23 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধচীন জেজিয়াং আদালত মিয়ানমারের স্ক্যাম মাফিয়া মিং পরিবারে ১১ জনকে মৃত্যুদণ্ডে ফাঁসি...

চীন জেজিয়াং আদালত মিয়ানমারের স্ক্যাম মাফিয়া মিং পরিবারে ১১ জনকে মৃত্যুদণ্ডে ফাঁসি দিল

চীনের জেজিয়াং প্রদেশের একটি আদালত সম্প্রতি মিয়ানমারের সীমান্তবর্তী লাউক্কাইং শহরে স্ক্যাম কেন্দ্র পরিচালনা করা মিং পরিবারে ১১ জনকে মৃত্যুদণ্ডে ফাঁসি করেছে। এই সিদ্ধান্তটি রাষ্ট্রীয় মিডিয়ার মাধ্যমে জানানো হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট অপরাধের শাস্তি হিসেবে কার্যকর করা হয়েছে।

মিং পরিবারের সদস্যদের উপর হিংসা, অবৈধ আটক, জালিয়াতি এবং জুয়া ঘর পরিচালনার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়। সেপ্টেম্বর মাসে আদালত এই অপরাধগুলোকে একত্রে বিবেচনা করে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেয়। রায়ের পরপরই শাস্তি কার্যকর করা হয়।

মিং পরিবার মিয়ানমারের লাউক্কাইং নামক ছোট শহরে বেশ কয়েকটি স্ক্যাম কেন্দ্র চালাতো। এই শহর চীন সীমান্তের কাছাকাছি অবস্থিত এবং পূর্বে অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে ছিল। মিং পরিবারের শাসনামলে লাউক্কাইং দ্রুত একটি উজ্জ্বল ক্যাসিনো ও লাল আলোয় ভরা এলাকা হিসেবে রূপান্তরিত হয়।

তাদের কার্যক্রমের মধ্যে অনলাইন জালিয়াতি, অবৈধ আর্থিক লেনদেন এবং বিদেশি পর্যটকদের জন্য জুয়া ঘর পরিচালনা অন্তর্ভুক্ত ছিল। এইসব কার্যকলাপের ফলে স্থানীয় জনগণের জীবনে উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়ে, যেখানে অনেকেই আর্থিক ক্ষতির শিকার হয়।

মিং পরিবারের পাশাপাশি লাউক্কাইংয়ে আরেকাধিক গোষ্ঠী একই রকম অপরাধে লিপ্ত ছিল। এই গোষ্ঠীগুলোও একই সময়ে স্ক্যাম, জুয়া এবং অবৈধ ব্যবসা চালাতো, যা পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা হুমকির মুখে ফেলেছিল।

২০২৩ সালে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ এই অপরাধী গোষ্ঠীগুলোকে গ্রেফতার করে চীনের হাতে হস্তান্তর করে। গ্রেফতারের পেছনে বেইজিংয়ের বাড়তি চাপ এবং দুই দেশের সীমান্তে অপরাধমূলক কার্যক্রম দমন করার ইচ্ছা ছিল। এই পদক্ষেপের ফলে মিং পরিবারসহ অন্যান্য অপরাধী গোষ্ঠীর কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।

চীনের নিরাপত্তা সংস্থা গ্রেফতারের পর তদন্ত চালিয়ে গিয়ে মিং পরিবারের সদস্যদের উপর হিংসা, অবৈধ আটক এবং জালিয়াতির অভিযোগে প্রমাণ সংগ্রহ করে। এই প্রমাণগুলো আদালতে উপস্থাপন করা হয় এবং রায়ের ভিত্তি গঠন করে।

মিং পরিবারের সদস্যদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা চীনের কঠোর অপরাধবিরোধী নীতি এবং সীমান্ত পারাপার অপরাধ দমন করার সংকল্পের প্রতিফলন। রাষ্ট্রীয় মিডিয়া উল্লেখ করেছে যে, এই রায় অপরাধের প্রতিরোধে একটি শক্তিশালী বার্তা পাঠাবে।

ফাঁসির সময়কাল ও পদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিত প্রকাশ না করা হলেও, চীনা কর্তৃপক্ষের মতে শাস্তি আইনি প্রক্রিয়ার সম্পূর্ণতা নিশ্চিত করে কার্যকর করা হয়েছে। এই রায়ের ফলে অন্যান্য স্ক্যাম গোষ্ঠীর ওপরও নজরদারি বাড়বে বলে অনুমান করা হচ্ছে।

অধিকন্তু, চীনের বিচারিক ব্যবস্থা অনুযায়ী হিংসা, অবৈধ আটক এবং জালিয়াতি সহ একাধিক অপরাধে একসঙ্গে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা সম্ভব। মিং পরিবারের রায় এই ধারার একটি উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হবে।

রাষ্ট্রীয় সূত্রের মতে, এই রায়ের পর চীনা নিরাপত্তা সংস্থা লাউক্কাইং ও সমীপবর্তী অঞ্চলে অতিরিক্ত নজরদারি বাড়াবে। ভবিষ্যতে অনুরূপ অপরাধের পুনরাবৃত্তি রোধে সীমান্ত পারাপার সহযোগিতা আরও দৃঢ় করা হবে।

এই ঘটনার পর আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা চীনের কঠোর শাস্তি নীতি এবং মিয়ানমারের সঙ্গে সমন্বয়কে লক্ষ্য করেছে। তবে, বর্তমান তথ্য অনুযায়ী কোনো নতুন তদন্ত বা আপিল প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে কোনো সূত্র পাওয়া যায়নি। ভবিষ্যতে যদি কোনো আইনি আপিল বা পুনর্বিবেচনা হয়, তা সংশ্লিষ্ট আদালতই নির্ধারণ করবে।

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments