অস্ট্রেলিয়ার সাবেক পেসার জেসন গিলেস্পি আবার পাকিস্তানের ক্রিকেটে ফিরে আসছেন। হায়দরাবাদ পিএসএল ফ্র্যাঞ্চাইজির মালিকপক্ষ বুধবার গিলেস্পিকে প্রধান কোচ হিসেবে নিশ্চিত করেছে। এ ঘোষণার পর এএসপিএনক্রিকইনফো গিলেস্পির নতুন দায়িত্বের বিস্তারিত জানিয়েছে।
গিলেস্পি ২০২৪ সালের এপ্রিল থেকে দুই বছরের চুক্তিতে পাকিস্তানের টেস্ট দলকে কোচিং দায়িত্বে নিয়েছিলেন। তবে পারফরম্যান্সের ঘাটতি এবং অভ্যন্তরীণ সমস্যার কারণে তিনি মাত্র আট মাসই দায়িত্বে টিকে ছিলেন। তার সময়কালে পিসিবি-র সঙ্গে বেশ কিছু মতবিরোধ দেখা দেয়, যার মধ্যে বকেয়া পারিশ্রমিকের দাবি এবং পাকিস্তান ক্রিকেটের পরিচালনা নিয়ে সমালোচনা অন্তর্ভুক্ত।
অতীতের তর্ক সত্ত্বেও গিলেস্পি পাকিস্তান ক্রিকেট নিয়ে নিয়মিত মন্তব্য করে আসছেন। এবার তিনি হায়দরাবাদ ফ্র্যাঞ্চাইজির কোচিং দলে যোগ দিয়ে দেশের প্রিমিয়ার লিগে নতুন ভূমিকা গ্রহণ করবেন। গিলেস্পি বলছেন, “পাকিস্তান ক্রিকেটের সম্ভাবনা বিশাল, আমি এখানে নতুন কিছু তৈরি করতে চাই।”
পিএসএল এই সিজনে ড্রাফটের বদলে নিলাম পদ্ধতি গ্রহণ করবে। প্রথম নিলাম ১১ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে, এবং হায়দরাবাদের টেবিলে গিলেস্পির নাম থাকবে। এই পরিবর্তন লিগের টিম গঠন প্রক্রিয়ায় নতুন গতিশীলতা আনবে বলে আশা করা হচ্ছে।
হায়দরাবাদ ফ্র্যাঞ্চাইজির মালিকপক্ষের প্রকাশে বলা হয়েছে, গিলেস্পি দলের কৌশলগত পরিকল্পনা ও খেলোয়াড় নির্বাচন নিয়ে কাজ করবেন। তিনি টিমের তরুণ প্রতিভা ও অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের সমন্বয় ঘটিয়ে পারফরম্যান্স উন্নত করতে চান।
পিসিবি-র সঙ্গে গিলেস্পির পূর্বের বিরোধের মূল কারণ ছিল তার ৭১টি টেস্ট, ৯৭টি ওয়ানডে এবং একটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচের জন্য বকেয়া পারিশ্রমিকের দাবি। যদিও এই বিষয়গুলো শেষ পর্যন্ত সমাধান হয়নি, গিলেস্পি এখনও পাকিস্তান ক্রিকেটের উন্নয়নে আগ্রহী।
পিএসএল-এর আরেকটি নতুন দল, ইসলামাবাদ ইউনাইটেড, লুক রনকিকে প্রধান কোচ হিসেবে নিয়োগ করেছে। রনকি নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার সাবেক ক্রিকেটার, এবং তিনি পিএসএল-এ তিনটি মৌসুম খেলেছেন। ২০১৮ সালে রনকির নেতৃত্বে ইসলামাবাদ ইউনাইটেড শিরোপা জিতেছিল।
রনকির পিএসএল ক্যারিয়ার পরিসংখ্যানও উল্লেখযোগ্য। তিনি ৩১টি ম্যাচে মোট ১,০২০ রান করেছেন, যার মধ্যে দশটি পঞ্চাশের ইনিংস রয়েছে। তার স্ট্রাইক রেট ১৬৬.১২, যা এক হাজার রানের বেশি স্কোর করা ব্যাটসম্যানদের মধ্যে সর্বোচ্চ।
হায়দরাবাদ ও ইসলামাবাদ ইউনাইটেড উভয়ই নতুন মৌসুমের আগে কোচিং স্টাফে পরিবর্তন এনেছে, যা লিগের প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশকে তীব্র করবে। উভয় দলের নতুন কোচের অভিজ্ঞতা ও কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গি ভক্তদের মধ্যে উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলেছে।
পিএসএল-এ নিলাম পদ্ধতি চালু হওয়ায় দলগুলো খেলোয়াড়ের মূল্য নির্ধারণে আরও স্বচ্ছতা পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। গিলেস্পি ও রনকির মতো অভিজ্ঞ কোচদের নেতৃত্বে দলগুলো তরুণ প্রতিভা ও অভিজ্ঞ খেলোয়াড়ের সমন্বয় ঘটিয়ে শীর্ষে পৌঁছানোর লক্ষ্য রাখবে।
গিলেস্পি উল্লেখ করেছেন, “পাকিস্তান ক্রিকেটের উত্সাহ ও প্রতিভা অনন্য, আমি এখানে সেরা পরিবেশ গড়ে তুলতে চাই।” তার এই মন্তব্য লিগের ভক্তদের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।
হায়দরাবাদ ফ্র্যাঞ্চাইজির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা অনুযায়ী, গিলেস্পি দলের প্রশিক্ষণ শিবির, ট্যাকটিক্যাল সেশন এবং ম্যাচ প্রস্তুতিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করবেন। তিনি স্থানীয় কোচিং স্টাফের সঙ্গে সমন্বয় করে দলকে আন্তর্জাতিক মানের প্রস্তুতি দিতে চান।
পিএসএল-র নতুন সিজন ২০২৪-২৫ শুরুর দিকে অনুষ্ঠিত হবে, এবং গিলেস্পি ও রনকির কোচিং দায়িত্বে থাকা দলগুলো প্রথম ম্যাচে কীভাবে পারফর্ম করবে তা ভক্তদের জন্য বড় আকর্ষণ হবে। লিগের সময়সূচি ও নিলাম ফলাফল উন্মোচিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আরও বিশদ তথ্য প্রকাশিত হবে।



