ঢাকার বসুন্ধরা অফিসে আজ সকাল প্রায় আটটায় জামায়াত-এ-ইসলামি আমীর ড. শফিকুর রহমান এবং মার্কিন দূতাবাসের প্রধান ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেনের মধ্যে একটি শিষ্টাচারিক সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। দুজনের মধ্যে জাতীয় সংসদীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি ও রাষ্ট্র সংস্কার সংক্রান্ত বিষয়গুলোকে কেন্দ্রীয় আলোচনার বিষয়বস্তু হিসেবে নির্ধারণ করা হয়।
সাক্ষাৎকারটি শালীন ও বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশে পরিচালিত হয়, যা উভয় পক্ষের পারস্পরিক সম্মান ও সহযোগিতার ইচ্ছা প্রকাশ করে। উভয় দলই এই ধরনের বৈঠককে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখেছে।
মিটিংয়ের সময় বর্তমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তৃত মতবিনিময় হয়। বিশেষ করে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের সময়সূচি, নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং রাষ্ট্রের কাঠামোগত সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে গভীর আলোচনা হয়।
বাণিজ্য, বাণিজ্যিক সহযোগিতা এবং রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকট সম্পর্কেও উভয় পক্ষের দৃষ্টিভঙ্গি শেয়ার করা হয়। এই বিষয়গুলোকে সমাধানের জন্য পারস্পরিক সমন্বয় ও সমর্থনের প্রয়োজনীয়তা উভয় পক্ষই স্বীকার করে।
ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন, মার্কিন দূতাবাসের প্রধান, জামায়াত-এ-ইসলামির অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক অগ্রগতিতে ইতিবাচক ভূমিকা নিয়ে প্রশংসা করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে এই দলের অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ।
দুই পক্ষই বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ দৃঢ় করার আশাবাদ প্রকাশ করে। উভয় পক্ষই বিশ্বাস করে যে, পরবর্তী সময়ে সহযোগিতা আরও গভীর হবে এবং পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
মার্কিন দূতাবাসের প্রতিনিধিদলে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরামর্শক এরিক গিলম্যান, পাবলিক অ্যাফেয়ার্স অফিসার মোনিকা এল ত্সাই, রাজনৈতিক কর্মকর্তা জেমস স্টুয়ার্ট এবং রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ ফিরোজ আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।
জামায়াত-এ-ইসলামির পক্ষ থেকে সহকারী সচিব জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগ প্রধান আহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য মো. মোবাক্কর হোসেন এবং আমীরের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা মাহমুদুল হাসান উপস্থিত ছিলেন।
এই বৈঠকটি আসন্ন নির্বাচনের প্রস্তুতিতে উভয় দেশের নীতি নির্ধারকদের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। নির্বাচনের ফলাফল দেশের রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
পরবর্তী সময়ে উভয় পক্ষের মধ্যে নিয়মিত সংলাপ চালিয়ে যাওয়া এবং যৌথ কর্মসূচি গড়ে তোলার পরিকল্পনা করা হয়েছে। বিশেষ করে বাণিজ্যিক সহযোগিতা, বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং মানবিক সংকট মোকাবেলায় সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণের ইচ্ছা প্রকাশ করা হয়েছে।
সারসংক্ষেপে, জামায়াত-এ-ইসলামি আমীর ও মার্কিন দূতাবাসের প্রধানের এই বৈঠকটি রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং মানবিক বিষয়গুলোতে পারস্পরিক সমঝোতা বাড়ানোর লক্ষ্যে পরিচালিত হয়েছে। ভবিষ্যতে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের দৃঢ়তা এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য এই ধরনের সংলাপের গুরুত্ব অব্যাহত থাকবে।



