23 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিব্রিটেনের স্টার্মার চীন ভ্রমণ, অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও কূটনৈতিক সম্পর্কের নতুন সূচনা

ব্রিটেনের স্টার্মার চীন ভ্রমণ, অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও কূটনৈতিক সম্পর্কের নতুন সূচনা

ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কেইর স্টার্মার ২০২৬ সালের ২৯ জানুয়ারি চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে চার দিনের সফরের প্রথম দিনে শি জিনপিংয়ের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় অংশ নেন। এই সফর আট বছর পর প্রথম ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর চীন ভ্রমণ হিসেবে চিহ্নিত। দুজন নেতার বৈঠকটি গ্রেট হল অফ দ্য পিপলসে অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকের পর দুজন নেতা একসাথে মধ্যাহ্নভোজ করেন, যেখানে উভয় পক্ষের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক লক্ষ্য নিয়ে আলোচনা হয়। স্টার্মার উল্লেখ করেন যে তিনি চীনের সঙ্গে একটি “সোফিস্টিকেটেড” সম্পর্ক গড়ে তোলার ইচ্ছা পোষণ করেন, যা উভয়ের বৃদ্ধির ও নিরাপত্তার জন্য সহায়ক হবে।

স্টার্মার শি জিনপিংকে বলেন, “চীন বৈশ্বিক মঞ্চে একটি গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়, এবং আমাদের জন্য একটি আরও পরিশীলিত সম্পর্ক গড়ে তোলা জরুরি, যাতে সহযোগিতার সুযোগ সনাক্ত করা যায়, পাশাপাশি মতবিরোধের ক্ষেত্রেও অর্থবহ সংলাপ চালু থাকে।”

শি জিনপিং জবাব দেন যে ব্রিটেনের সঙ্গে সম্পর্কের পথে “বাঁক ও মোড়” এসেছে, যা উভয় দেশের স্বার্থে সেবা করেনি, এবং চীন দীর্ঘমেয়াদী কৌশলগত অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে প্রস্তুত।

স্টার্মার নেতৃত্বাধীন শ্রম দল সরকার অর্থনৈতিক বৃদ্ধির ক্ষেত্রে প্রতিশ্রুতি পূরণে সংগ্রাম করছে, ফলে চীনকে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি হিসেবে ঘনিষ্ঠ করা তার শীর্ষ অগ্রাধিকার। এই নীতি পূর্বে চীন-ইউরোপীয় সম্পর্কের জটিলতা ও মানবাধিকার উদ্বেগের পরেও চালু হয়েছে।

চীনের গোপনীয়তা ও মানবাধিকার রেকর্ড নিয়ে কিছু অবশিষ্ট সন্দেহ থাকা সত্ত্বেও, স্টার্মার সরকার এই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে উন্নত করার জন্য কূটনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রেখেছে। চীন সরকারও একইভাবে বাণিজ্যিক বাধা কমিয়ে পারস্পরিক লাভের পথ খুঁজতে ইচ্ছুক।

স্টার্মারের চীন সফরটি পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে চীনের সঙ্গে কূটনৈতিক সংযোগ বাড়ানোর প্রবণতার অংশ, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতি অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করেছে। ট্রাম্পের সময়ে বাণিজ্যিক শুল্কের হুমকি এবং গ্রিনল্যান্ডের ওপর নিয়ন্ত্রণের দাবি ব্রিটেনের মতো ঐতিহ্যবাহী মিত্রদের বিরক্ত করেছে।

স্টার্মারের সফরের ঠিক আগে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি বেইজিংয়ে চীনের সঙ্গে একটি বাণিজ্যিক চুক্তি স্বাক্ষর করেন, যা চীন-কানাডা বাণিজ্য বাধা হ্রাসের লক্ষ্যে। এই চুক্তি ট্রাম্পের নিন্দার মুখে পড়ে, কারণ তা যুক্তরাষ্ট্রের চীন নীতি থেকে ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি নির্দেশ করে।

ট্রাম্পের অনিয়মিত শুল্ক নীতি এবং গ্রিনল্যান্ডের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলকে দখল করার ইচ্ছা ব্রিটেনের মতো পারম্পরিক মিত্রদের মধ্যে অবিশ্বাস বাড়িয়ে তুলেছে। ফলে ইউরোপীয় দেশগুলো চীনকে বিকল্প অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করার প্রবণতা বাড়ছে।

কিংস কলেজ লন্ডনের চীনা অধ্যয়ন প্রফেসর ক্যারি ব্রাউন উল্লেখ করেন, স্টার্মার ও শি জিনপিংয়ের আলোচনার পর উভয় পক্ষের মধ্যে বেশ কিছু চুক্তি ঘোষিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা সম্পর্কের উন্নতি প্রদর্শন করবে। তিনি বলেন, “এটি সফলতা হিসেবে দেখা উচিত; উভয় পক্ষই এমন একটি বৈঠক চাই না যেখানে তর্ক-বিতর্কের মুখে সময় নষ্ট হয়।”

বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, যদি বাণিজ্যিক বাধা হ্রাস এবং বিনিয়োগের সুযোগ বৃদ্ধি পায়, তবে শ্রম দল সরকারকে অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক চাপ থেকে কিছুটা স্বস্তি মিলতে পারে। একই সঙ্গে, চীন-ইউরোপীয় নিরাপত্তা সহযোগিতার ক্ষেত্রেও নতুন উদ্যোগের সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে।

স্টার্মারের চীন সফর এবং শি জিনপিংয়ের কৌশলগত অংশীদারিত্বের প্রস্তাব ভবিষ্যতে দু’দেশের কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্কের দিকনির্দেশনা নির্ধারণ করবে, যা ইউরোপীয় নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলবে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments