজের সঙ্গে আধুনিক সাক্ষাৎকারের মিশ্রণ দেখা যায়। সান্ড্যান্সে প্রিমিয়ার হওয়ার পর থেকে এটি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। পরিচালক লিজ গারবাস এবং এলিজাবেথ ওলফের যৌথ প্রচেষ্টা চলচ্চিত্রকে ঐতিহাসিক দৃষ্টিকোণ থেকে সমৃদ্ধ করেছে।
চলচ্চিত্রের মূল কাঠামোতে কিংয়ের অতীতের সোনালী মুহূর্তগুলোকে পুনরায় সাজানো হয়েছে, যেখানে তার শৈশব থেকে শুরু করে টেনিসের শীর্ষে পৌঁছানোর যাত্রা ধরা পড়েছে। বর্তমান সময়ে কিং নিজেই ক্যামেরার সামনে বসে তার স্মৃতি ও অনুভূতি ভাগ করে নেন, যা দর্শকের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ গড়ে তোলে। তার কথায় হাস্যরস, সরলতা এবং অটুট আত্মবিশ্বাসের ছাপ স্পষ্ট।
১৯৭৩ সালের ঘটনাগুলো ডকুমেন্টারির কেন্দ্রীয় অংশ। সেই বছর কিং ইতিমধ্যে চারটি গ্র্যান্ড স্ল্যাম টুর্নামেন্টে সিঙ্গেলস ও মিক্সড ডাবলস শিরোপা জিতেছিলেন, তবে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের মহিলা ডাবলসে তিনি এখনও বিজয়ী হননি। এই সময়ে হিউস্টন অ্যাস্ট্রোডোমে অনুষ্ঠিত ‘ব্যাটল অফ দ্য সেক্সেস’ ম্যাচ তার ক্যারিয়ারের মোড় পরিবর্তনকারী মুহূর্ত হয়ে ওঠে।
‘ব্যাটল অফ দ্য সেক্সেস’ ম্যাচে ৫৫ বছর বয়সী ববি রিগস, যিনি পুরুষ খেলোয়াড়দের ওপর নারীদের অক্ষমতা দাবি করছিলেন, এবং ২৯ বছর বয়সী কিং মুখোমুখি হন। রিগসের আত্মবিশ্বাসী দাবি ছিল যে তিনি সহজেই নারীকে পরাজিত করতে পারবেন। এই ম্যাচের ফলাফল টেনিসের ইতিহাসের পাশাপাশি লিঙ্গ সমতার আলোচনায় নতুন দৃষ্টিকোণ যোগ করে।
ডকুমেন্টারিতে কিংয়ের পাশাপাশি ইলানা ক্লস, এলটন জন, সারেনা উইলিয়ামস, জুলি হেল্ডম্যান, ল্যারি কিং, রোজি ক্যাসালস এবং ক্রিস ইভার্টের মত আইকনিক ব্যক্তিত্বদের উপস্থিতি দেখা যায়। তাদের সাক্ষাৎকার ও মন্তব্য চলচ্চিত্রে অতিরিক্ত প্রেক্ষাপট যোগ করে, যা কিংয়ের প্রভাবকে ক্রীড়া ও সামাজিক ক্ষেত্রে উভয়ই তুলে ধরে। এই ব্যক্তিত্বদের উপস্থিতি দর্শকদের জন্য অতিরিক্ত আকর্ষণীয় উপাদান সরবরাহ করে।
চলচ্চিত্রটি টেনিসের উত্কৃষ্টতা, কিংয়ের অদম্য আত্মা এবং তার সামাজিক পরিবর্তনের ভূমিকা একসঙ্গে উপস্থাপন করে। দর্শকরা চলচ্চিত্রের মাধ্যমে টেনিসের গেমের উত্তেজনা এবং সমতা সংগ্রামের গভীরতা উভয়ই অনুভব করতে পারেন। ডকুমেন্টারির শিরোনামে থাকা বিস্ময়সূচক চিহ্নটি চলচ্চিত্রের উচ্ছ্বাসপূর্ণ স্বরকে প্রতিফলিত করে।
‘গিভ মি দ্য বোল!’ ডকুমেন্টারি টেনিস প্রেমিক, নারী অধিকার সমর্থক এবং সমকামী সম্প্রদায়ের জন্য একটি প্রেরণাদায়ক বার্তা বহন করে। এটি কেবল কিংয়ের ক্রীড়া সাফল্যই নয়, তার সামাজিক অবদানেরও এক বিশাল সম্মানসূচক।
সর্বশেষে, ডকুমেন্টারিটি টেনিসের ইতিহাসে নতুন দৃষ্টিকোণ যোগ করে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করার সম্ভাবনা রাখে। যারা টেনিস, সমতা বা মানবিক গল্পে আগ্রহী, তাদের জন্য এই চলচ্চিত্রটি অবশ্যই দেখার যোগ্য।



