লিওনার্ড কর্নবার্গ, হলিউডের বহু দশকের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন স্টুডিও নির্বাহী, গল্প বিশ্লেষক এবং শিক্ষক, ৩ জানুয়ারি ২০২৪ তারিখে ৭৫ বছর বয়সে পরলোক গমন করেন। তার কর্মজীবন চলচ্চিত্র শিল্পের নানা স্তরে ছাপ ফেলেছে, বিশেষ করে স্ক্রিপ্ট বিশ্লেষণ ও প্রোডাকশন ব্যবস্থাপনায়।
কর্নবার্গের ক্যারিয়ার ১৯৮০-এর দশকের শুরুর দিকে ক্যারসন প্রোডাকশনে গল্প বিশ্লেষক হিসেবে শুরু হয়। এই সময়ে তিনি স্ক্রিপ্টের গঠন ও বাণিজ্যিক সম্ভাবনা মূল্যায়নে দক্ষতা অর্জন করেন, যা পরবর্তী পদোন্নতির ভিত্তি হয়ে দাঁড়ায়।
পরবর্তীতে তিনি ফক্স এবং ইউনিভার্সাল উভয় সংস্থায় বিশ্লেষক পদে কাজ করেন। ফক্সে কাজের সময় তিনি বিভিন্ন প্রকল্পের প্রাথমিক স্ক্রিপ্ট পর্যালোচনা করেন, আর ইউনিভার্সালে তার বিশ্লেষণ ক্ষমতা দ্রুত স্বীকৃতি পায়।
ইউনিভার্সালে কর্নবার্গকে ধারাবাহিকভাবে উঁচু পদে উন্নীত করা হয়; প্রথমে তিনি ডিরেক্টর অফ ডেভেলপমেন্ট হন, এরপর ভাইস প্রেসিডেন্ট অফ প্রোডাকশন এবং শেষ পর্যন্ত সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট অফ প্রোডাকশন পদে অধিষ্ঠিত হন। এই পদগুলোতে তিনি স্ক্রিপ্ট থেকে স্ক্রিন পর্যন্ত বহু প্রকল্পকে সফলভাবে পরিচালনা করেন।
২০০১ সালে তাকে অ্যাডাল্ট পলিগ্লুকোসান বডি ডিজিজ (APBD) রোগ নির্ণয় করা হয়, যা একটি বিরল প্রগতিশীল স্নায়ুজনিত রোগ। রোগের অগ্রগতির ফলে তার চলাচল ধীরে ধীরে সীমিত হয়ে আসে, তবে তিনি কাজ থেকে সরে না গিয়ে নিজের কাজের পদ্ধতি পরিবর্তন করেন।
রোগের পরেও কর্নবার্গ ইউনিভার্সালে গল্প বিশ্লেষকের দায়িত্বে ফিরে আসেন এবং শয্যায় শয্যায় অবস্থায়ও কানাল প্লাসের জন্য অক্রেডিটেড প্রোডিউসার ও পরামর্শক প্রোডিউসার হিসেবে অবদান রাখেন। তার এই দৃঢ়তা শিল্পে অনুপ্রেরণা জোগায়।
কর্নবার্গের নাম যুক্ত বহু চলচ্চিত্রের মধ্যে ১৯৯৩ সালের “কপ অ্যান্ড এ হাফ”, ১৯৯৪ সালের “দ্য রিভার ওয়াইল্ড”, ১৯৯৫ সালের “দ্য হান্টেড”, ১৯৯৬ সালের “ফ্লিপার” এবং ১৯৯৭ সালের “দ্য জ্যাকাল” উল্লেখযোগ্য। এই ছবিগুলোতে তিনি স্ক্রিপ্ট বিশ্লেষণ ও প্রোডাকশন পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
১৯৯৮ সালের “সাইকো”, ১৯৯৯ সালের “ভাইরাস”, “লাইফ”, “ডাডলি ডু-রাইট”, “দ্য মামি”, “দ্য মামি রিটার্নস” এবং ২০০১ সালের “দ্য স্কর্পিয়ন কিং” ইত্যাদি প্রকল্পেও তার ছাপ দেখা যায়। ২০০২ সালের “সাহারা”, ২০০৫ সালের “কিংকং” এবং ২০১০ সালের “অ্যান্ড সুন দ্য ডার্কনেস” তার কাজের পরিসরকে আরও বিস্তৃত করে।
পরবর্তী বছরগুলোতে তিনি “দ্য লাস্ট এক্সরসিজম পার্ট II” (২০১৩), “সেরেনা” (২০১৪), “প্যাডিংটন” (২০১৪), “এ ওয়ার” (২০১৫), “প্যাডিংটন ২” (২০১৭), “দ্য মার্সি” (২০১৮), “রেডিওঅ্যাকটিভ” (২০১৯), “দ্য সিক্রেট গার্ডেন” (২০২০), “রিট্রিবিউশন” (২০২৩) এবং ২০২৪ সালের “প্যাডিংটন ইন পেরু” সহ বহু চলচ্চিত্রে অংশগ্রহণ করেন।
২০১৬ সালে তিনি “হ্যাকসা রিজ” ছবির এক্সিকিউটিভ প্রোডিউসার হিসেবে কাজ করেন, যা আন্তর্জাতিক সমালোচকদের প্রশংসা পায়। এই প্রকল্পে তার অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্বের স্বাদ স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।
চলচ্চিত্র শিল্পের পাশাপাশি কর্নবার্গ ইউএসসি স্টার্ক প্রোডিউসিং প্রোগ্রামে প্রযোজকদের জন্য স্ক্রিপ্ট বিশ্লেষণ শেখাতেও নিয়োজিত ছিলেন। তার শিক্ষাদান পদ্ধতি বাস্তব অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে ছিল, যা শিক্ষার্থীদের শিল্পের বাস্তব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সহায়তা করত।
শিক্ষাগতভাবে তিনি হ্যামিল্টন কলেজ এবং মিডলবেরি কলেজ থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন, যা তার বিশ্লেষণাত্মক দক্ষতার ভিত্তি গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
কর্নবার্গের কর্মজীবন তার রোগের সঙ্গে লড়াইয়ের সময়েও অবিচলিত ছিল; শয্যায় শয্যায় থেকেও তিনি শিল্পের জন্য অবদান রাখতে সক্ষম হয়েছেন। তার এই দৃঢ়তা এবং কাজের প্রতি নিষ্ঠা হলিউডের বহু তরুণ প্রোডিউসার ও বিশ্লেষকের জন্য মডেল হয়ে আছে।
সারসংক্ষেপে, লিওনার্ড কর্নবার্গের ৪৫ বছরের বেশি সময়ের চলচ্চিত্র শিল্পে অবদান, স্ক্রিপ্ট বিশ্লেষণ থেকে প্রোডাকশন ব্যবস্থাপনা পর্যন্ত বিস্তৃত, তাকে হলিউডের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব করে তুলেছে। তার মৃত্যু শিল্পের একটি বড় ক্ষতি, তবে তার কাজ ও শিক্ষা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করে চলবে।



