23 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeখেলাধুলাআইসিসি যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাটসম্যান অ্যারন জোন্সকে সব ধরনের ক্রিকেটে নিষিদ্ধ করেছে

আইসিসি যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাটসম্যান অ্যারন জোন্সকে সব ধরনের ক্রিকেটে নিষিদ্ধ করেছে

যুক্তরাষ্ট্রের ক্রিকেট দল শ্রীলঙ্কায় ১৮ খেলোয়াড়ের ক্যাম্পে অবস্থান করছে, যেখানে ব্যাটসম্যান অ্যারন জোন্সও অন্তর্ভুক্ত। বিশ্বকাপের জন্য চূড়ান্ত ১৫ জনের তালিকায় তার নাম প্রায় নিশ্চিত ছিল, তবে আইসিসির সিদ্ধান্তের ফলে তিনি এখনো কোনো আন্তর্জাতিক ম্যাচে অংশ নিতে পারবেন না।

আইসিসি অ্যারন জোন্সের বিরুদ্ধে পাঁচটি অ্যান্টি-করাপশন কোডের ধারা লঙ্ঘনের অভিযোগ আনছে এবং তাকে সব ধরনের ক্রিকেট থেকে নিষিদ্ধ করেছে। নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাকে ১৪ দিনের মধ্যে তার পক্ষ থেকে ব্যাখ্যা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

জোন্সের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার ৫২ ওয়ানডে এবং ৪৮ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে গঠিত। যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে তিনি এই দুই ফরম্যাটে ধারাবাহিকভাবে পারফর্ম করে দলের মূল খেলোয়াড় হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন। তার উপস্থিতি দলের ব্যাটিং শক্তিকে উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে তুলেছে।

২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের সাফল্যে জোন্সের অবদান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। কানাডার বিপক্ষে তিনি ১০টি ছক্কা দিয়ে ৪০ রান করে ৯৪ রানের ইনিংস সম্পন্ন করেন, যা ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক জয় অর্জনে তিনি ২৬ রান যোগ করেন, যা দলের জয় নিশ্চিত করতে সহায়ক ছিল।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের পাশাপাশি জোন্স ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটেও সক্রিয় ছিলেন। তিনি ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগ, মেজর লিগ ক্রিকেট এবং বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) অংশগ্রহণ করেছেন। এই অভিজ্ঞতা তাকে বিভিন্ন শর্তে দ্রুত মানিয়ে নিতে সক্ষম করেছে।

বিপিএল-এ তার অংশগ্রহণ ২০২৩ সালে রংপুর রাইডার্সের হয়ে এক ম্যাচে সীমাবদ্ধ ছিল। তবে ২০২৪-২৫ মৌসুমে তিনি সিলেট স্ট্রাইকার্সের হয়ে আটটি ম্যাচে মাঠে নামেন, যেখানে তিনি দলের ব্যাটিং অর্ডারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

অভিযোগের মূল কেন্দ্রবিন্দু ২০২৩-২৪ মৌসুমে বারবাডোসে অনুষ্ঠিত বি-ইম১০ টুর্নামেন্ট, যা ক্রিকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজের তত্ত্বাবধানে ছিল। এই টুর্নামেন্টে তার কিছু কার্যক্রম আইসিসি অ্যান্টি-করাপশন নীতির লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।

অন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সঙ্গে সম্পর্কিত দুটি অতিরিক্ত অভিযোগও জোন্সের বিরুদ্ধে আনা হয়েছে। এই অভিযোগগুলো আন্তর্জাতিক ম্যাচে তার আচরণ ও পারস্পরিক সম্পর্কের ওপর ভিত্তি করে। আইসিসি এসবকে বৃহত্তর তদন্তের অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছে।

আইসিসি জানিয়েছে, বর্তমান তদন্তের ফলাফল অনুযায়ী অন্যান্য অংশগ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত অভিযোগ উত্থাপিত হতে পারে। তাই এই মামলাটি শুধুমাত্র একক খেলোয়াড়ের নয়, পুরো ক্রিকেট সম্প্রদায়ের স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার রক্ষার লক্ষ্যে পরিচালিত হচ্ছে।

নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বকাপ প্রস্তুতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটসম্যানের অনুপস্থিতি দেখা দেবে। কোচিং স্টাফ এখনো বিকল্প ব্যাটসম্যানদের প্রস্তুতিতে মনোনিবেশ করেছেন, তবে জোন্সের অভাব দলের ব্যাটিং গভীরতায় প্রভাব ফেলতে পারে।

আইসিসি দ্বারা নির্ধারিত ১৪ দিনের সময়সীমা শেষ হওয়ার পর জোন্সের পক্ষ থেকে কোনো উত্তর না পাওয়া গেলে শাস্তি স্থায়ী হতে পারে। এই পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নীতি লঙ্ঘনের প্রতি শূন্য সহনশীলতা প্রদর্শনের একটি উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের ক্রিকেট সংস্থা এখনো জোন্সের নিষেধাজ্ঞা সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক মন্তব্য প্রকাশ করেনি, তবে তারা দলীয় প্রস্তুতি ও কৌশলগত পরিকল্পনা চালিয়ে যাবে বলে জানিয়েছে। বিশ্বকাপের শুরুর তারিখ নিকটবর্তী হওয়ায় সময়মত সিদ্ধান্ত নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

সারসংক্ষেপে, আইসিসি অ্যারন জোন্সকে সব ধরনের ক্রিকেটে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যার পেছনে অ্যান্টি-করাপশন কোডের পাঁচটি ধারার লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে। তিনি ১৪ দিনের মধ্যে তার ব্যাখ্যা দিতে পারবেন, আর তার অনুপস্থিতি যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বকাপ যাত্রায় একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড়াবে।

৮৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডিনিউজ২৪
ক্রীড়া প্রতিবেদক
ক্রীড়া প্রতিবেদক
AI-powered খেলাধুলা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments