অস্কার-নামধারী অভিনেত্রী ও পরিচালক ক্রিস্টেন স্টুয়ার্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শাসনকালে যুক্তরাষ্ট্রে কাজের স্বাধীনতা সীমাবদ্ধ হওয়ায়, স্ত্রী ডিলান মেয়ারের সঙ্গে বিদেশে বসবাসের সম্ভাবনা প্রকাশ করেছেন। তিনি বর্তমানে লস এঞ্জেলেস ও নিউ ইয়র্কে বাস করলেও, দ্বিতীয় মেয়াদে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতি ও শিল্পে আরোপিত সীমাবদ্ধতা তাকে অন্য দেশে জীবন গড়ার দিকে ধাবিত করছে।
স্টুয়ার্টের ক্যারিয়ার বহুবার অস্কার মনোনয়ন পেয়েছে এবং সাম্প্রতিক সময়ে তিনি পরিচালক হিসেবে প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র “দ্য ক্রোনোলজি অফ ওয়াটার” সম্পন্ন করেছেন। তার স্বামী, স্ক্রিনরাইটার ডিলান মেয়ার, তার সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ভাগ করে আছেন এবং দুজনেই ভবিষ্যতে কোথায় বসবাস করবেন তা নিয়ে আলোচনা করছেন।
একটি সাক্ষাৎকারে স্টুয়ার্ট উল্লেখ করেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের শাসনামলে বাস্তবতা সম্পূর্ণভাবে ভেঙে পড়ছে, তাই নিজের ইচ্ছামত নতুন বাস্তবতা গড়ে তোলা দরকার। তিনি যুক্তি দেন, বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশে শিল্পী হিসেবে স্বাধীনভাবে কাজ করা কঠিন হয়ে পড়েছে এবং নিজের স্বপ্নের পৃথিবী গড়ে তোলাই একমাত্র সমাধান।
স্টুয়ার্টের এই সিদ্ধান্তকে সমর্থনকারী অন্যান্য সেলিব্রিটিদের তালিকায় এলেন ডিগেনেস, রোজি ও’ডননল এবং জেমস ক্যামেরন অন্তর্ভুক্ত। এই ব্যক্তিরা ডোনাল্ড ট্রাম্পের শাসনকালে যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করে বিদেশে কাজ চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন, যা শিল্পের ওপর রাজনৈতিক চাপের প্রভাবকে স্পষ্ট করে।
স্টুয়ার্টের সঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্পের পূর্বের সংঘাতও নজরে এসেছে। ২০১২ সালে ট্রাম্প টুইটারে স্টুয়ার্ট ও রবার্ট প্যাটিনসনের সম্পর্ক নিয়ে মন্তব্য করে, তার প্রেমিককে ফিরে না নেওয়ার পরামর্শ দেন। এই মন্তব্যের ফলে স্টুয়ার্টের সামাজিক মিডিয়ায় সমালোচনা বাড়ে, যদিও তা তার ক্যারিয়ারকে বড়ভাবে প্রভাবিত করেনি।
সম্প্রতি ডোনাল্ড ট্রাম্প বিদেশি চলচ্চিত্রে শুল্ক আরোপের হুমকি জানিয়েছেন, যা শিল্পে অশান্তি সৃষ্টি করেছে। স্টুয়ার্ট এই নীতি সম্পর্কে মন্তব্য করে, এটি শিল্পের জন্য “ভয়ানক” বলে উল্লেখ করেন এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও বিনিময়কে ক্ষতিগ্রস্ত করবে বলে সতর্ক করেন।
তার প্রথম পরিচালনামূলক কাজ “দ্য ক্রোনোলজি অফ ওয়াটার” লাটভিয়ায় শ্যুট করা হয়েছিল, কারণ যুক্তরাষ্ট্রে একই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা প্রায় অসম্ভব ছিল। লাটভিয়ার পরিবেশ ও কম খরচের সুবিধা তাকে এই সিদ্ধান্ত নিতে প্ররোচিত করে, যা তার স্বাধীন সৃজনশীলতা বজায় রাখার ইচ্ছার প্রতিফলন।
এই চলচ্চিত্রটি লিডিয়া ইউকনাভিচের আত্মজীবনীমূলক স্মৃতিকথা থেকে রূপান্তরিত, যেখানে একটি শিশুর দুঃখজনক শৈশব, সাঁতার প্রতিযোগিতা, যৌন অনুসন্ধান, বিষাক্ত সম্পর্ক ও মাদকাসক্তি থেকে মুক্তি পেয়ে লেখালেখির মাধ্যমে নিজের কণ্ঠস্বর খুঁজে পাওয়ার গল্প বলা হয়েছে। স্টুয়ার্টের পরিচালনায় এই জটিল বিষয়গুলোকে সংবেদনশীলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রশংসা পেয়েছে।
স্টুয়ার্ট ও ডিলান মেয়ার যদি যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে অন্য দেশে বসবাসের সিদ্ধান্ত নেন, তবে তা শিল্পের স্বাধীনতা ও রাজনৈতিক পরিবেশের ওপর একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করবে। তাদের সম্ভাব্য স্থানান্তর অন্যান্য শিল্পীকে অনুপ্রাণিত করতে পারে, যারা একই ধরনের সীমাবদ্ধতার মুখোমুখি। ভবিষ্যতে কী হবে তা এখনও অনিশ্চিত, তবে স্টুয়ার্টের এই প্রকাশনা তার স্বতন্ত্র সৃজনশীলতা ও স্বাধীনতা রক্ষার দৃঢ় সংকল্পকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরে।



