23 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeব্যবসাবেসরকারি খাতে নিরাপত্তা, ঋণ ও রপ্তানি সংকটে বিনিয়োগের অবনতি

বেসরকারি খাতে নিরাপত্তা, ঋণ ও রপ্তানি সংকটে বিনিয়োগের অবনতি

বেসরকারি খাতের ব্যবসায়ীরা বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা অবনতির ফলে নিরাপত্তাহীনতা, মামলা‑হামলা এবং জ্বালানি ঘাটতির সম্মুখীন। উচ্চ সুদের হার এবং কঠোর ঋণ নীতি ব্যবসার খরচকে বেড়ে তুলেছে, ফলে নতুন বিনিয়োগের ইচ্ছা কমে গেছে।

বৈধ ব্যবসার পরিবেশে অবনতি, জ্বালানি সংকট এবং সুদের হার বৃদ্ধির পাশাপাশি মিডিয়া ট্রায়াল ও হয়রানি আস্থার সংকট সৃষ্টি করেছে। এই পরিস্থিতি পারস্পরিক বিশ্বাসকে ক্ষুণ্ন করে, যা কোনো ব্যবসার মূলধন হিসেবে অপরিহার্য।

বিনিয়োগের অনিশ্চয়তা নতুন প্রকল্পে অগ্রসর হতে বাধা দেয়, আর পুরোনো বিনিয়োগগুলোও হুমকির মুখে। ফলস্বরূপ, বহু কারখানা বন্ধ হচ্ছে এবং হাজার হাজার শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত আগস্টে আমদানি দায় নিষ্পত্তি ৪.৮৮ বিলিয়ন ডলারে সীমাবদ্ধ, যা একই মাসে গত বছরের তুলনায় ১১ শতাংশ কম। এই হ্রাস অর্থনৈতিক চাপের সূচক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

অন্তর্বর্তী সরকার প্রশাসনিক সংস্কারের উদ্যোগ নিলেও বিনিয়োগ পরিবেশে উল্লেখযোগ্য ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যায়নি। কাঠামোগত সমস্যার সমাধান না হওয়ায় ব্যবসায়িক আস্থা পুনরুদ্ধার কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি) তাদের এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুকে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ৫ শতাংশে সামান্য কমিয়ে দিয়েছে। এডিবি সতর্ক করেছে, নতুন মার্কিন শুল্ক, ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং ব্যাংক খাতের দুর্বলতা রপ্তানি ও বিনিয়োগকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।

চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে (জুলাই‑ডিসেম্বর) ২৬টি দেশে বাংলাদেশ ব্যাংকের পোশাক রপ্তানি হ্রাস পেয়েছে। ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের বড় বাজারে নেতিবাচক প্রবণতা রপ্তানির পরিমাণকে আরও কমিয়ে দিয়েছে।

বিশেষভাবে, ২০২৫‑২৬ অর্থবছরের একই সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের তৈরি পোশাক রপ্তানি ২.৬৩ শতাংশ কমে ১,৯৩৬ কোটি ৫৪ লাখ ডলারে নেমে এসেছে, যেখানে পূর্ববর্তী বছর একই সময়ে রপ্তানি ছিল ১,৯৮৮ কোটি ৭৭ লাখ ডলার।

শাকসবজি, মাছ, হিমায়িত খাদ্য এবং অপ্রচলিত পণ্যের রপ্তানিও একই সময়ে হ্রাস পেয়েছে। দেশের অভ্যন্তরে ব্যবসার গতি ধীর হয়ে গেছে, যা মোট উৎপাদন ও বিক্রয়ে প্রভাব ফেলছে।

শীর্ষ ব্যবসায়িক নেতারা উল্লেখ করেন, ২০২৫ বছরটি টিকে থাকার লড়াই হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের পর নতুন সরকার দায়িত্ব নিলে অর্থনৈতিক অচলাবস্থা কাটিয়ে উঠার প্রত্যাশা রয়েছে।

অনেক প্রতিষ্ঠান ক্ষতি সত্ত্বেও ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে, কারণ রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, আইনশৃঙ্খলা অবনতি, জ্বালানি সংকট এবং উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি ছাড়াও বেসরকারি খাতে কাঠামোগত সমস্যার সম্মুখীন।

উচ্চ সুদের হার এবং কঠোর ঋণ নীতি বিনিয়োগ ব্যয়কে প্রায় ৩৫ শতাংশ বাড়িয়ে তুলেছে, যা ব্যবসার মোট খরচে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি ঘটিয়েছে। এই আর্থিক চাপ দীর্ঘমেয়াদে উৎপাদনশীলতা ও কর্মসংস্থানকে আরও ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
ব্যবসা প্রতিবেদক
ব্যবসা প্রতিবেদক
AI-powered ব্যবসা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments