দ্বিতীয় ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি চলাকালে, ভোটার তালিকার অর্ধেক গঠনকারী নারীরা রাজনৈতিক কথাবার্তা আর প্রভাবশালী নয় বলে জানিয়েছেন। তারা পরবর্তী সরকারকে আরেকটি প্রতিশ্রুতি নয়, বরং দীর্ঘদিনের প্রতিশ্রুতিগুলোকে বাস্তবে রূপান্তরিত করার প্রমাণ চাচ্ছেন।
নির্বাচনের আগে বাড়তি হিংসা, সিভিক স্পেসের সংকোচন, বেকারত্বের বৃদ্ধি, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, নারীর স্বাস্থ্যের অবহেলা এবং নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশনের ৪২৩টি সুপারিশের অমিলের ফলে নারীদের দৈনন্দিন জীবনে প্রতিশ্রুতি ও বাস্তবতার ফাঁক আরও গভীর হয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন পেশা ও পটভূমি থেকে ২০ জন নারী একত্রিত হয়ে তাদের চাহিদা একত্রিত করেছেন। তারা নিরাপদ পরিবেশ, দ্রুত ন্যায়বিচার, স্থিতিশীল জীবিকা, সুলভ স্বাস্থ্যসেবা এবং সমান নাগরিক অধিকারকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। এই চাহিদাগুলো নতুন নয়, তবে বর্তমান পরিস্থিতি তাদের বাস্তবায়নকে ত্বরান্বিত করার দাবি বাড়িয়ে তুলেছে।
শ্রম অধিকার কর্মী তাসলিমা আখতার, যিনি বাংলাদেশ গার্মেন্ট শ্রমিক সমিতির সভাপতি, নারী অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন ও নিরাপত্তাকে রাজনৈতিক এজেন্ডার কেন্দ্রে রাখতে জোর দিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, গার্মেন্ট এবং অন্যান্য শিল্পে কাজ করা নারীরা এখনও বেতন বৈষম্যের শিকার, ফলে সমান বেতন ও মর্যাদাপূর্ণ মজুরির দাবি করা হচ্ছে। এছাড়া গৃহকর্ম ও শিশুর যত্নের দায়িত্বের কারণে অনেক নারী দক্ষতা উন্নয়ন ও ক্যারিয়ার অগ্রগতিতে বাধা পাচ্ছেন। তাসলিমা এই সমস্যার সমাধানে কারখানা ও সম্প্রদায়ভিত্তিক ডে-কেয়ার সেন্টার স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন, যাতে কাজের পরিবেশ নিরাপদ ও সহায়ক হয়।
সম্প্রতি একটি শ্রম সংক্রান্ত আদেশ জারি করা হয়েছে, তবে তাসলিমা জোর দিয়ে বলেন, তার কার্যকর বাস্তবায়নই মূল বিষয়। তিনি উল্লেখ করেন, সংসদ গঠনের পরেই এই আদেশটি পূর্ণ আইনি শক্তি পাবে।
নির্বাচনের কাছাকাছি আসার সঙ্গে সঙ্গে কর্মীরা নারী অংশগ্রহণকে কেবল ভোট দেওয়ার সীমা ছাড়িয়ে যেতে হবে বলে আহ্বান জানিয়েছেন। জুলাই আন্দোলনের ফ্রন্টলাইন কর্মী শিমা আখতার, যিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, উল্লেখ করেন, ভোটের দিনই নয়, রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার সব স্তরে নারীর সক্রিয় ভূমিকা দরকার। তিনি বলেন, নারীর কণ্ঠস্বর নীতি নির্ধারণ, পর্যবেক্ষণ ও দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে অপরিহার্য।
এই সমষ্টিগত দাবি দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটকে নতুন মোড় দিতে পারে। যদি সরকার নির্বাচনের পর নারীর নিরাপত্তা, সমান বেতন, স্বাস্থ্যসেবা এবং ন্যায়বিচারের জন্য বাস্তব পদক্ষেপ গ্রহণ করে, তবে তা ভোটারদের আস্থা বাড়াবে এবং নারীর অধিকার সংরক্ষণে দীর্ঘমেয়াদী পরিবর্তন আনতে পারে। অন্যদিকে, যদি প্রতিশ্রুতি মাত্রই থাকে, তবে নারীর অসন্তোষ বাড়বে এবং সিভিক আন্দোলনের তীব্রতা বৃদ্ধি পাবে।
সামগ্রিকভাবে, নারী আন্দোলন এখন দেশের শীর্ষ রাজনৈতিক আলোচনার অংশ হয়ে উঠেছে এবং নির্বাচনের ফলাফলই তাদের চাহিদার বাস্তবায়নের দিক নির্ধারণ করবে।



